গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬ চাষে ব্যাপক সাফল্য

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -


প্রচলিত আমন ধানের চেয়ে বেশি ফলন পেয়ে গোপালগঞ্জের কৃষকদের মধ্যে বিনা ধান-২৬ চাষে আগ্রহ বাড়ছে। চলতি আমন মৌসুমে এ জাতের ধান আবাদ করে বিঘাপ্রতি সাড়ে ৩২ মণ ফলন পেয়েছেন সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত আলী। অথচ আগে প্রচলিত জাতের ধান চাষ করে একই জমিতে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ১৮ মণ ফলন পেতেন তিনি। ফলন বেশি হওয়ায় মহব্বত হোসেন এখন আমন চাষে আরও আশাবাদী হয়েছেন।

শুধু মহব্বত হোসেন নন, বিনা ধান-২৬ আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন গোপালগঞ্জের আরও ৪০০ জন কৃষক। তাঁদের মধ্যে রয়েছেন জালালাবাদ ইউনিয়নের কৃষক মো. শহীদ সর্দার ও মো. ইলিয়াসসহ অনেকে। ভালো ফলন ও লাভের সম্ভাবনা দেখে আগামী আমন মৌসুমেও এ জাতের ধান চাষ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন তাঁরা। পাশাপাশি আশপাশের অনেক কৃষকও বিনা ধান-২৬ চাষে আগ্রহ প্রকাশ করেছেন।

এই সাফল্যকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম শুকতাইল গ্রামের কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে অনুষ্ঠিত হয়েছে বিনা ধান-২৬-এর মাঠ দিবস ও ফসল কর্তন কর্মসূচি। মাঠে পাকা ধান কেটে ফলন পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি কৃষকদের সঙ্গে এ জাতের ধান চাষের অভিজ্ঞতা ও সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা করা হয়।

মাঠ দিবসে উপস্থিত ছিলেন কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইনস্টিটিউটের (বিনা) গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. হারুন অর রশীদ, এবং গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজ আক্তারসহ জালালাবাদ ইউনিয়নের অর্ধ শতাধিক কৃষক।

বিনা- গোপালগঞ্জ উপকেন্দ্রের ইনচার্জ ড. হারুন অর রশীদ জানা, চলতি বছর গোপালগঞ্জের ৪০০ জন কৃষককে বিনা ধান-২৬-এর বীজ দেওয়া হয়েছিল। সংশ্লিষ্ট কৃষকেরা এ জাতের ধান আবাদ করে ভালো ফলন পেয়েছেন। এই ধানের জীবনকাল কম ১২০ দিন, এছাড়া, জলাবদ্ধতা ও রোগবালাই সহনশীল । এর গড় ফলন হেক্টরপ্রতি ৬.৫ থেকে ৭ টন। মাঠপর্যায়ে এ সাফল্য নতুন কৃষকদের মধ্যে আগ্রহ তৈরি করছে। ফলে আগামী আমন মৌসুমে এ জাতের আবাদ আরও বাড়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর গোপালগঞ্জের উপপরিচালক ড. মামুনুর রহমান বলেন, বিনা ধান-২৬ মাঠ দিবসে ফসল কর্তন করে কৃষক মহব্বত হোসেনের জমিতে হেক্টরপ্রতি ৬.২ টন ফলন পেয়েছি, যা এ অঞ্চলে আমন চাষীদের জন্য অত্যন্ত্য আশাব্যঞ্জক। এই ধানের জাতটিতে রোগ-বালাই কম এবং জলাবদ্ধতা সহিষ্ণু। এই ধানের আবাদ বৃদ্ধি করতে পারলে কৃষক লাভবান হবেন।

কৃষক মহব্বত হোসেন জানান, আগে প্রচলিত জাতের আমন ধান চাষ করে বিঘাপ্রতি সর্বোচ্চ ১৮ মণ ফলন পেয়েছেন। কিন্তু এবার বিনা ধান-২৬ আবাদ করে পেয়েছেন সাড়ে ৩২ মণ ধান। এতে তাঁর ফলন উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে এবং তিনি আর্থিকভাবে লাভবান হচ্ছেন। বেশি ফলন পাওয়ায় আমন ধান চাষের প্রতি তাঁর আগ্রহও বেড়েছে। আগামী মৌসুমেও তিনি এ জাতের ধান আবাদ করতে চান।

কৃষকদের মতে, একই জমিতে তুলনামূলক বেশি ফলন পাওয়া গেলে উৎপাদন খরচের তুলনায় আয় বাড়ানোর সুযোগ তৈরি হয়। মহব্বত আলীর জমিতে ভালো ফলন দেখে আশপাশের কৃষকেরাও বিনা ধান-২৬ চাষের বিষয়ে আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাঁদের প্রত্যাশা, এ জাতের ধান চাষের মাধ্যমে আমন মৌসুমে উৎপাদন বাড়ানোর পাশাপাশি কৃষিকাজে লাভের সম্ভাবনাও বাড়বে।

গোপালগঞ্জের সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাফরোজা আক্তার জানান, মাঠপর্যায়ে প্রদর্শনী ও ফসল কর্তন কর্মসূচির মাধ্যমে নতুন জাতের ধানের ফলন সম্পর্কে কৃষকদের সরাসরি ধারণা দেওয়া সম্ভব হয়েছে। এতে কৃষকেরা নিজেদের জমি ও চাষের পরিবেশ অনুযায়ী উপযোগী জাত বেছে নেওয়ার সুযোগ পাচ্ছেন।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, গোপালগঞ্জে বিনা ধান-২৬-এর এই সাফল্য স্থানীয় কৃষিতে নতুন সম্ভাবনা তৈরি করেছে। কৃষকদের আগ্রহ অব্যাহত থাকলে আগামী আমন মৌসুমে এ জাতের আবাদ সম্প্রসারিত হতে পারে, যা জেলার ধান উৎপাদন ও কৃষকের আয় বৃদ্ধিতে ভূমিকা রাখার সুযোগ তৈরি করবে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর