দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে অবশেষে পদ্মা সেতু হয়ে ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চালু হলো সরাসরি ট্রেন চলাচল। সোমবার বিকেলে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। সন্ধ্যায় ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছালে ফুল দিয়ে স্বাগত জানান হাজারো মানুষ। ঢাকার সঙ্গে সরাসরি ট্রেন যোগাযোগ চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছেন স্থানীয়রা। তবে সন্ধ্যার পরিবর্তে সকালে ট্রেন ছাড়ার সময় নির্ধারণের দাবি জানিয়েছেন তারা।
২০১৮ সালে গোপালগঞ্জে রেললাইন স্থাপনের পর একই বছর গোপালগঞ্জ-রাজশাহী রুটে চালু হয় ‘টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেস’। তবে গোপালগঞ্জবাসীর দীর্ঘদিনের স্বপ্ন ছিল, পদ্মা সেতু হয়ে সরাসরি ট্রেনে রাজধানী ঢাকার সঙ্গে যুক্ত হবে।অবশেষে সেই অপেক্ষার অবসান হলো আজ। সোমবার বিকেল ৩টা ১৫ মিনিটে রাজধানীর কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করে বহুল প্রতীক্ষিত ‘অভিযাত্রী কমিউটার’। পদ্মা সেতু হয়ে সন্ধ্যা ৭টা ১০ মিনিটে গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে পৌঁছায় ট্রেনটি।
এদিকে, ট্রেন আসার খবর পেয়ে আগে থেকেই গোপালগঞ্জ রেলস্টেশনে জড়ো হন কয়েক হাজার মানুষ। ট্রেনটি স্টেশনে পৌঁছালে ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো হয় যাত্রীদের। দীর্ঘদিনের প্রত্যাশিত সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেন স্থানীয়রা।সরাসরি রেল যোগাযোগ চালু হওয়ায় শুধু রাজধানী ঢাকার সঙ্গে গোপালগঞ্জের যোগাযোগই সহজ হচ্ছে না, এর সুফল মিলবে জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে। প্রথম দিন ট্রেনে করে ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জ আসা যাত্রীদের চোখে-মুখেও ছিল আনন্দের ছাপ।

রেল কর্তৃপক্ষ সূত্রে জানাগেছে প্রতিদিন বিকেল ৩টা ১৩ মিনিটে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনটি ঢাকা থেকে গোপালগঞ্জের উদ্দেশে ছেড়ে যাবে। ট্রেনটি গোপালগঞ্জে পৌঁছাবে সন্ধ্যা ৬টা ৪৫ মিনিটে। একই দিন ফিরতি ট্রেনটি গোপালগঞ্জ থেকে সন্ধ্যা ৭টা ২৫ মিনিটে ছেড়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হবে এবং রাজধানীতে পৌঁছাবে রাত ১০টা ২৫ মিনিটে। তবে ট্রেনের সময়সূচি পরিবর্তনের দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।
গোপালগঞ্জ রেলস্টেশননের স্টেশন মাস্টার রত্না বৈদ্য জানান, প্রাথমিকভাবে ৮টি কোচ নিয়ে ৬০৯টি আসনের ব্যবস্থা থাকছে ‘অভিযাত্রী কমিউটার’ ট্রেনে। শনিবার ছাড়া সপ্তাহের ছয় দিন ঢাকা-গোপালগঞ্জ-ঢাকা রুটে চলাচল করবে ট্রেনটি।
গোপালগঞ্জ-০১ আসনের সংসদ সদস্য সেলিমুজ্জামান সেলিম, গোপালগঞ্জ-০২ আসনের সংসদ সদস্য ডা. কে. এম. বাবর এবং গোপালগঞ্জ-০৩ আসনের সংসদ সদস্য এস. এম. জিলানী বলেন, শুধু রেল যোগাযোগের উন্নয়ন নয়, জেলার মানুষের জীবনমান উন্নয়ন, অবকাঠামোগত অগ্রগতি এবং সার্বিক সমৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার প্রয়োজনীয় উদ্যোগ গ্রহণে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।
গোপালগঞ্জের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নেও নতুন আশার আলো দেখছেন স্থানীয়রা। তাদের প্রত্যাশা, এই রেল যোগাযোগ জেলার ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা, চিকিৎসা ও পর্যটনসহ সামগ্রিক উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।
