শারীরিক প্রতিবন্ধকতা নয়, অদম্য ইচ্ছাশক্তিই জয় হালদারের এগিয়ে চলা

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

জন্ম থেকেই শারীরিক প্রতিবন্ধী। নিজের পায়ে হাঁটতে পারেন না, স্পষ্টভাবে কথাও বলতে পারেন না। দিনের অধিকাংশ সময় কেটে যায় বিছানায় শুয়ে কিংবা বসে। কিন্তু শারীরিক সীমাবদ্ধতা তাঁর স্বপ্নকে আটকে রাখতে পারেনি। অদম্য ইচ্ছাশক্তিকে পুঁজি করে পা দিয়েই স্মার্টফোন পরিচালনা করে ডিজিটাল দুনিয়ায় নিজের আলাদা পরিচয় গড়ে তুলেছেন গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার রাজাপুর গ্রামের যুবক জয় হালদার।

কোনো দিন বিদ্যালয়ে যাওয়ার সুযোগ হয়নি। নেই প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা।তবুও বাংলা ও ইংরেজিতে অনায়াসে লিখতে পারেন। ডিজিটাল মার্কেটিং, সাইবার সেবা এবং ফ্রিল্যান্সিংয়ের বিভিন্ন কাজ শিখেছেন সম্পূর্ণ নিজের চেষ্টায়। বর্তমানে বিকাশ-নগদ অ্যাকাউন্ট খোলা, জমির পরচা তোলার আবেদন, বিধবা ও বয়স্ক ভাতার আবেদনসহ নানা ডিজিটাল সেবার জন্য গ্রামের মানুষ ছুটে আসেন তাঁর কাছে।

জয়ের বাবা জানান, সাত বছর আগে মাত্র ১২ হাজার টাকা দিয়ে একটি স্মার্টফোন কিনে দিয়েছিলেন ছেলেকে। সেই ফোনেই আজ বিশ্বের খবর জানে জয়, লেখে আবেদনপত্র, শেখে নতুন নতুন প্রযুক্তির কাজ। পরিবারের স্বপ্ন, সামান্য সহযোগিতা পেলে আরও অনেক দূর এগিয়ে যাবে তাদের ছেলে।

“পা দিয়ে মোবাইল চালাতে চালাতে ও এখন অনেক কিছু শিখেছে। গ্রামের মানুষও বিভিন্ন অনলাইন কাজের জন্য ওর কাছে আসে। একটা ল্যাপটপ পেলে ও আরও ভালো করতে পারবে।”ছেলের মেধা নিয়ে গর্বিত মা। “আমার ছেলে আমাদের বোঝা নয়। মানুষ ওর কাছে কাজ শিখতে আসে। শুধু একটা ভালো ব্যবস্থা হলে ও নিজের পায়ে দাঁড়াতে পারবে।”

স্থানীয়দের মতে, জয় শুধু একজন প্রতিবন্ধী তরুণ নন, তিনি গ্রামের অনুপ্রেরণা। তাঁর মেধা ও দক্ষতার যথাযথ বিকাশে সরকারি ও বেসরকারি সহায়তা জরুরি বলে মনে করেন তারা।

“আমি কারও বোঝা হয়ে বাঁচতে চাই না। একটা ল্যাপটপ আর ভালো একটি স্মার্টফোন পেলে ডিজিটাল মার্কেটিং ও ফ্রিল্যান্সিং করে নিজের আয়ে পরিবারকে সহযোগিতা করতে পারব। প্রধানমন্ত্রী, তারেক রহমান এবং আমাদের এমপি এস এম জিলানী স্যারের কাছে আমার এই আবেদন।”

“ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা বলে তাকে একটি ল্যাপটপ ও একটি স্মার্টফোন দেওয়ার চেষ্টা করব।”

একটি ল্যাপটপ, একটি স্মার্টফোন আর সামান্য সহায়তা-এই ছোট্ট চাওয়াই বদলে দিতে পারে জয় হালদারের জীবন। সমাজ ও রাষ্ট্রের সহযোগিতা পেলে, শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে ডিজিটাল দুনিয়ায় সফলতার নতুন গল্প লিখতে চান এই যুবক।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

মন্তব্য করুন...

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর