Home গোপালগঞ্জ সংবাদ স্মৃতি চারনঃ “ কৈশোরে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি আমি দু-বার”

স্মৃতি চারনঃ “ কৈশোরে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি আমি দু-বার”

০
স্মৃতি চারনঃ “ কৈশোরে বঙ্গবন্ধুকে দেখেছি আমি দু-বার”

রবীন্দ্রনাথ অধিকারী||

স্বাধীনতার স্থপতি জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে আমার কৈশোরে কাছাকাছি থেকে দেখেছি দুইবার। প্রথম বার দেখি ১৯৬৭ সালে আমি যখন সপ্তম শ্রেণীর ছাত্র। দ্বিতীয় বার আমি তাকে দেখি যখন এস.এস.সি পরীক্ষার টেস্ট পরীক্ষা দেই ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে। আমি তাকে প্রথমবার দেখি, যখন বঙ্গবন্ধু ৬ দফা পেশ করেন। ছয় দফার সমর্থনে  জনমত সংগ্রহের জন্য সারা দেশে তিনি সভা-সমাবেশ করে বেড়াচ্ছিলেন তখন।

১৯৬৭ সালের মাঝামাঝি সময়ে তিনি কোটালীপাড়া থানার রাধাগঞ্জ বাজারে একটি সভা করতে আসেন। তিনি সে সভার প্রচার কাজ করেছেন নিজেই ওই এলাকার রাস্তায় রাস্তায় টিনের চোঙ্গা ফুইয়ে। সভায় তিনি প্রধান বক্তা আবার তিনিই প্রচারক। দুপুরে দিকেই সভায় প্রচুর লোক হয়েছিল। সভাটি অনুষ্ঠিত হয় বাজারের কাপড় পট্টির বিশাল চান্দিনা বা চালা ঘরের নীচে।  আওয়ামী লীগের নেতা বঙ্গবন্ধুর ভক্ত চিত্তরঞ্জন গাইন ছিলেন সভার সভাপতি।

আমি চালা ঘরের আড়ায় উঠে বঙ্গবন্ধুর বক্তৃতা শুনেছিলাম। আজও সেই স্মৃতি মনের গভীরে দাগ কাটে। আমি বঙ্গবন্ধুর ভক্ত হয়ে যাই। তখন তার তেজদীপ্ত ও আকর্ষনীয় বক্তব্য শুনে।

দ্বিতীয় বার তাকে দেখার ও বক্তব্য শুনার সৌভাগ্য হয় একটি নির্বাচনী সভায়। ১৯৭০ সালের নভেম্বর মাসের শেষের দিকে। সভাটি হয়েছিল কোটালীপাড়া তার পিতার নামে প্রতিষ্ঠিত  শেখ লৎফর রহমান কলেজ মাঠে। আমি তখন এস.এস.সি পরীক্ষা দেওয়ার জন্য টেস্ট পরীক্ষা সম্পন্ন করেছি মাত্র। আমার সহপাঠী ও অন্যান্য বন্ধুদের নিয়ে আমি আমাদের ছান্দি নৌকা করে ওই সভা দেখতে দীর্ঘ দশ মাইল পথ পাড়ি দিয়ে কলাবাড়ী থেকে কোটালীপাড়ায়  এসেছিলাম। বিকেলের দিকে বঙ্গবন্ধু যখন স্পীডবোট করে গোপালগঞ্জ থেকে কোটালীপাড়া জনসমাবেশ স্থলে উপস্থিত হন।  তখন বাঁধ ভাঙ্গা জনস্রোতের উত্তাল শ্লোগানে আর “জয় বাংলা”ধ্বনিতে  আকাশ বাতাস প্রকম্পিত হয়ে ওঠে।  তিনি ধীরে ধীরে  মঞ্চে উঠলেন হাত নেড়ে জনগণকে স্বাগত জানালেন।  সভায় সভাপতিত্ব করেন আওয়ামী লীগ নেতা সতীশ চন্দ্র হালদার।

ভাষন  শুরু করার সময় যখন বঙ্গবন্ধু  “আমার কোটালীপাড়া বাসী” বলে জনতাকে সম্মোধন করলেন তখন জনতার মাঝে অসীম এক উত্তেজনা। তিনি বলেন, আমি ৫৪ সালে যুক্তফ্রন্ট নির্বাচনে কোটালীপাড়া থেকে নির্বাচন করেছিলাম। আমাকে আপনারা নির্বাচিত করেছিলেন বিপুল ভোটে।  এবার (৭০ সালে) আমি কেন প্রার্থী হলাম না অনেকে প্রশ্ন  করেছেন।  আমি বলছি এটা ওদের আসন। এখানে হিন্দু মেজরিটি।  আমি সতীশ হালদারকে এ আসনে এম.পি.এ পদে প্রার্থী করেছি। এ আসনে (কোটালীপাড়া-গোপালগঞ্জ) জেলার আওয়ামী লীগ নেতা আমার বন্ধু মোল্লা জালাল উদ্দিন এম.এন. এ প্রার্থী। আপনারা ভোট দেবেন নৌকা মার্কায়। প্রার্থী কে সেটা দেখার বিষয় নয়, বিষয় হচ্ছে বঙ্গবন্ধুর স্বাধিকার প্রতিষ্ঠায় আপনারা আমার প্রার্থীকে নৌকা প্রতীকে ভোট দেবেন।  আমি বাঙ্গালিদের স্বায়ত্ব শাসন দিতে চাই। মানুষের মত মানুষ হিসেবে বাঁচার অধিকার দিতে চাই।

তিনি তার বক্তৃতায় এক পর্যায়ে বলেন, অধ্যক্ষ বীরেন্দ্রনাথ বিশ্বাস এ আসনে (কোটালীপাড়া-গোপালগঞ্জ) মোমবাতি মার্কায় গণমুক্তি দল থেকে এম.এন.এ প্রার্থী হয়েছেন। আমি তাকে বলেছিলাম বীরেনন্দ্রনাথ প্রার্থী হবার দরকার নাই, আমার সঙ্গে থাকো। বাংলাকে আমরা জয় দিতে চাই। বাঙালিকে ফিরিয়ে দিতে চাই অধিকার। বীরেন আমার কথা শুনলো না। এজন্য দুঃখ প্রকাশ করছি। আমি  দীর্ঘ এক ঘন্টা ধরে বক্তৃতা শুনি। মোহিত হয়ে যাই তার ভরাট কন্ঠে উদাত্ত ভাষন শুনে।

আজ আমার কাছে তা স্মৃতি। সভা শেষ হতে সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। আমরা আবার নৌকা বাইচ দিয়ে ফিরে আসি আমাদের কলাবাড়ীতে । তখন রাত ৮ বেজে ১০ মিনিট।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here