গাছের সবুজ পাতার ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে বড় আকারের কমলা। কোনোটি সবুজাভ, আবার কোনোটি পাকা কমলা রঙে সেজেছে। দেখতে যেমন আকর্ষণীয়, স্বাদেও তেমনি মিষ্টি। এমন দৃশ্য এখন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার জালালাবাদ ইউনিয়নের পশ্চিম শুকতাইল গ্রামের ‘ড্রিম এগ্রো ফার্মে’। শখের বশে গড়ে তোলা এই কমলা বাগান এখন এলাকায় ব্যাপক সাড়া ফেলেছে। সফল ফলনে বাণিজ্যিকভাবে কমলা চাষের নতুন সম্ভাবনা দেখছেন স্থানীয় কৃষক ও কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারা।
গোপালগঞ্জ জেলা শহর থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে অপেক্ষাকৃত উঁচু এলাকায় অবস্থিত পশ্চিম শুকতাইল গ্রাম। এখানকার সৌখিন কৃষক মহব্বত হোসেন সাড়ে তিন বছর আগে ঝিনাইদহ থেকে ১০০টি কমলার চারা সংগ্রহ করেন। নিজের পড়ে থাকা ৭৫ শতাংশ জমিতে চারা রোপণ করে শুরু করেন কমলা চাষের যাত্রা। দীর্ঘদিনের যত্ন ও পরিচর্যায় চলতি বছর তাঁর বাগানের গাছগুলোতে প্রচুর ফল ধরেছে। বড় আকারের সুস্বাদু এসব কমলা দেখে মুগ্ধ হচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।

বাগানে সারি সারি গাছে ঝুলে থাকা কমলা দেখতে প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে ছুটে আসছেন উৎসুক মানুষ। কেউ ফলের আকার ও স্বাদ দেখে বিস্মিত হচ্ছেন, আবার কেউ আগ্রহ প্রকাশ করছেন নিজের জমিতে কমলা চাষের। ইতোমধ্যে অনেকে এই জাতের কমলার চারা সংগ্রহের জন্য আগাম চাহিদাও জানিয়েছেন।
কমলাচাষি মহব্বত হোসেন জানান, সম্পূর্ণ শখের বশেই তিনি বাগানটি গড়ে তুলেছেন। শুরুতে সফলতা নিয়ে কিছুটা অনিশ্চয়তা থাকলেও এখন ফলন দেখে তিনি আশাবাদী। বাগানে জৈব সার ছাড়া অন্য কোনো সার ব্যবহার করেন না বলে জানান তিনি।
মহব্বত হোসেন বলেন, ‘গত তিন বছরে বাগানের পেছনে প্রায় এক লাখ টাকা খরচ হয়েছে। এবার ফল বিক্রি করে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা পাওয়ার আশা করছি। ফলন ভালো হওয়ায় আগামী বছর বাগানের পরিধি আরও বাড়ানোর পরিকল্পনা রয়েছে।’
স্থানীয় কৃষি বিভাগের কর্মকর্তারাও এই অঞ্চলে কমলা চাষের উজ্জ্বল সম্ভাবনা দেখছেন। তাঁদের মতে, উপযুক্ত জমি নির্বাচন, সঠিক পরিচর্যা ও প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা পাওয়া গেলে কমলা চাষ কৃষকদের জন্য লাভজনক উদ্যোগ হয়ে উঠতে পারে।
জালালাবাদ ইউনিয়নের উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা ভাস্কর বাড়ৈ বলেন, ‘এই এলাকার মাটি ও আবহাওয়া কমলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। বেকার যুবকেরা পরিকল্পিতভাবে বাণিজ্যিক কমলা বাগান গড়ে তুললে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি স্থানীয় অর্থনীতিতেও ইতিবাচক ভূমিকা রাখতে পারবেন।’
স্থানীয় অধিবাসী মোঃ জিন্নাত আলী মোল্লা, রহিত সরদার বলেন, বাজারে কমলার দাম বেশি হওয়ায় অনেক সাধারণ মানুষের পক্ষে নিয়মিত এই ফল কেনা কঠিন। এলাকায় বাণিজ্যিকভাবে উৎপাদন বাড়ানো গেলে স্থানীয় বাজারে কমলার সরবরাহ বৃদ্ধি এবং তুলনামূলক সাশ্রয়ী দামে ফল পাওয়ার সুযোগ তৈরি হতে পারে।
কৃষি সংশ্লিষ্টদের আশা, মহব্বত হোসেনের এই উদ্যোগ অন্য কৃষকদেরও উৎসাহিত করবে। পরিকল্পিত চাষাবাদ ও বাজারজাতকরণের ব্যবস্থা নিশ্চিত করা গেলে গোপালগঞ্জে কমলা চাষ হয়ে উঠতে পারে কৃষি অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনাময় খাত। একই সঙ্গে স্থানীয় কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং দীর্ঘ মেয়াদে আমদানিনির্ভরতা কমাতেও ভূমিকা রাখতে পারে এই উদ্যোগ।
