নিষেধ সত্তেও ঠাকুর বাড়িতে লাখো ভক্ত

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

স্টাফ রিপোর্টার।।

করোনা মহামারীর কারনে গত বছরের ন্যায় এ বছরও গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দির ঠাকুরবাড়ীতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ বারুণী স্নানোৎসব বন্ধ করার ঘোষনা দিয়েছিল স্থানীয় প্রশাসন। কিন্তু, নিষেধ সত্তেও ঠাকুর বাড়িতে আজ লক্ষাধিক মতুয়া ভক্ত হাজির হয়েছেন। যোগ দিয়েছেন স্নান উৎসবে ও পূঁজা অর্চনায়।

গত ২৭ মার্চ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ওড়াকান্দির ঠাকুর বাড়ী ঘুরে যাবার পর থেকে স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হওয়ার আশায় ছিলেন মতুয়া ভক্তরা।

স্থানীয় প্রশাসন ও ঠাকুর বাড়ির পক্ষ থেকে স্নান উৎসব বন্ধের নানা ধরনের চেষ্টার পরও লক্ষাধিক মঁতুয়া ভক্ত আজ শুক্রবার সূর‌্য ওঠার আগেই হাজির হয় ঠাকুর বাড়িতে। সেখানে তারা কামনা ও বাসনা সাগরে(বড় ধরনের পুকুর) স্নান করে তাদের বিগত দিনের পাপ মোচন ও আগামী দিন যাতে ভাল যায়, পরিবারে সুখ-সমৃদ্ধি বয়ে আসে, যেজন্য তারা আর্শিবাদ কামনা করেন।

যদিও এবছর সবার ধারনা ছিল একদিকে গত বছর এই দিনটি তারা কড়াকড়ি আরোপের কারনে পালন করতে পারেনি।এবার হয়তো পারবে। প্রতি বছরই ১০/১৫ লাখ মতুয়া ভক্তের সমাগম ঘটে থাকে এই ঠাকুর বাড়িতে।কিন্তু.এ বছর করোনা মহামারির কারনে ঠাকুর বাড়ির পক্ষ থেকে এবং স্থানীয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে স্নান উৎসব ও তিন দিন ব্যাপী মেলা বন্ধের নির্দেশনা দেয়া হয় কিন্তু, তার পরও লক্ষাধিক মতুঁয়া ভক্ত এসব নির্দেশনা উপেক্ষা করে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে স্নান উৎসবে যোগ দেন। তারা পূঁজা অর্চনা করেন।

শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুর ১২১৮ বঙ্গাব্দে ইংরেজী ১৮১১ খ্রিষ্টাব্দের ১১ই মার্চ কাশিয়ানী উপজেলা সাফলীডাঙ্গা গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। হরিচাঁদ ঠাকুরের বাল্য নাম ছিল হরি ঠাকুর। কিন্তু ভক্তরা তাকে হরিচাঁদ নামেই ডাকতেন। পিতা যশোবন্ত ঠাকুরের পাঁচ ছেলের মধ্যে তিনি ছিলেন দ্বিতীয়। পরে পার্শ্ববর্তী ওড়াকান্দি গ্রামে বসতি গড়েন হরিচাঁদ ঠাকুর। সেখানে হরিচাঁদ ঠাকুরের অলৌকিকত্ব ও লীলার জন্য প্রসিদ্ধ হয়ে ওঠেন।

শ্রীশ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১০ তম জন্মতিথি উপলক্ষে আজ শুক্রবার ওড়াকান্দি গ্রামের ঠাকুর বাড়ীতে বারুণী স্নানোৎসব ও তিন দিনব্যাপী মেলা অনুষ্ঠিত হবার কথা ছিলো। করোনা সংক্রমন ঠেকাতে স্থানীয় প্রশাসন দ্বিতীয় বারের মত এটি বন্ধ করে দেয়। গত বছরও এ সময়ে করোনার প্রথম ধাপের সংক্রমন ঠেকাতে এই উৎসব বন্ধ করে দেয়া হয়েছিল। বন্ধ করে দেয়ায় এ বছর ঢাক, ঢোল, ডাঙ্কা, কাঁসি ও শিঙ্গার শব্দে সে ভাবে রাস্তা-ঘাট আর ঠাকুর বাড়ী মুখোরিত হয়ে না উঠলেও লক্ষাধিক লোকের আগমনে কিছুটা হলেও মুখোরিত হয়ে ওঠে  ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি।

প্রতিবছর ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, আসাম, চীন, নেপাল, ইন্দোনেশিয়া, ভুটান, বাংলাদেশসহ  বিভিন্ন এলাকা থেকে লাখ-লাখ পূর্ণার্থীর আগমন ঘটে এ বারুণী স্নানোৎসব ও মেলায়।

ঠাকুর বাড়ীর সদস্য ও মেলা উদযাপন কমিটির সভাপতি শচীপতি ঠাকুর বলেন, করোনা ভাইরাস ঠেকাতে এ বছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠান না করার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছিল। কিন্তু, মতুঁয়া ভক্তদের আবেগকে তাঁরা বন্ধ করতে পারেননি। তারা বাঁধা উপেক্ষা করেও হাজার হাজার মতুঁয়া ঠাকুর বাড়িতে হাজির হয়।

ঠাকুর বাড়ীর অপর সদস্য ও কাশিয়ানী উপজেলা চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর বলেন, ঐতিহ্যবাহী এ বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা বন্ধের ঘোষনা দেয়া হলেও যথারীতি শ্রীশ্রী হরি চাঁদ ঠাকুর ও শ্রীশ্রী গুরুচাঁদ ঠাকুরের মন্দিরে পূঁজা-অর্চনা অনুষ্ঠিত হয়েছে। যেহেতু এবছর বারুণী স্নানোৎসব ও মেলা অনুষ্ঠিত হবে না, সে কারনে ভক্তদের তারা ঠাকুর বাড়িতে আসতে নিষেধ করেছিলেন। বিন্তু, তাদের শত অনুরোধ উপক্ষো করে লক্ষাধিক মতুয়া ভক্ত ওড়াকান্দিতে ঠাকুর বাড়িতে স্নান উৎসবে মেতে ওঠে। পূজা অর্চনা করেন। তবে তারা ঠাকুর বাড়ির পক্ষ থেকে বার বার বলছেন, স্বাস্থ্য বিধি মেনে যেন তারা পূজা অর্চনা করেন এবং স্নান উতসব করেন।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর