গোপালগঞ্জ শহরে ইজিবাইক–রিকশার দৌরাত্ম্যে জনভোগান্তি চরমে

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

গোপালগঞ্জ শহরের প্রধান সড়কে ঢুকলেই চোখে পড়ে অদ্ভুত এক দৃশ্য। যেন কোনো ব্যস্ত মহানগরীর যানজট পেরিয়ে এসেছি। অথচ এটি একটি জেলা শহর। শহরের বাজার এলাকা থেকে পাচুড়িয়া মোড় পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমিটার জুড়ে ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইকের অবাধ চলাচলে প্রতিনিয়ত তীব্র যানজট দেখা দিচ্ছে। আর এর ভুক্তভোগী সাধারণ মানুষ।

শহরের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, ইজিবাইক ও ব্যাটারি চালিত রিকশা পাশাপাশি চলাচল তো আছেই, তার সঙ্গে চলছে নিয়ম-শৃঙ্খলার বড় অভাব। যাত্রী ওঠা-নামা হচ্ছে চলন্ত রাস্তায়, চালকেরা দাঁড়িয়ে থাকছেন সড়কের মাঝখানে, আবার অনেক জায়গায় তিন–চারটি করে যানবাহন পাশাপাশি চলায় ঝুঁকির পাশাপাশি বাড়ছে যানজটও।

বিশেষ করে পাবলিক হল রোড, চৌরঙ্গী এলাকা, হাসপাতালে যাওয়ার সড়কসহ বেশ কিছু জায়গায় দিনের বেশিরভাগ সময়ই ধীরগতিতে গাড়ি চলতে দেখা যায়। অফিসগামী মানুষ থেকে শুরু করে স্কুল–কলেজের শিক্ষার্থীরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন।

শহরে নির্ধারিত পার্কিং ব্যবস্থা না থাকায় অধিকাংশ চালক রাস্তার দুই পাশে ইজিবাইক রেখেই যাত্রী তোলেন। এতে স্বাভাবিকভাবেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে রাস্তাগুলো। ছোট একটা মোড় ঘুরতেও আটকে যাচ্ছে গাড়ি।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, কেউই যেন এই পরিস্থিতির দায়িত্ব নিতে চান না। ফলে দিনের পর দিন বেড়েই চলছে দুর্ভোগ।

পৌরসভার তথ্য মতে, শহরের সড়কব্যবস্থা সর্বোচ্চ চার হাজার ব্যাটারি চালিত রিকশা ও ইজিবাইক চলাচলের উপযোগী।কিন্তু বাস্তবে এর সংখ্যাটি এখন তার চেয়ে অনেক বেশি। লাইসেন্সপ্রাপ্ত যানবাহনের সংখ্যা রয়েছে মাত্র দেড় হাজারের মতো, বাকিগুলো চলছে বিনা নিয়ন্ত্রণে।

ট্রাফিক বিভাগের সার্জেন্ট জয় চক্রবর্তী জানান, “যানজট নিরসনে আমাদের হিমশিম খেতে হয়। তারপরও শহরকে শৃঙ্খলায় আনতে আমরা নিয়মিত কাজ করছি।”

গোপালগঞ্জ পৌরসভা কর্তৃপক্ষ বলেছেন, “সমস্যাটি আমরা জানি। ধাপে ধাপে পার্কিং ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং অনিয়ম নিয়ন্ত্রণে পদক্ষেপ নেওয়া হবে।”

“দশ মিনিটের পথ যেতে লাগে আধা ঘণ্টা,” বললেন এক কলেজ ছাত্র রবিউল হোসেন। “রোগী নিয়ে হাসপাতালে যেতে গেলেও আটকে পড়তে হয়,” অভিযোগ হানান শেখ নামের এক ভুক্তভোগীর।

একদিকে মানুষের স্বল্প খরচের পরিবহন হিসেবে ইজিবাইক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। আবার অপরদিকে নিয়ন্ত্রণহীন চলাচল, পার্কিং–সংকট আর লাইসেন্স–জটিলতার কারণে শহরের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে প্রতিনিয়ত।

পরিকল্পিত ব্যবস্থাপনা না হলে পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে মনে করছেন নগর–বিশেষজ্ঞেরা। আর সাধারণ মানুষ আশা করছেন, জনস্বার্থে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর