সাম্মাম ফল চাষ করে তাক লাগিয়ে দিয়েছেন বিদেশ ফেরত কৃষক আযুব আলি

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

দেশের মাটি ছেড়ে বিদেশে চাকরী করতে ভালো না লাগায়, দেশে ফিরে গত ৩ বছর ধরে নিজের জমিতে চাষাবাদ শুরু করেছেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার চরগোবরা গ্রামের আয়ুব আলি শেখ। এবার পরীক্ষামূলক ভাবে মালচিং পদ্ধতিতে সাম্মাম ফল চাষ করে সফলও হয়েছেন তিনি। মরুভুমি বা আরব দেশের ফল হিসেবে খ্যাত সাম্মাম ফল। মাত্র তিন মাসের মধ্যে এ ফল খাওয়া ও বাজারে বিক্রি করার উপযোগী হয়েছে। ফলন যেমন ভালো হয়েছে, তেমনি বিক্রিও হচ্ছে ভালো দামে।সারা জেলায় এই ফলের চাষাবাদ ছড়িয়ে দিতে পারলে এলাকার কৃষকেরা লাভবান হবেন।

মরুভূমির ফল হলেও এখন গোপালগঞ্জের মাটিতেও এর চাষ হচ্ছে। মালচিং পদ্ধতিতে এই ফলের চাষ করে সফলও হয়েছেন গোপালগঞ্জের কৃষক আযুব আলি শেখ। চারা রোপণের ৯০ দিনেই এ ফল সংগ্রহ করা যায়। কৃষি উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় আয়ুব আলী শেখ মরুভুমির এ ফল চাষ করে ব্যাপক সফলতা পেয়েছেন। তার সফলতা দেখে সাম্মাম চাষে ঝুকছে আশ পাশের কৃষকেরা।

immage 1000 02 10

বাংলাদেশে এই ফলের চাষ শুরু হলেও গোপালগঞ্জে এটি প্রথম। লতা জাতীয় গাছের ফাঁকে ফাঁকে ঝুলছে সাম্মাম ফল। প্রায় প্রতিটি গাছেই ভরপুর ফল ও ফুল। বাঁশের বাতা আর নেট ব্যাগ বা জালের ফাঁকে ফাঁকে পুরো ক্ষেত যেনো রঙ্গিন ফলে ভরে রয়েছে। সাম্মাম ফল খুবই পুষ্টি সমৃদ্ধ।বিভিন্ন দেশে এটি রক মেলন, সুইট মেলন, মাস্ক মেলন, হানি ডিউ নামেও পরিচিত। এ ফল চাষে কৃষক আয়ুব আলীর ৪২ শতাংশ জমিতে খরচ করেছেন ৬০ হাজার টাকা। ফল বিক্রি করার টার্গেট রয়েছে দেড় থেকে তিন লাখ টাকা। প্রতিটি ফল প্রায় দেড় থেকে দুই কেজি ওজনের সাইজ হয়েছে। পাইকারি বাজার মূল্যে ১৩০ থেকে ১৫০ টাকা কেজি হিসেবে বিক্রি হচ্ছে।

immage 1000 03 5

সাম্মাম চাষী আয়ুব আলী শেখ জানান, আমি মালচিং পদ্ধতিতে সাম্মাম চাষ করে ৬০ হাজার টাকা খরচ করেছি। গাছে যে ফল রয়েছে তাতে ২ লাখ টাকা বিক্রি করতে পারবো। আমার এই ফলটি ক্যামিক্যাল ও বিষমুক্ত, মানুষের কোনো ক্ষতি করবে না বলেও জানান তিনি।

সাম্মাম চাষে গ্রামের অনেকেই প্রথমে সন্দিহান থাকলেও কিছু দিনের মধ্যে ওই গাছে প্রচুর ফুল ও  ফল দেখে আশ্চর্য হয়েছে গ্রামবাসী। সেই সাথে এ ফল চাষে সফলতা দেখে গ্রামের অনেকেই তার বাগান দেখতে এবং চাষে আগ্রহী হয়ে উঠেছে।

গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগের উপ-পরিচালক আব্দুল কাদের সরদার জানান, সাম্মাম চাষ এখনও বাংলাদেশের কৃষকদের মাঝে জনপ্রিয় হয়ে উঠেনি। সাম্মাম ফল আবাদের মাধ্যমে আমাদের কৃষিতে একটি নতুন মাত্রা সংযোজন হতে যাচ্ছে। সুস্বাদু এই ফলের আবাদ বৃদ্ধি করে জেলার কৃষকেরা লাভবান হতে পারবে। এ জন্য কৃষি বিভাগ এগিয়ে আসবে এমনটি প্রত্যশা কৃষি সংশ্রিষ্টদের।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর