Home গোপালগঞ্জ সংবাদ জমি বিরোধে টুঙ্গিপাড়ায় হাতুড়ি পেটায় নারী নিহত, ছেলে আহত

জমি বিরোধে টুঙ্গিপাড়ায় হাতুড়ি পেটায় নারী নিহত, ছেলে আহত

জমি বিরোধে টুঙ্গিপাড়ায় হাতুড়ি পেটায় নারী নিহত, ছেলে আহত

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলায় জমিজমা–সংক্রান্ত বিরোধের জেরে হাতুড়িপেটায় নাহিদা বেগম (৫০) নামের এক নারী নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় তাঁর ছেলে মহিবুল্লাহ ওস্তা (২২) আহত হয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে উপজেলার পাটগাতী মধ্যপাড়া গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।

নিহত নাহিদা বেগম ওই গ্রামের শরিফুল ওস্তার স্ত্রী। আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা টুঙ্গিপাড়া সরকারি কলেজের স্নাতক দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী।

গোপালগঞ্জ পুলিশ সুপার কার্যালয়ের মুখপাত্র অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) মুহাম্মদ সরোয়ার হোসেন এবং গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের জরুরি বিভাগের কর্তব্যরত চিকিৎসক মনজুরুল কবীর ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

নিহতের পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, প্রতিবেশী কাদের ওস্তার সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরে জমিজমা নিয়ে বিরোধ চলছিল। ছয় মাস আগে উচ্চ আদালত শরিফুল ওস্তার পক্ষে রায় দেন এবং প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে স্থায়ী নিষেধাজ্ঞার আদেশ দেন। তবে অভিযোগ রয়েছে, প্রতিপক্ষ প্রভাব খাটিয়ে জমি দখলে রাখে।

আজ সকালে ওই জমিতে বেড়া দেওয়ার কথা ছিল শরিফুল ওস্তার পরিবারের। এ খবর পেয়ে কাদের ওস্তা তাঁর পাঁচ ছেলে—আব্দুল আলি, রাজু, ইয়াসিন, মিজান ও মানিকসহ কয়েকজনকে নিয়ে হাতুড়ি, রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে হামলা চালান বলে অভিযোগ করেন নিহতের দেবরের ছেলে মোহাম্মদ আরমান ওস্তা (২৮)।

মোহাম্মদ আরমান ওস্তা  বলেন, আজ রাতে  কাদের ওস্তার ছেলের লোকজন নিয়ে মহিবুল্লাহর ঘরের দরজা ভেঙে ঘরে প্রবেশ করে হামলা করে।

হামলার সময় মহিবুল্লাহ ওস্তাকে মারধর করা হলে তাঁকে বাঁচাতে এগিয়ে আসেন তাঁর মা নাহিদা বেগম। এ সময় হামলাকারীরা তাঁকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে গুরুতর আহত করে।

স্থানীয়রা উদ্ধার করে গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন। আহত মহিবুল্লাহকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

আহত মহিবুল্লাহ ওস্তা বলেন, দীর্ঘদিন ধরে কাদের ওস্তা আমাদের জমি দখল করে রেখেছে। বাবা মামলা করতে করতে এক বছর আগে মারা যান। ছয় মাস আগে আদালত আমাদের পক্ষে রায় দেন। গতকাল টুঙ্গিপাড়া প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করায় তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আজ আমার মাকে হত্যা করেছে। আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যেই মারধর করা হয়েছে।

গোপালগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালের চিকিৎসক মনজুরুল কবীর বলেন, রাত পৌনে ১০টার দিকে নাহিদা বেগমকে হাসপাতালে আনা হয়। হাসপাতালে আনার আগেই তাঁর মৃত্যু হয়েছে। মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here