গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় ছয় সন্তানকে বড় করে জীবনের শেষ বয়সে আশ্রয়হীন হয়ে গাছতলায় ঠাঁই নেওয়া ৯৫ বছর বয়সী হাজী শামসুল হক মোল্লার খোঁজ নিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তাঁর দুরবস্থার খবর সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। পরে তিনি বৃদ্ধের খোঁজখবর নিতে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন।
বৃহস্পতিবার (৫ নভেম্বর) ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর সদস্য সচিব কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুনের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামে হাজী শামসুল হক মোল্লার বাড়িতে যান। এ সময় প্রতিনিধি দলের সদস্যরা তাঁর শারীরিক ও পারিবারিক অবস্থার খোঁজখবর নেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রীর পক্ষ থেকে উপহার ও সহমর্মিতার বার্তা পৌঁছে দেন তাঁরা।
প্রতিনিধি দলের নেতৃত্ব দেওয়া কৃষিবিদ মোকছেদুল মোমিন মিথুন বলেন, ‘মাননীয় প্রধানমন্ত্রী বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লার নিরাপদ আশ্রয়, প্রয়োজনীয় পরিচর্যা ও মানবিক সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে দেখার নির্দেশ দিয়েছেন। সরেজমিনে এসে আমরা জানতে পেরেছি, তাঁর ছেলেরা তাঁকে পুনরায় বাড়িতে ফিরিয়ে নিয়েছেন এবং আমৃত্যু তাঁর দায়িত্ব পালনের আশ্বাস দিয়েছেন। বিষয়টি আমরা মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে অবহিত করবো।’
হাজী শামসুল হক মোল্লা জীবনের দীর্ঘ সময় পরিশ্রম করে দুই ছেলে ও চার মেয়েকে বড় করেছেন। সম্প্রতি নিজের জমিজমা ছয় সন্তানের মধ্যে ভাগ করে দেওয়ার পর তিনি পরিবারের কাছে অবহেলার শিকার হন। একপর্যায়ে বসতবাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হলে বাড়ির পাশের একটি গাছতলায় আশ্রয় নিতে বাধ্য হন তিনি। এ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে প্রতিবেদন প্রকাশিত হলে বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টিগোচর হয়।
প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, প্রতিবেদনটি দেখার পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তাঁর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমনকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেন। এরই ধারাবাহিকতায় ‘আমরা বিএনপি পরিবার’-এর প্রতিনিধি দল বৃদ্ধের খোঁজ নিতে তাঁর বাড়িতে যায়।
এ সময় প্রতিনিধি দলে আরও উপস্থিত ছিলেন সংগঠনটির সদস্য মাসুদ রানা লিটন, শাকিল আহমদ ও শাহাদাত হোসেন, ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের যুগ্ম সম্পাদক হাসনাইন নাহিয়ান সজীব, ছাত্রনেতা মশিউর রহমান মহান ও আব্দুল্লাহ আল মিসবাহসহ স্থানীয় ব্যক্তিবর্গ।
