রোজার প্রথম দিনেই যেন গোপালগঞ্জের বাজারে দ্রব্যমূল্যে আগুন লেগেছে

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

রোজার প্রথম দিনেই নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধিতে বিপাকে পড়েছেন সাধারণ ক্রেতারা। হঠাৎ করেই বাজারে প্রায় সব ধরনের পণ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় নাভিশ্বাস উঠেছে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষের। গত সপ্তাহের তুলনায় অনেক পণ্যের দাম কেজিপ্রতি ২০ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে, যা রোজার শুরুতেই ভোক্তাদের জন্য বাড়বাড়ন্তের চাপ তৈরি করেছে।

গোপালগঞ্জ শহরের বিভিন্ন কাঁচাবাজার ঘুরে দেখা যায়, রমজানের প্রথম দিনেই বাজারে ক্রেতাদের ভিড় থাকলেও তাদের মুখে স্বস্তির বদলে ছিল উদ্বেগ ও হতাশা। অনেকে প্রয়োজনের তুলনায় কম পণ্য কিনে বাজেট সামাল দেওয়ার চেষ্টা করছেন।অনেক পরিবার বাধ্য হয়ে দৈনন্দিন খাদ্যতালিকায় কাটছাঁট করছেন।

গোপালগঞ্জের বড়বাজারে গিয়ে দেখা গেছে, গত সপ্তাহে যে বেগুন ৭০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হয়েছে, তা রোজার প্রথম দিনেই বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১১০ টাকায়। একইভাবে ৬০ টাকার শশা বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। লেবু প্রকারভেদে প্রতি হালি ৮০ থেকে ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে, যা সাধারণ সময়ের তুলনায় অনেক বেশি।

ব্যবসায়ীরা বলছেন, চাহিদা বেড়ে যাওয়ায় এবং সরবরাহ কিছুটা কম থাকায় দাম বাড়ছে। তবে ক্রেতারা এ যুক্তি মানতে নারাজ। তাদের অভিযোগ, রোজা এলেই কিছু অসাধু ব্যবসায়ী কৃত্রিম সংকট তৈরি করে দাম বাড়িয়ে দেন।

immage 1000 03

রমজানের অন্যতম প্রধান পণ্য খেজুরের দামও বেড়েছে উল্লেখযোগ্যভাবে। প্রতি কেজিতে ৫০ থেকে ৬০ টাকা পর্যন্ত বৃদ্ধি পেয়েছে। মুরগি ও গরুর মাংসের দাম কেজিপ্রতি বেড়েছে প্রায় ৫০ টাকা। অন্যদিকে, ৯০ টাকায় বিক্রি হওয়া গরুর দুধ এখন বিক্রি হচ্ছে ১১০ টাকায়। ফলে সেহরি ও ইফতারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রী কিনতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন সাধারণ মানুষ।

বাজারে আসা অনেক ক্রেতাই জানিয়েছেন, আয়ের সঙ্গে ব্যয়ের কোনো সমন্বয় করতে পারছেন না। রোজার সময় পরিবারে খরচ স্বাভাবিকভাবেই বেড়ে যায়। তার ওপর যদি প্রতিটি পণ্যের দাম এভাবে বাড়তে থাকে, তাহলে সংসার চালানোই কঠিন হয়ে পড়বে।

শহরের পাচুড়িয়া এলাকার বাসিন্দা একজন ক্রেতা বলেন, “গত সপ্তাহে যে টাকায় পুরো বাজার করেছি, আজ সেই টাকায় অর্ধেক জিনিসও পাওয়া যাচ্ছে না। বাধ্য হয়ে অনেক কিছু বাদ দিতে হচ্ছে।”

আলিমুল ইসলাম নামের আরেকজন জানান, “দ্রব্যমূল্য যদি এভাবে বাড়তেই থাকে, তাহলে সাধারণ মানুষের পক্ষে রোজা পালন করাও কষ্টকর হয়ে যাবে।”

বাজারের নিত্যপণ্যের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়টি স্বীকার করেছেন জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা আরিফ হোসেন। তিনি জানান, রমজানকে কেন্দ্র করে কেউ যাতে অযৌক্তিকভাবে দাম বাড়াতে না পারে, সে জন্য বাজারে অভিযান পরিচালনার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, “আমরা ইতোমধ্যে বিষয়টি নিয়ে জেলা পর্যায়ে আলোচনা করেছি। দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখতে নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।”

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, শুধু অভিযান নয়, সরবরাহব্যবস্থা স্বাভাবিক রাখা, পাইকারি বাজারে নজরদারি বাড়ানো এবং অসাধু মজুতদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। তা না হলে রমজানের পুরো সময়জুড়েই বাজার অস্থির থাকার আশঙ্কা রয়েছে।

রমজানের শুরুতেই এমন মূল্যবৃদ্ধি সাধারণ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ তৈরি করেছে। এখন সবার প্রত্যাশা, দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপের মাধ্যমে বাজার পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হবে, যাতে রোজার মাসে মানুষ স্বস্তিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্য কিনতে পারে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর