চৈত্র সংক্রান্তিতে “উড়াল” ঘুড়ি উৎসবে রঙিন হলো বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

চৈত্র সংক্রান্তিতে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে আয়োজন করা হয় ব্যতিক্রমধর্মী এক ঘুড়ি উৎসব। ‘উড়াল’ নামের এই ঘুড়ি উৎসবের আয়োজনে অংশ নেন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীরা। গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যকে নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এই উদ্যোগ বলে জানিয়েছেন আয়োজকরা।

আজ সোমবার(এপ্রিল) বিকেলে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে ‘উড়াল’ নামে এই আয়োজন করে গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে স্থাপত্য বিভাগ ২২ ব্যাচের শিক্ষার্থীরা।

চৈত্রের শেষ বিকেল… খোলা আকাশ যেন দখল নিয়েছে রঙিন ঘুড়ি। বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে নেমে আসে গ্রাম বাংলার চিরচেনা ঐতিহ্যের আবহ। বিভিন্ন বিভাগের শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণে বিশ্ববিদ্যালয়ের খেলার মাঠটি উৎসবে পরিণত হয়। আকাশজুড়ে উড়তে থাকে নানা নামের, রঙের আর আকৃতির ঘুড়ি। আর এখানেই সীমাবদ্ধ ছিলো না উৎসবটি। শুধু ঘুড়ি উড়ানো নয়, উৎসব ঘিরে বসে পিঠা-পুলি স্টল।আর পাশাপাশি শিক্ষার্থীরাই বিক্রি করে নানা নামের, রঙের আর আকৃতির ঘুড়ি।এই উৎসব কেন্দ্র বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা পার করলো অন্য রকম একটি আনন্দঘন বিকেল।

Gopalganj Photo 06

শিক্ষার্থী দূর্জয় শুভ বলেন, বিকেলে এমন একটি উৎসব উপভোগ করলাম।অন্য রকম একটি বিকেল। অনেক সময় আকাশের দিকে তাকিয়ে ঘুড়ির খেলা দেখলাম।ভাল লেগেছে।এটা প্রতি বছর আয়োজন করা হবে আশাবাদ প্রকাশ করছি।

শিক্ষার্থী ফালগুনী সূতাকি বলেন, শিক্ষাজীবনে আমাদের যে ব্যস্ততা থাকে। সবার সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না।ছোট বেলায় ঘুড়ি উড়িয়েছি। কিন্তু বড় হয়ে তো আর ঘুড়ি উড়ানো সম্ভব হয় না। তাই ঘুড়ি উড়ানো দেখে অনেক মজা পেয়েছি।

শিক্ষার্থী দেবোরিনা বাধঁন বলেন, ১৮ ব্যাচ মূলতঃ ঘুড়ি উৎসবটা শুরু করে। আর ১৮ ব্যাচের শিক্ষার্থী হিসেবে আমরা এটা শুরু করেছিলাম। এবার ২২ ব্যাচ করছে। ঘুড়ি উড়ানো মূলতঃ বাঙালির একটি উৎসব।এটা দিন দিন হারিয়ে যাচ্ছে। আমরা আবার এটা ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছি। কারণ এই উৎসবের মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সৌহার্দ তৈরী হয়। একে অপরের প্রতি সহমর্মিতার মনোভাব সৃষ্টি হয়।আমরা আশা করবো বাঙালি জাতি যতদিন থাকবে, বাঙালি কৃষ্টি কালচার ততদিন বেঁচে থাকবো। তাই আমাদের থেকে অন্যরাও বাঙালীর কৃষ্টি কালচার বাঁচিয়ে হারাতে যাওয়া উৎসবগুলো ফিরিয়ে আনতে কাজ কাজ করবে।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের ইণ্জিনিয়ারিং বিভাগের ডীন ড. মুহাম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের মধ্যে পড়াশোনার একটি চাপ থাকে। এই ঘুড়ি উড়ানোর মাধ্যমে তারা মুক্ত মনে আনন্দ উপভোগ করলো। এতে নিজেদের মধ্যে একটি মেইলবন্ধন তৈরী হলো। সাথে সাথে শিক্ষার্থীরা বাঙালীর কৃষ্টি-কালচার সম্পর্কে জানতে পারলো। এতে তাদের মধ্যে দেশত্ববোধ জাগ্রত হবে।

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের স্থাপত্য বিভাগের চেয়ারম্যান তাবহা তাবাচ্ছুম তৃষা বলেন, ঘড়ি উড়ানোর অভ্যাসটাকে মূলতঃ বাঁচিয়ে রাখতে চেয়েছি। যাতে শিক্ষার্থীদের একটা সমাবেশ হয়, একটা উসবমুখর পরিবেশ ও মেইলবন্ধন তৈরী হয়-এটা আমরা চেষ্টা করি।আর এটা আমাদের কোন না কোন ব্যাচ করে যাবে।দিন দিন এটা বড় পরিসরে উদযাপন করা হবে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

12 মন্তব্য করুন...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর