চাকরির নিরাপদ জীবন ছেড়ে মানুষের সেবায় নিজেকে নিয়োজিত করেছেন গোপালগঞ্জের মুকসুদপুরের তরুণ ব্যবসায়ী তপন ঘোষ। নিজের উপার্জনের টাকা, শ্রম আর সময় ব্যয় করে সংস্কার করছেন ভাঙা রাস্তা, মেরামত করছেন নষ্ট টিউবওয়েল, পরিচ্ছন্ন করছেন শিক্ষা ও ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান। পাশাপাশি করছেন বৃক্ষরোপণও। মানুষের পাশে দাঁড়ানোর এমন উদ্যোগে স্থানীয়দের কাছে তিনি এখন পরিচিত ‘মানবতার ফেরিওয়ালা’ হিসেবে।
কখনও হাতে কোদাল, কখনও হাতুড়ি। আবার কখনও ভ্যানে করে ছুটছেন এক গ্রাম থেকে আরেক গ্রামে। কোথাও ভাঙা রাস্তা, কোথাও নষ্ট টিউবওয়েল, আবার কোথাও সাঁকো কিংবা কালভার্টের সংযোগ সড়ক-মানুষের দুর্ভোগ দেখলেই নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী সমাধানের চেষ্টা করেন তপন ঘোষ।
গোপালগঞ্জের মুকসুদপুর উপজেলার বনগ্রামের বাসিন্দা এই তরুণের শিক্ষাজীবন শেষ হয় বিএসসি-ইন-টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ারিং ডিগ্রি অর্জনের মধ্য দিয়ে।এরপর গাজীপুর ও নারায়ণগঞ্জের বিভিন্ন টেক্সটাইল প্রতিষ্ঠানে চাকরি করেন তিনি। কয়েক বছর চাকরি করার পর ২০১৬ সালে ফিরে আসেন গ্রামে। যুক্ত হন বাবার ব্যবসায়।
গত এক বছরে প্রায় আড়াই শতাধিক স্থানে বিভিন্ন ধরনের সংস্কারকাজ করেছেন তপন। শুধু রাস্তা নয়, স্কুল-কলেজ, মসজিদ, মন্দির ও মাদ্রাসার নষ্ট টিউবওয়েলও মেরামত করেছেন নিজের অর্থে। কোথাও প্রয়োজন হলে শ্রমিক নিয়োগ করেছেন, আবার কোথাও নিজেই নেমে পড়েছেন কাজে।
“আমরা সমস্যার কথা বললে উনি এসে নিজে দেখে যান। তারপর নিজের টাকা দিয়ে প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র কিনে কাজ করে দেন। এভাবে নিজের টাকা খরচ করে মানুষের জন্য কাজ করা সত্যিই বিরল।”
ঢাকা-বরিশাল মহাসড়কের দিগনগর ব্রিজের উত্তর পাশে বড় একটি গর্ত সংস্কারের মধ্য দিয়ে শুরু হয় তার বড় ধরনের জনকল্যাণমূলক কাজ। এরপর গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুরের বিভিন্ন এলাকায় রাস্তা, কালভার্টের সংযোগ সড়ক এবং বাঁশের সাঁকো সংস্কার করেছেন তিনি।
সমাজ সেবক তপন ঘোষ বলেন “যেখানে মানুষের কষ্ট দেখি, সেখানে নিজের সামর্থ্য অনুযায়ী কাজ করার চেষ্টা করি। মানুষের মুখের হাসিই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।”
জনসেবার পাশাপাশি পরিবেশ রক্ষাতেও রয়েছে তপনের উদ্যোগ। চলতি বর্ষায় বিভিন্ন ফলদ ও ঔষধি গাছের প্রায় পাঁচ শতাধিক চারা রোপণ করেছেন তিনি।
