গোপালগঞ্জে শাপলা বিক্রি করে জীবন চলে হাজারও দরিদ্র মানুষের

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

মোহনা রিপোর্ট।।

সময়টা এখন বর্ষাকাল। বর্ষায় গোপালগঞ্জের নদ-নদী, খাল-বিল জলে টুই টুম্বর হয়ে যায়। নতুন জলে বিলে বিলে শোভা পায় সবুজ ও সাদা রংয়ের শাপলা। শাপলা শুধু জাতীয় ফুল নয়। শাপলা এ অঞ্চলের মানুষের কাছে সবজি হিসেবেও সমধিক জনপ্রিয়। আর এ শাপলা তুলে বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহের কাজ করছেন গোপালগঞ্জ জেলার শতাধিক বিলে কয়েক হাজার দরিদ্র মানুষ।

গোপালগঞ্জ জেলার কাশিয়ানী-মুকসুদপুরের সিংগার বিল, চান্দারবিল এবং কোটালীপাড়া-টুঙ্গিপাড়ার জোয়ারিয়ার বিল, কান্দির বিলসহ শতাধিক বিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয় শাপলা। বর্ষায় এসব বিল পানিতে তলিয়ে থাকে। জম্মে থাকে প্রচুর শাপলা । বর্ষা মৌসুমে কৃষকের তেমন কাজও থাকে না। তাই বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ এ শাপলা তোলার পেশায় জড়িত। এ পেশায় কোন পুজির প্রয়োজন না হওয়ায় বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ বিল থেকে শাপলা তুলে জীবিকা নির্বাহ করছেন।

শাপলা তোলার কাজে নিয়োজিতরা বলেন, ভোরে নৌকা নিয়ে বিলে যেয়ে আমরা ঘুরে ঘুরে শাপলা তুলি। প্রতিদিন একশ থেকে চারশত আটি (১০পিচ শাপলায় এক মোঠা। ১০ মোঠায় এক আটি বা ১০০ পিচ) শাপলা তুলি। দুপুরে পাইকাররা আসে। তাদের কাছে বিক্রি করে তিনশ’ থেকে চারশ’ টাকা পাই। পাইকাররা আবার এসব শাপলা সংগ্রহ করে জেলা সদরসহ আশপাশের জেলার হাটবাজারে নিয়ে বিক্রি করে থাকেন।
আর এই শাপলাকে কেন্দ্র করে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার গান্ধিয়াশুর, সাতপাড় ও কাশিয়ানি উপজেলার সিংগা, হাতিয়ারা, কোটালীপাড়ার রামনগর, কালিগঞ্জ, ভঙ্গারহাটসহ বিভিন্ন স্থানে শাপলা বিক্রির বাজার গড়ে উঠেছে।

গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা গ্রামের শাপলা সংগ্রহকারী বৌদ্ধনাথ বিশ্বাস বলেন, বর্ষার সময় আমাদের বিলে বেশ শাপলা জন্মে। এই সময় আমাদের এলাকায় কোন ফসল হয়না। তাই আমি প্রতিদিন ভোর থেকে সকাল ১০টা পর্যন্ত সিংগার বিলে শাপলা সংগ্রহ করি। তাতে আমার ২৫০ থেকে ৩০০ টাকা আয় রোজগার হয়। এভাবেই আমাদের এলাকার অনেকে উপার্জন করে সংসার চালায়।

একই গ্রামের নসিমন চালক মনিশংকর মন্ডল, বিকাশ বিশ্বাস বলেন, সিংগা ব্রিজ থেকে প্রতিদিন দুই তিন নসিমন শাপলা আমরা বাগেরহাটের মোল্লাহাট, নড়াইল জেলার নড়াগাতী বাজারে নিয়ে যাই। এসব এলাকার ব্যবসায়ীরা এখানে এসে শাপলা কিনে নিয়ে আবার ওখানে বিক্রি করে। প্রতিদিন আমাদের হাজার টাকা রোজগার হয়। এভাবে প্রায় চার মাস চলবে এই শাপলার ট্রিপ।
শাপলার পাইকার ব্যবসায়ী শরিফুল ইসলাম, আনিস মোল্লা, মনোজ মল্লিক বলেন, আমারা সাতপাড়, সিংগা ও হাতিয়াড়া থেকে এলাকার মানুষদের কাছ থেকে শাপলা কিনে গোপালগঞ্জ জেলা শহরসহ বিভিন্ন হাট-বাজারে পাইকারী দরে বিক্রি করি। এতে যা হয়, তাতে ভালোই হয়। ঘুরে না বেড়িয়ে কাজ করে খাওয়া ভালো। এতে শাপলা সংগ্রহকারীদেরও উপকার হলো আর আমাদের ও কিছু হলো। করোনার সময় তাই এবছর একটু লাভ কম হচ্ছে। তবে মানুষের খাদ্য হিসেবে এই শাপলা বেশ চাহিদা রয়েছে।

এব্যাপারে জেলা কৃষি সম্প্রসারন অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক অরবিন্দ কুমার রায় বলেন, শাপলা এই অঞ্চলের খুবই জনপ্রীয় একটি প্রাকৃতিক সবজি। সুদুর অতিত থেকে এই শাপলা এই এলাকার মানুষ সবজি হিসেবে খেয়ে আসছে। পুষ্টি গুনে সমৃদ্ধ শাপলায় রয়েছে আয়োডিন ও আয়রন এবং সাথে রয়েছে পানি। এছাড়া শাপলা বিক্রি করে দৈনন্দিন আয় করে জীবিকা নির্বাহ করছে অনেক দরিদ্র মানুষ। গোপালগঞ্জের বিলে প্রাকৃতিকভাবে জন্ম নেয়া শাপলা জেলার চাহিদা মিটিয়ে অন্যান্য জেলায়ও যেয়ে থাকে। আবার অনেকে শাপলার ব্যবসা করে ভালোই আছে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর