Home গোপালগঞ্জ সংবাদ সেন্ট মথুরানাথ বসুর ১২১তম মৃত্যু বাষির্কী নানা আয়োজনে পালন

সেন্ট মথুরানাথ বসুর ১২১তম মৃত্যু বাষির্কী নানা আয়োজনে পালন

০
সেন্ট মথুরানাথ বসুর ১২১তম মৃত্যু বাষির্কী নানা আয়োজনে পালন

গোপালগঞ্জকে অশিক্ষা আর কু-সংস্কারের হাত থেকে যিনি মুক্ত করেছেন, দিয়েছেন শিক্ষার আলো, সেই ব্যক্তিটিকে এখনকার মানুষ ভুলতে বসেছে। সেই সেন্ট মথুরানাথ বসুর ১২১তম মৃত্যু বাষির্কী আজ। গোপালগঞ্জ খ্রীষ্টান ফেলোশিপ নামে একটি সংগঠন নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে দিনটি পালন করে। এ ছাড়া গোপালগঞ্জ জেলা খ্রীস্ট্রান লীগ নামে আরেকটি সংগঠনও এদিনটি যথাযোগ্য মর্যাদার সাথে পালন করে। গোপালগঞ্জ খ্রীষ্টান ফেলোশিপ শোক র‌্যালী, সমাধিতে মাল্যদান ও গোপালগঞ্জ খ্রীষ্ট্রানপাড়া সেন্ট মথুরানাথ  এজি চার্চে স্মরনসভার আয়োজন করে।স্মরন সভায় সভাপতি প্রভাষ বাড়ৈ ও সাধারন সম্পাদক শিমিয়ন হাজারা জয় বক্তব্য রাখেন। এ ছাড়া গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় মোমবাতি প্রজ্জলন করেও তাকে শ্রদ্ধা জানানো হয়।

immage 1000 01 2

এদিকে, গোপালগঞ্জ জেলা খ্রীষ্ট্রান লীগ নেতৃবৃন্দ আজ শুক্রবার সেন্ট মথুরানাথ বসুর সমাধিতে মোমবাতি প্রজ্জলন ও মাল্যদান করে শ্রদ্ধা জানান। এ সময়ে সংগঠনের সভাপতি রিচার্ড ক্লাইভ, সাধারন সম্পাদক মানুয়েল মজুমদার,সুজন বালাসহ নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

গোপালগঞ্জের পশ্চাৎপদ জনগোষ্ঠীকে অন্ধকার থেকে আলোয় নিয়ে আসতে সেন্ট মথুরানাথ বসুর ভুমিকা ছিল অপরিসীম। মথুরানাথ ছিলেন এ অঞ্চলের শিক্ষার অগ্রদূত, সমাজ সংস্কারক ও ভাটির মানুষের আশার আলো।

immage 1000 04

প্রায় দেড়’শ বছর আগে এ অঞ্চলটি ছিল জলাভূমি ও প্লাবণ এলাকা। আদিবাসীদের প্রায় সবাই ছিল নিম্ন বর্ণের হিন্দু সম্প্রদায়ের লোক। এরা সবাই ছিল গরীব ও অশিক্ষিত। দশ গ্রামের মধ্যে নাম স্বাক্ষরকারী কাউকে পাওয়া যেত না। অতিদরিদ্র, অনুন্নত ও অশিক্ষিত মানুষের মুক্তির বার্তা পৌঁছে দিতে কলকাতার ভবানীপুরের লন্ডন মিশনারী উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষকতার চাকরী ছেড়ে ১৮৭৪ সালের ফেব্রুয়ারীতে প্রথমে নৌকা যোগে গোপালগঞ্জ পৌঁছান। শুরু করেন নিরক্ষর মানুষকে জাগিয়ে তোলার কাজ। গড়ে তোলেন শিক্ষাঙ্গণ, ভজনালয়, কোর্ট, পোষ্ট অফিস, ব্যাংক, হাসপাতাল ও কৃষি খামার। অসহায় ও দরিদ্র মানুষের পাশে থেকে হয়ে ওঠেন তাদের বন্ধু।                                           

immage 1000 02 2

মথুরানাথ বসু এ অঞ্চলের শিক্ষার আলো বঞ্চিত ও কুসংস্কারাচ্ছন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে জ্ঞানের অর্ণিবাণ শিখা প্রজ্বলিত করেন। রেভারেন্ড জে এল সরকারের বাসভবনের কাছে ছেলেদের জন্য তিনি প্রথম একটি পাঠশালা স্থাপন করেন। পাঠশালাটি পরে প্রাইমারী মিশন থেকে হাইস্কুলে উন্নিত করা হয়। তারঁ প্রতিষ্ঠিত এই মিশন স্কুল থেকেই জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এন্ট্রান্স পাশ করেছিলেন।  

এই মহান পুরুষ ১৯০১ সালের ২রা সেপ্টম্বর ৫৮ বছর বয়সে পরলোক গমন করেন। কিন্তু, যে মানুষটির আপ্রাণ চেষ্ঠায গোপালগঞ্জ শহরের বিকাশ; সেই মহাপ্রান সেন্ট মথুরানাথের নাম আজ গোপালগঞ্জ বাসীর কাছে বিস্মৃত প্রায়।এ কৃত্তিমান পুরুষের জন্ম ও মৃত্যুদিন যাতে সরকারীভাবে পালন করা হয় এ দাবী এ অঞ্চলের মানুষের।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here