সুযর্মুখীর হাসি আর কৃষকের হাসিতে একাকার

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

স্টাফ রিপোর্টার।।

আগে এটিকে অনেকে দেখতে সুন্দর একটি ফুল হিসাবে জেনে আসছিল। সূর্য্মূখী ফুল সে সূর্য়ের মতো দেখতে, সূর্য়ের দিকে মুখ রেখে সব সময় হেঁসে চলেছে-এই তাই হয়তো এর নাম রেখেছে সূর্য্মূখী ফুল। কিন্তু, এটি যে একটি তেল বীজ জাতীয় ফসল এবং এ থেকে উৎপাদিত তেল স্বাস্থ্যের জন্য উপকারী তা এ অঞ্চলের মানুষ আগে না জানলেও ইদানিং কালে জানতে পারছে এবং এই জাতীয় তেল বীজ জাতীয় ফসলের ব্যপক উৎপাদনের লক্ষ্যে গোপালগঞ্জ কৃষি বিভাগ কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করতে শুরু করেছেন।

আর তাইতো সরকারীভাবে বীজ, সারসহ আনুসংগিক সব পরামর্শ দিয়ে এই সূর্য্মূখী চাষে কৃষকদের উদ্বুদ্ধ করে যাচ্ছেন। এবছর তাইতো জেলায় ৫৮ হেক্টর জমিতে এবার এই তেল জাকীয় ফসলের চাষ হয়েছে। আবহাওয়া অনুকুলে থাকায় সূর্য্মুখী ফুলের ফলন ভোল হওয়ায় সূর্য্মুখী যেমন সূর্যের দিকে তাকিয়ে হাঁসছে, তেমনি ফলন ভাল হওয়ায় কৃষকের মুখেও দেখা দিয়েছে হাসি।

লাভজনক হওয়ার পাশাপশি বিনামূল্যে বীজ-সার পাওয়ায় সূর্য্মূখী ফুলের চাষে ঝুঁকছেন গোপালগঞ্জের কৃষকেরা। এ ফুল চাষে সফলতা আসায় প্রতি বছর কৃষক ও বেকার যুবকদের আগ্রহ বাড়ছে। সেই সাথে এ ফুলের সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রকৃতি প্রেমীরা ছুটছেন সূর্য্মূখী ফুলের ক্ষেতে। এ ফুলের চাষ বাড়াতে প্রশিক্ষণসহ নানা সহযোগীতা করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে কৃষি বিভাগ।

কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় গোপালগঞ্জের বিভিন্ন উপজেলায় সূর্য্মূখী ফুলের চাষ করছেন কৃষকরা। কৃষি বিভাগ বিনামুল্যে বীজ, সার ও পরামর্শ প্রদান করায় দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে এ ফুল চাষে।

এ বছর জেলায় ৬০ হেক্টর জমিতে সূর্য্মূখী ফুলের আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হলেও অর্জিত হয়েছে ৫৮ হেক্টর জমিতে। প্রতি বিঘা জমিতে সূর্যমুখী ফুল থেকে ৮ থেকে ১০ মন তৈলবীজ উৎপাদন হয়। পরে সেই বীজ থেকে উৎপাদন করা হচ্ছে ভোজ্য তেল। অন্যান্য তেল থেকে এ তেলে পুষ্টিগুন বেশি থাকায় বাজারে রয়েছে ব্যাপক চাহিদ। প্রতি কেজি তেল দু’শ থেকে আড়াইশ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ আয় থেকে সংসার চালানোর পাশাপাশি অনেক কৃষক তাদের সারা বছরের খাবার তেল সংগ্রহ করে রাখছেন।

স্বল্প খরচে অধিক লাভ হওয়ার পাশাপশি চাহিদা ও বাজার মূল্য থাকায় অনেক কৃষকের সাথে সাথে বেকার যুবকদের মধ্যে সূর্য্মূখী ফুল চাষে আগ্রহ বেড়েছে উল্লেখ করে টুঙ্গিপাড়ার নিলফা গ্রামের জুয়েল শেখ, রহিম শেখ ও রহমত আলি জানান, আমাদের শুধু জমিই। বীজ, সার সব কৃষি অফিস থেকে বিনা পয়সা দেয়া হয়েছে। তারা শুধু তাদের জমিতে চাষাবাদ করেছেন। ফলন ভালো হওয়ায় তারা যেমন খুশি, আবার অনেকেই এমন ভাল ফলন দেখে আগামীতে তাদের নিজেদের জমিতে চাষাবাদের আগ্রহ দেখিয়েছেন।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দু কুমার রায় বলেন, লাভজনক এ ফুল চাষে কৃষক ও বেকার যুবকদের মধ্যে আগ্রহ সৃষ্টি করতে আমরা ১হাজার ৫শ” কৃষককে দেড় হাজার বিঘা জমিতে চাষাবাদের জন্য বিনা মূল্যে বীজ ও সার দেয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।টুঙ্গিপাড়ার বর্নি এলাকায় গেলে দেখা যাবে মাটের পর মাঠ সূর্যমুখি ফুটে রয়েছে।এই ফুলের তেল শরীরের জন্য খুব উপকারী। এই তেল জাতীয় শষ্যের যদি আবাদ বাড়ানো যায় তা’হলে আমাদের তেল আমদানী কম করতে হবে। এদে দেশ অনকে উপকৃত হবে বলে তিনি মন্তব্য করনে।

শুধু লাভ বা খাবার তেলের যোগানই নয়, সূর্য্মূখী ফুলের হলুদ আভারন আকৃষ্ট করে তোলে সৌন্দর্য প্রেমীদের। প্রতিদিনই সৌন্দর্য উপভোগ করতে ক্ষেত গুলোতে ভীড় করছেন সৌন্দর্য প্রেমীরা। সারা জেলায় সূর্যমুখী ফুলের চাষ ছড়িয়ে পড়লে অন্যান্য ভোজ্য তেলের উপর চাপ কমবে বলে মনে করছে কৃষি বিভাগ।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর