জ্ঞানের ফেরিওয়ালা সুনীল: বই পৌঁছে দেন পাঠকের দোর গোড়ায়

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

আর দশটা পাঠাগারের মতো নয় এটি। নেই কোনো চেয়ার-টেবিল, নেই পাঠকের ভিড় কিংবা নির্দিষ্ট পাঠকক্ষ। তবুও প্রতিদিন বইয়ের গন্ধে, পাঠকের ভালোবাসায় প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার কুমরিয়া গ্রামের ‘চন্দ্রিকা জ্ঞান পাঠাগার।’ এই পাঠাগারের সবচেয়ে বড় বৈশিষ্ট্য হলো, পাঠকদের বই নিতে আসতে হয় না; বরং বই-ই পৌঁছে যায় পাঠকের ঘরে ঘরে।

সত্তরোর্ধ্ব অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সুনীল কুমার গাঙ্গুলী নিজেই বইয়ের তালিকা হাতে নিয়ে পাঠকের দ্বারে দ্বারে যান। কেউ যে বইটি পড়তে চান, পরদিন সেই বই পৌঁছে দেন তার হাতে। আবার পড়া শেষ হলে নিজেই গিয়ে বই ফিরিয়ে আনেন। বিনিময়ে কোনো নির্ধারিত অর্থ নেন না তিনি। কেউ স্বেচ্ছায় পাঁচ-দশ টাকা দিলে সেই অর্থ জমিয়ে নতুন বই কেনেন।

স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন পরিচিত ‘জ্ঞানের ফেরিওয়ালা’ নামে।পাঠাগারটির নিয়মিত পাঠকসহ এলাকাবাসীর মুখে মুখে ঘুরছে তার এই ব্যতিক্রমী উদ্যোগের গল্প।

সুনীল কুমার গাঙ্গুলী জানান, ছাত্রজীবন থেকেই বই পড়ার প্রবল আগ্রহ ছিল তার। কিন্তু আর্থিক সংকটের কারণে তখন বই কিনে পড়ার সুযোগ পাননি। সেই কষ্ট থেকেই একদিন নিজের একটি পাঠাগার গড়ে তোলার স্বপ্ন দেখেছিলেন তিনি। শিক্ষকতা জীবনে সুযোগ না হলেও অবসরের পর সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে নেমে পড়েন।

উচ্চ মাধ্যমিক পাসের পর তিনি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে কর্মজীবন শুরু করেন। উপজেলা সদর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘ ২৫ বছর শিক্ষকতা করেছেন। ২০১৪ সালে অবসরে যাওয়ার পর নিজের বাড়ির পাশে একক উদ্যোগে প্রতিষ্ঠা করেন ‘চন্দ্রিকা জ্ঞান পাঠাগার’। পেনশনের টাকায় একের পর এক বই কিনে গড়ে তুলেছেন এই সংগ্রহশালা।

বর্তমানে পাঠাগারটিতে রয়েছে ছয় শতাধিক বই। তবে এতেও তৃপ্ত নন তিনি। আরও বই সংগ্রহ করে পাঠাগার সমৃদ্ধ করার ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে তা সম্ভব হচ্ছে না বলে আক্ষেপ তার। পর্যাপ্ত আসবাবপত্রের অভাবে অনেক মূল্যবান বই নষ্ট হওয়ার ঝুঁকিতেও রয়েছে। তবুও প্রতিদিন নিজের সন্তানের মতো যত্নে বইগুলো পরিষ্কার করে আগলে রাখেন তিনি।

পাঠাগারের নাম পুত্রবধূর নামে রাখার কারণ জানতে চাইলে সুনীল কুমার গাঙ্গুলী বলেন, “আমার পুত্রবধূ আমাকে মায়ের মতো সেবা-যত্ন করে। আমি চাই, আমার মৃত্যুর পরও পরিবার যেন এই পাঠাগারকে আগলে রাখে। সেই চিন্তা থেকেই তার নামে পাঠাগারের নামকরণ করেছি।”

স্থানীয় সাংবাদিক ও বীণাপাণি গ্রন্থাগারের প্রতিষ্ঠাতা প্রশান্ত অধিকারী বলেন, “বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র যেমন গাড়িতে করে বই পৌঁছে দেয়, তেমনি কোটালীপাড়ায় সুনীল কুমার গাঙ্গুলী নিজেই হয়ে উঠেছেন এক ভ্রাম্যমাণ লাইব্রেরি। বয়সের ভার নিয়েও তিনি হাসিমুখে পাঠকের কাছে বই পৌঁছে দিচ্ছেন।”

যতিও এই জ্ঞানের ফেরিয়ালা এখন বয়সের ভারে ন্যুজ্জ।আগের মতো দূরে দূরে মানুষের দোর গোড়ায় বই পৌছে দিতে পারছেন না। তবে কাছে পিঠে কারো বইয়ের প্রয়োজনে এখনো তিনি পৌঁছে দেন বই। আবার পড়া শেষে তা নিয়ে আসেন কষ্ট করে। জীবনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে সুনীল কুমার গাঙ্গুলীর একটাই স্বপ্ন, বইয়ের আলো ছড়িয়ে যাক নতুন প্রজন্মের মাঝে। মৃত্যুর পরও পাঠাগার আর পাঠকের হৃদয়ে বেঁচে থাকতে চান এই ‘জ্ঞানের ফেরিওয়ালা’।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর