গোপালগঞ্জে ১০ দিনের ব্যবধানে সবজির দাম ২ থেকে ৩ গুন বেড়েছে

নির্বাচিত সংবাদ

মোহনা নিউজ :
মোহনা নিউজ :https://www.dainikmohona.com/
Dainik Mohona News Portal brings the latest news, updates, and events from Gopalganj city, Bangladesh. Stay informed with trusted local coverage.
- Advertisement -

গত ১০ দিনের ব্যবধানে সবজির দাম দ্বিগুণ থেকে তিনগুণ পর্যন্ত  বৃদ্ধি পেয়েছে । বাজারে এখন  ৬০ টাকা কেজি দরের নীচে কোন সবজি যাওয়া যাচ্ছে না  । মাছের দামও ধরাছোঁয়ার বাইরে। চাষের পাঙাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ প্রায় সব ধরনের মাছের দাম বেড়েছে। এতে দিনমজুর, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের মানুষ চরম বিপাকে পড়েছেন । তারা সংসার চালাতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন । 

শুক্রবার (২৪ জুলাই)  গোপালগঞ্জ  শহরের বড় বাজারের কাঁচা ও মাছ বাজার ঘুরে দেখা যায়, প্রায় প্রতিটি সবজির দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়েছে। কয়েকদিন আগেও ঢ্যাঁড়শ ২০ থেকে ২৫ টাকা কেজি বিক্রি হতো। সেই ঢ্যাঁড়শ বিক্রি হচ্ছে ৬০ টাকা কেজি দরে। একইভাবে মিষ্টিকুমড়া প্রতিকেজি  ২৫/৩০ টাকা থেকে বেড়ে  ৬০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে । কচুরমুখী ৫০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা, উচ্ছে  ৫০ থেকে  বেড়ে ৮০ টাকা, কাকরোল ৩০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা কেজি হয়েছে। ধুন্দল ২৫ থেকে বেড়ে ৬০ টাকা, ঝিঙে ৩০ থেকে বেড়ে ৮০ টাকা এবং পটল  ৩৫ থেকে বেড়ে  ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।

মাঝারি আকারের একটি লাউ ৩০ থেকে ৪০ টাকায় পাওয়া যেত, এখন কিনতে হচ্ছে ৮০ থেকে ১শ’ টাকায়। বাজারে তুলনামূলক কম দামের সবজি হিসেবে শুধু পেঁপেই পাওয়া যাচ্ছে, যার দাম কেজিপ্রতি ৪০ টাকা। কাঁচামরিচ বিক্রি হচ্ছে ২শ’ টাকা কেজি দরে; যা  ১০ দিন  আগে  ৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল ।

সবজির পাশাপাশি মাছের বাজারও ঊর্ধ্বমুখী। বাজারে এক কেজি ওজনের ইলিশ প্রায় ৩ হাজার টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে । আর ৩৫০ থেকে ৪০০ গ্রাম ওজনের ছোট ইলিশের দাম উঠেছে  ১ হাজার ৫ শ’ টাকায়।  এছাড়া পাঙাশ, রুই, কাতলা, সিলভার কার্পসহ বিভিন্ন মাছের দামও কেজিতে ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। রুই মাছ বিক্রি হচ্ছে ৫শ’ থেকে ৬শ’ টাকা দরে । যা ক’দিন আগে ছিল  ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকার মধ্যে। ফলে মাছও এখন অনেক পরিবারের ক্রয় ক্ষমতার বাইরে চলেগেছে ।

মাছ বিক্রেতা জহর বলেন, যেসব জেলা থেকে চাষের মাছ আসে, সেখানে বৃষ্টিতে মাছ ভেসে গেছে। এ সময়ে বাজারে ইলিশ মাছের আমদানী বৃদ্ধি পায় ।দেশী মাছের দাম কমে। গত সপ্তাহে ইলিশের দাম যতটুকু কমেছিল, এ সপ্তাহে তার চেয়ে বেশি বেড়েছে। তাই সব মাছের বাজার চড়া।   
ক্রেতা সাইদুল ইসলাম শোভন বলেন , আমরা বাজারে এসে বাজেট ঠিক রাখতে পারছি না। প্রয়োজনীয় পণ্য না কিনেই বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। এ অবস্থায় আমাদের মতো নিম্ন আয়ের মানুষ ঠিকমতো বাজার করতে পারছে না ।

মাছ ক্রেতা মো:  এহসানুল আলম  আক্ষেপ করে বলেন, ইলিশ আমাদের ধরাছোয়ার বাইরে চলে গেছে। চাষের মাছের দামও  বাড়েছে । আগে  ২/৩ দিন মাছ কিনতাম, এখন  ১/২দিন কিনতে পারছি । আয় বাড়েনি, কিন্তু প্রতিদিনই বাজারের  পণ্যের দাম বাড়ছে। এতে আমাদের ক্রয় ক্ষমতা কমছে। আমাদের মতো সাধারণ মানুষের কষ্টের কথা কেউ ভাবছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন । 

সবজি ব্যবসায়ী আলিম, কিবরিয়া, জাফর  জানিয়েছেন, অব্যাহত বৃষ্টিতে  সবজি নষ্ট হয়েছে । ফলে  আড়তে পর্যাপ্ত সবজির আমদানি হচ্ছে না। চাহিদার তুলনায় সরবরাহ অনেক কমেছে । এ কারণেই প্রায় সব ধরনের সবজির দাম বেড়েছে।  প্রতিবছর বর্ষাকালে  সবজির দাম সাধারণত একটু বৃদ্ধি পায় । এ বছর টানা বৃষ্টিতে  পরিস্থিতি  বেশি খারাপ । 

সবজি বিক্রেতা রমজান শেখ বলেন , আমরা  সবজির দাম বাড়াই না। প্রতিদিন যেমন দামে কিনি, সামান্য লাভ ধরে বিক্রি করি।  আড়ত থেকেই বেশি দামে সবজি কিনতে হচ্ছে। তাই বাধ্য হয়ে একটু বাড়তি দামে বিক্রি করছি।

 কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের গোপালগঞ্জ খামারবাড়ির  উপপরিচালক ড. মো. মামুনুর রহমান বলেন,  চলতি জুলাই মাসে জেলায়  স্বভাবিকের চেয়ে অধিক বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে জেলার ৮৫ হেক্টর জমির সবজি ক্ষেত ডুবে নষ্ট হয়েছে। এরমধ্যে রয়েছে উচ্ছে, লাউ, ধুন্ধল, কুমড়া, পেপে, পটল, ঢ্যাড়শ, মরিচ,বরবটি সবজি ক্ষেত। ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছেন ১ হাজার ৩ শ’ ৬০ সবজি চাষী। স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ বাজারে একবারেই কমে গেছে। তাই সবজির বাজার তেতে উঠেছে ।

গোপালগঞ্জ  জেলা কৃষি বিপণন কর্মকর্তা  আরিফ হোসেন  বলেন, মাছ ও সবজির বাজার নিয়ন্ত্রণে আমরা নিয়মিত মনিটরিং অব্যাহত রেখেছি । বাজারে স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত সবজির সরবরাহ কমেছে। তাই বাইরের জেলা থেকে  গোপালগঞ্জে অধিকাংশ সবজি আসছে বলে জানতে পেরেছি। তারপরও অতি মুনাফা না করে ক্রয় এবং বিক্রয় মূল্যের মধ্যে সমন্বয় রেখে মাছ-সবজি বিক্রি করতে বিক্রেতাদের পরামর্শ দিয়েছি। 

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর