তাইওয়ানে আনিসুরের মৃত্যু, দেশে মরদেহের অপেক্ষায় দুই সন্তান

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

তাইওয়ানে মারা গেছেন গোপালগঞ্জের কাশিয়ানী উপজেলার রাতইল গ্রামের মো. আনিসুর রহমান(৫২)।নিউ তাইপেই সিটির একটি হাসপাতালের হিমঘরে রাখা হয়েছে তাঁর মরদেহ। অন্যদিকে,দেশে বাবার মরদেহের অপেক্ষায় দিন কাটছে দুই সন্তানের।স্বামীকে শেষবারের মতো দেখতে চান স্ত্রী শিলা আক্তারও। কিন্তু আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আনিসুরের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করতে পারছে না পরিবার।এ অবস্থায় সরকারের জরুরি সহযোগিতা চেয়েছেন স্বজনেরা।

পরিবার সূত্রে জানা গেছে, গত ৩১ অক্টোবর সকালে অসুস্থ হয়ে পড়লে আনিসুর রহমানকে নিউ তাইপেই সিটির ফু জেন ক্যাথলিক ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই দিন স্থানীয় সময় দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তাঁর মৃত্যু হয়। বর্তমানে তাঁর মরদেহ হাসপাতালের হিমঘরে সংরক্ষিত রয়েছে।

চলতি বছরের ২২ জুন জীবিকার সন্ধানে ট্যুরিস্ট ভিসায় তাইওয়ানে যান আনিসুর।সেখানে অবস্থানকালে তাঁর আকস্মিক মৃত্যুর খবর দেশে পৌঁছালে পরিবারে শোকের ছায়া নেমে আসে। স্বজন হারানোর বেদনার পাশাপাশি মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার অনিশ্চয়তায় দিশেহারা হয়ে পড়েছেন পরিবারের সদস্যরা।

আনিসুরের স্ত্রী শিলা আক্তারের দুই সন্তানের মধ্যে মেয়ে জুম্মী রহমান এইচএসসি দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী এবং ছেলে জারিফ ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়ে। বাবার মৃত্যুর খবর পাওয়ার পর থেকেই তাঁর মরদেহ দেশে ফেরার অপেক্ষায় রয়েছে তারা।

স্বামীর মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং ওয়েজ আর্নার্স কল্যাণ বোর্ডের সহযোগিতা চেয়ে সোমবার (২ নভেম্বর) সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন শিলা আক্তার।

এদিকে আনিসুরের বড় ভাই নাজমুল হক, মেজ ভাই আজিজুর রহমান ও ছোট ভাই আফজালও সরকারের সহযোগিতা কামনা করেছেন। তাঁরা বলেন, নিজেদের উদ্যোগে বিদেশ থেকে ভাইয়ের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে আনার মতো আর্থিক সামর্থ্য তাঁদের নেই। সরকারের সহযোগিতা না পেলে ভাইয়ের মুখ শেষবারের মতো দেখার সুযোগ থেকেও বঞ্চিত হতে পারেন তাঁরা।

আবেদনে শিলা আক্তার উল্লেখ করেছেন, তাইওয়ানে অবস্থানরতঃ আনিসুরের ঘনিষ্ঠ বন্ধু ইয়াং জিয়ান-কাইয়ের সঙ্গে যোগাযোগ করলে তাঁর মৃত্যু ও মরদেহ সংরক্ষণের বিষয়ে বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে। মরদেহ দেশে পৌঁছালে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে তিনি তা গ্রহণ করবেন বলেও জানিয়েছেন।

মৃত আনিসুর রহমানের পাসপোর্ট নম্বর বি০০৩৭৩৩৪৭। তাঁর বাবার নাম আবুল বাসার মুন্সী এবং মায়ের নাম ফিরোজা বেগম।

প্রিয়জনের মরদেহ দেশে ফিরিয়ে এনে শেষবারের মতো দেখার সুযোগ পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরগুলোর দ্রুত ও মানবিক সহযোগিতা কামনা করেছেন শোকাহত স্ত্রী, সন্তান ও স্বজনেরা।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর