সন্তানদের কাছে বৃদ্ধ পিতা এখন বোঝা, ঠাঁই হয়েছে গাছ তলায়

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

জীবনের সবটুকু সুখ ও শ্রম বিলিয়ে দিয়ে ছয় সন্তানকে বড় করেছেন বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লা (৯৫)।জীবনের শেষ পর্যায়ে এসে সেই সন্তানদের কাছে তিনি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছেন। ছয় সন্তানের  মধ্যে কারো কাছেই তার ঠাঁই হয়নি।ছেলে মেয়েরা সকলে মিলে জমিজমা লিখে নিয়ে তাকে রেখে দিয়েছে বাড়ির পাশে একটি গাছের নিচে।এখানে এখন দিন কাঁটছে বৃদ্ধা শামসুল হকের।

বৃদ্ধ শামসুল হক গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের ওমেদ আলী মোল্লার ছেলে।

জানাগেছে,হাজী শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে ও চার মেয়ে রয়েছে। ছেলেদের মধ্যে বড় ছেলে আজিজুল মোল্লা পেশায় একজন ফেরিওয়ালা।ছোট ছেলে রেয়াজুল মোল্লা বাসের হেলপার।

অপরদিকে, চার মেয়ের মধ্যে মায়া বেগম, সাবিনা বেগম ও সালমা বেগমকে বিয়ে দিয়ে দেওয়া হয়েছে। ছোট মেয়ে কাজুলী বেগম শারীরিক প্রতিবন্ধী।

বৃদ্ধ হাজী শামসুল হকের ছোট সন্তান কাজুলী বেগম বাদে আর পাঁচ সন্তান তাদের সংসার সন্তান নিয়ে ব্যস্ত।

গত কয়েক বছর আগে হাজী শামসুল হক তার জমি বিক্রি করে হজ্ব করতে যায়।তখন বাকি জমি জমা সন্তানদের মাঝে ভাগ করে দেন।কিন্তু বর্তমানে বিপত্নীক এই বৃদ্ধের কোন সন্তানই খোঁজ খবর তেমন রাখছে না।

শামসুল হক মোল্লা গত কয়েক দিন ধরে তার বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন।

কিন্তু আজ মঙ্গলবার সকালে মায়া বেগম তার বৃদ্ধ বাবাকে ভাইদের বাড়িতে নিয়ে আসলে ভাই ও তাদের স্ত্রীরা মিলে হাজী শামসুল হক মোল্লাকে বাড়ি থেকে বের করে একটি গাছের নিচে রেখে দেয়।

এ খবর এলাকায় ছড়িয়ে পড়লে এলাকাবাসীর মাঝে শামসুল হক মোল্লার সন্তানদের নিয়ে একটি বিরুপ প্রতিকৃয়ার হয়।

মায়া বেগম বলেন, আমার স্বামী অসুস্থ্য।তার পরে আমার বাড়িতে আবার প্রতিবন্ধী ছোট বোন কাজুলী থাকে।যার কারনে আমার পক্ষে আমার বাবাকে রাখা সম্ভব নয়।

শামসুল হকের মেঝ মেয়ে সাবিনা বেগম বলেন, আমাদের চার বোনকে জমি বিক্রি করে বাবা মাত্র ৪ লক্ষ টাকা করে দিয়েছে।দুই ভাইকে নগদ টাকাসহ ৮ কাঠা করে জমি দিয়েছে। এখন আমরা বোনেরা কেন বাবার দেখাশুনা করবো? এ বিষয়ে জানার জন্য শামসুল হক মোল্লার দুই ছেলে আজিজুল ও রেয়াজুলের বাড়িতে গিয়ে তাদেরকে পাওয়া যায়নি।তাদের স্ত্রী গণও কোন প্রকার মন্তব্য করতে রাজি হয়নি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাশের বাড়ির এক গৃহিনী বলেন,শামসুল হক মোল্লার জমি জমা লিখে নিয়ে এখন তার সন্তানরা তাকে আশ্রয় দিচ্ছে না।তিনি যদি সন্তানদের জমি লিখে না দিতো তা হলে হয় তো এই অবস্থা হতো না।সন্তানরা যেটি করছেন সেটি কোন ভাবেই কোন পিতার জন্য কাম্য নয়।

বৃদ্ধ শামসুল হক বলেন, আমি এখন কোথায় যাবো? কি করবো? কিছুই বুঝতে পারছি না।সারা জীবন কষ্ট করে যাদেরকে বড় করলাম তাদের কাছে আমি এখন বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছি।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার সাইফ-উল-আরেফীন বলেন,বিষয়টি আমি জেনেছি। শামসুল হক সাহেবের সন্তানেরা যদি তার পিতার দেখাশোনা না করেন তা হলে তাদের বিরুদ্ধে ‘পিতা-মাতার ভরণ-পোষণ’ আইন অনুসারে শাস্তির ব্যবস্থা করা হবে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর