জন্মের পর নিজেদের কোন বাড়ি ছিলনা, এখন আমি বাড়ির মালিক

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

জন্মের পর নিজেদের কোন বাড়ি দেখিনি, বাবাকেও দেখিনি, মার কাছে শুনেছি বাবারও কোন বাড়ি ছিলনা, অনের বাড়িতে বসবাস করছি আজ অবদি। মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর উপহারের একটা ঘর পেয়েছি, দু’শতক জায়গাও পেয়েছি, তা আমার নামে দলিল হয়েছে। আমি এখন বাড়ির মালিক, জায়গার মালিক, এর চেয়ে বেশী চাওয়া-পাওয়া আমার কাছে আর কিছু নাই। কোন দিন স্বপ্নেও ভাবিনি আমি কোনদিন বাড়ির মালিক বা জমির মালিক হতে পারবো। আমার এই স্বপ্ন পূরনে যে আনন্দ পেয়েছি তা আমি কাউকে বলে বোঝাতে পারবোনা। আমার এই স্বপ্ন পূরন করে দেওয়ার জন্য আমি আমার পরিবারের পক্ষ থেকে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানাই এবং শেখ হাসিনার দীর্ঘায়ু কামনা করছি। এমনটি বলছিলেন গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার করপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্রে চতুর্থ ধাপে দু’শতক জায়গাসহ ঘর পাওয়া মোঃ শাফায়েত মোল্লা (৫৪)।
সদর উপজেলার বনগ্রামের বাসিন্দা মৃত জয়নাল মোল্লার ছেলে তিন সন্তানের জনক মোঃ শাফায়েত মোল্লা আরো জানান, জন্মের পর দেখেছি আমরা অন্যের বাড়িতে থাকি। বাবা নেই, মা অন্যের বাড়িতে কাজ করে আমাদের সংসার চালাতো। একটু বড় হয়ে অন্যের বাড়িতে পেটেভাতে কাজ করে খাই। এরপর বিয়ে করে সংসার জীবন শুরু করি। বউকে নিয়েই অন্যের বাড়িতে স্বামী-স্ত্রী কাজ করে খাই। এরপর আমার সংসারে আসে নতুন অতিথি মেয়ে শাফি খানম, ছেলে রিপন মোল্লা ও শিপন মোল্লা। পরিবারে সদস্য সংখ্যা বেশী হওয়ায় এরপর আমি সংসার চালাতে ভ্যান চালানো শুরু করি এবং আমার স্ত্রী ওই বাড়িতে গৃহকর্মীর কাজ করে। এখনো আমি অন্যের বাড়িতেই থাকি। নিজের ঘরবাড়ি নেই বলে মেয়েটাকে ভালঘরে বিয়ে দিতে পারি নাই। টাকার অভাবে ছেলে দুটোকে ভাল স্কুলে দিতে পারি নাই, তারা মাদ্রাসায় পড়ে।
মোঃ শাফায়েত মোল্লা বলেন, এখন আমি বাড়ির মালিক, ঘরের মালিক, তাও আবার পাকাঘর। আমি গরীব মানুষ, আমার স্বপ্ন ছিল যদি কোনদিন নিজের একখন্ড জমি হতো, যদি একটি পাকা ঘর করতে পারতাম, তাহলে বাকি জীবনটা একটু শান্তিতে কাটাতে পারতাম। আমার সেই আশা পূরন করেছে জাতির জনকের মেয়ে শেখ হাসিনা আমাকে জায়গা দিয়েছে, পাকা ঘর দিয়েছে। আমার আর চাওয়া-পাওয়ার কিছু নেই। আমি মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর সুস্থ্যতা ও দীর্ঘায়ু কামনা করছি।
শুধু শাফায়েত মোল্লাই নয়, এরকম দুঃখের কাহিনী রয়েছে সদর উপজেলার করপাড়া আশ্রায়ন কেন্দ্রের অনেকের জীবনেই। শুধু করপাড়াই বা কেন, সদর উপজেলার মানিকদাহ, কাশিয়ানীর ফুকরা, নিজামকান্দি, কোটালীপাড়ার দেবগ্রাম, টুঙ্গিপাড়ার নিলফা আশ্রায়ন কেন্দ্রসহ গোপালগঞ্জ জেলার সবগুলি আশ্রায়ন কেন্দ্রে যে সকল ভুমিহীন পরিবার জমি ও ঘর পেয়েছে তারা নানা প্রতিকুলতার মধ্যে নানাবিধ দুঃখ কষ্টে কেটেছে তাদের জীবন। এখন তারা প্রধানমন্ত্রীর উপহারের ঘর পেয়েছে, পেয়েছে একটি নিজস্ব ঠিকানা। তারা প্রত্যেকেই নিজেদের পায়ে দাড়াতে চেষ্টা করছে। প্রত্তেকেই কিছু না কিছু কাজ করে জীবনটাকে নতুনভাবে উপভেখাগ করার স্বপ্ন দেখছে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর