স্বামী আর ঘর হারিয়ে অসহায় নি:স্ব তাসলিমা; স্কুল যাওয়া বন্ধ ছেলে মেয়ের

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

স্টাফ রিপোর্টার :

স্বামী ক্যান্সারে মইরা গেল, ঝড়ে ভাইঙ্গা গেলে মাথা গুজার ঠাই। সাথে অহন ছেলে মেয়ের স্কুল যাওন বন্ধ। স্বামীর চিকিৎসা করাইতে গিয়ে যা ছিল সব শ্যাস করছি। ঝড়ে মাথা গুজার ঘর টুকুও শ্যাস কইরা দিছে। ছেলে মেয়েরে স্কুল দিব ক্যামনে খাওন তো কিনবার পারি না। চোখের পানি ফেলতে ফেলতে এভাবেই কথাগুলো বলছিলেন জীবযুদ্ধে হার মানতে থাকা তাসলিমা বেগম।

তাসলিমার সহযোগীতার জন্য এগিয়ে এসেছে জ্ঞানের আলো পাঠাগার। যে যার সাধ্যমত সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেয়ার জন্য আহবান জানিয়ে পাঠাগারের সদস্যরা।

সারেজমিনে গিয়ে জানাগেছে, কোটালীপাড়া উপজেলার হিরণ ইউনিয়নের মাঝবাড়ী গ্রামের দরিদ্র ফেরিওয়াল বাদশা শেখ। সংসারে স্ত্রী, তিন ছেলে ও তিন মেয়েকে নিয়ে বাদশার অভাবী সংসার। এ যেন নুন আনতেই পান্তা ফুরাতো প্রতিনিয়ত। সংসারের বোঝা কমাতে ৮ম ও ৯ম শ্রেণীতে পড়া অবস্থায় বিয়ে দিয়ে দেন বড় দুই মেয়েকে। দুই ছেলেকে লজিং দিয়ে ভর্তি করিয়ে দেন মাদ্রাসায়। আর ছোট দুই ছেলে মেয়ে বাড়ীতে থাকে। কোন রকমেই চলছিল সংসার।

কিন্তু গত বছরের মে মাসে ছোট ছোট টিউমারে ভরে যায় বাদশার গোটা শরীর। দিশেহারা স্ত্রী তাসলিমা তখন ফকির-কবিরাজ থেকে শুরু করে স্বামীকে নিয়ে ছুটতে থাকেন এ ডাক্তার থেকে ও ডাক্তারের কাছে। পরিবারের একমাত্র উপার্জণক্ষম ব্যক্তির এই অবস্থায় বাড়তে থাকে ধার দেনা। এমনকি সংসারের অবলম্বন একমাত্র গরুটিও বিক্রি করে দেন স্বামীর চিকিৎসা করতে। গত ডিসেম্বরে গোপালগঞ্জের চিকিৎসকেরা জানান বাদশা শেখ মরণব্যাধি ক্যান্সারে আক্রান্ত। তাকে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাতে হবে। কিভাবে ঢাকায় নিয়ে চিকিৎসা করাবেন? মাথায় যেন আসমান ভেঙ্গে পড়ে তাসলিমার।

ছোট মেয়ে মাঝবাড়ী হাইস্কুলের নবম শ্রেণীর ছাত্রী তখন। সামনে বার্ষিক পরিক্ষা। স্বামীর চিকিৎসার জন্য মেয়ের লেখাপড়া বন্ধ করে দিয়ে ঢাকায় কাছের এক আত্মীয়ের বাসায় গৃহপরিচারিকার কাজে পাঠিয়ে দেন। বাড়ির জায়গা বিক্রি করে সেই টাকা নিয়ে ঢাকায় ছোটেন স্বামীর চিকিৎসা করাতে।

স্বামীকে ভর্তি করান বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে। ঢাকায় নিজেও বিভিন্ন বাসায় শুরু করেন গৃহপরিচারিকা কাজ। আশায় বুক বাঁধেন সুস্থ হয়ে উঠবেন প্রিয় স্বামী। কিন্তু দিন যতই যায় ততই খারাপের দিকে যেতে থাকে। অর্থের সাথে কূলিয়ে উঠতে না পেরে গত ২৯ মে স্বামীকে নিয়ে বাড়ি ফেরেন তাসলিমা।

কিন্তু বাড়িতে এসে দেখেন ভাঙ্গা ঘরটি ঝড়ে বিধ্বস্ত হয়ে গেছে। ঝড়-বৃষ্টির সাথে কোনভাবে বসবাস শুরু করেন। এরই মধ্যে দীর্ঘ প্রায় এক বছর ক্যান্সারের সাথে যুদ্ধ করে গত ৭ জুন না ফেরার দেশে চলে যান বাদশা শেখ। তাসলিমার চোখে এখন পুরো পৃথিবীটাই অন্ধকার। ছোট ৩ ছেলে ও ১ মেয়েকে নিয়ে কিভাবে চলবে সংসার আর কিভাবেই বা ঠিক করবেন মাথা গোজার একমাত্র ঠাঁই ঘরটুকু। চিন্তায় পড়েন জীবনযুদ্ধে কিভাবেই পথ চলবেন তাসলিমা?

তাসলিমা আরো জানান, স্বামী মারা গেছেন। একমাত্র উপার্জনক্ষম স্বামীকে হারিয়ে এখন দু’চোখে অন্ধকার। সেখানে খাবারই জুটছে না সেখানে ঘর ঠিক করাই বা কিভাবে আর ছেলে মেয়েদের স্কুলে পাঠাবোই বা কিভাবে। যদি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সমাজের বিত্তবানরা একটু দৃষ্টি দেন তাহলে ছেলে-মেয়ে নিয়ে অন্তত একটু ভাল থাকতে পারবো।

জ্ঞানের আরো পাঠাগারের সভাপতি সুশান্ত মন্ডল বলেন, স্বামী মারা যাবার পাশাপশি বসবাসের একমাত্র ঘরটি এখন বিধ্বস্ত। আর্থিক অভাবে ছেলেমেয়ের পড়ালেখাও এখন বন্ধ। যদি প্রধানমন্ত্রীসহ সমাজের বিত্তবানের একটু সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেন তাহলে হয়তো এ পরিবারটি আভাব অনাটনের হাত থেকে রেহাই পারে। স্কুলে যেতে পারবে ছোট ছোট ছেলে মেয়েগুলো। সহযোগীতার হাত বাড়িয়ে দেবার জন্য আমি সমাজের বিত্তমানদের প্রতি আহবান জানাই।

তিনি আরো বলেন, তা সলিমাকে সহায়তার জন্য জ্ঞানের আলো পাঠাগার একটি সহায়তা তহবিল খুলেছে। এ অসহায় পরিবারটির জন্য সকলে তাদের সাধ্যমত সহযোগিতা করতে পারবেন। সহায়তা পাঠাতে পারেন নিচের বিকাশ নম্বরে ০১৯৮৫-৬২৭ ৬৯০ (বিকাশ পার্সোনাল, জ্ঞানের আলো পাঠাগার)। এছাড়াও তাসলিমা বেগমের সাথেও যোগাযোগ বা বিকাশ করতে পারেন ০১৯৬৫-১৮০ ৪৭৫ এই নম্বরে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর