Home ক্যারিয়ার গোবিপ্রবিতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি: শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন দৃষ্টান্ত

গোবিপ্রবিতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি: শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন দৃষ্টান্ত

গোবিপ্রবিতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি: শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন দৃষ্টান্ত
গোবিপ্রবিতে মেধাবী ও অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি: শিক্ষার অগ্রযাত্রায় নতুন দৃষ্টান্ত

গোপালগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (গোবিপ্রবি) দেশের উচ্চশিক্ষা অঙ্গনে একটি উজ্জ্বল নাম। সম্প্রতি এই বিশ্ববিদ্যালয় ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বড় আকারে মেধাবী ও আর্থিকভাবে অসচ্ছল শিক্ষার্থীদের জন্য বৃত্তি প্রদান করেছে। এই উদ্যোগ শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার আগ্রহ বাড়াতে এবং নতুন উদ্যমে এগিয়ে যেতে উৎসাহিত করবে।

বৃহপরিসরে বৃত্তি প্রদান: বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের যুগান্তকারী পদক্ষেপ

সোমবার দুপুর ১২টায় গোবিপ্রবির একাডেমিক ভবনের মুক্তমঞ্চে অনুষ্ঠিত এই বৃত্তি প্রদান অনুষ্ঠানে মোট ১০৯১ জন শিক্ষার্থী বৃত্তি পান। এর মধ্যে প্রত্যেক সেমিস্টারের প্রথম থেকে পঞ্চম মেধাক্রমে থাকা ৮০০ জন মেধাবী শিক্ষার্থী এবং আর্থিকভাবে অস্বচ্ছল ২৯১ জন শিক্ষার্থী এই বৃত্তির সুবিধা পান।

ছাত্র পরামর্শ ও নির্দেশনা দপ্তরের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজিমউদ্দীন খান।

শিক্ষায় মেধার স্বীকৃতি: প্রধান অতিথির বার্তা

অধ্যাপক তানজিমউদ্দীন খান বলেন, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন যে মেধার স্বীকৃতি দিতে এমন পদক্ষেপ নিয়েছে, তা প্রশংসার দাবি রাখে। বিজ্ঞান প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় হিসেবে যেভাবে গুণগত মান বজায় রাখা উচিত, পূর্বে তা উপেক্ষিত ছিল। তবে বর্তমান প্রশাসনের আন্তরিকতা এই অচলাবস্থা ভেঙে দেবে বলে আশা করছি।”

তিনি আরও বলেন, ভুলে গেলে চলবে না, ব্যক্তিগত স্বার্থ কখনোই প্রতিষ্ঠান দেশের জন্য ভালো নয়। আমরা চাই, মেধাবী শিক্ষার্থী যোগ্য ব্যক্তিরাই বিশ্ববিদ্যালয়ে শিক্ষক কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান। এতে জ্ঞানচর্চা গবেষণা এগিয়ে যাবে।”

উপাচার্যের দৃঢ় প্রত্যয়: বি গ্রেড থেকে গ্রেডে উন্নীত করার লক্ষ্যে

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্যে উপাচার্য অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর বলেন, আমরা যখন দায়িত্ব গ্রহণ করি, তখন বিশ্ববিদ্যালয়ের নানা সমস্যার পাহাড় ছিল। সেই জটিলতা কাটিয়ে উঠতে আমরা একের পর এক উদ্যোগ নিয়েছি। মেধাবৃত্তি প্রদানের জন্য এবারই সর্বোচ্চ বাজেট ধরা হয়েছে, যা ২১ লাখ টাকারও বেশি। এর আগে ভাইস চ্যান্সেলর’অ্যাওয়ার্ড স্বনির্ভর কর্মসূচি চালু করেছি।”

তিনি আরও যোগ করেন, আমরা ইউজিসির সহযোগিতা চাই, যাতে শিক্ষা, গবেষণা অবকাঠামোগত উন্নয়ন ত্বরান্বিত হয়। এর মাধ্যমে গোবিপ্রবি ‘বি গ্রেড’ থেকে ‘গ্রেড’ বিশ্ববিদ্যালয়ে রূপান্তরিত হবে।”

উপ-উপাচার্য ট্রেজারারের শুভেচ্ছা বার্তা

বিশেষ অতিথি উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. সোহেল হাসান শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, আজ যারা মেধার কারণে বৃত্তি পেল, তারা যেন থেমে না যায়। এটাই তাদের সাফল্যের শুরু।”

ট্রেজারার অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ নাজমুল আহসান বলেন, মেধাবৃত্তি হয়তো অর্থের পরিমাণে ছোট, কিন্তু এর তাৎপর্য অসীম। এই স্বীকৃতিই শিক্ষার্থীদের সামনে এগিয়ে যেতে অনুপ্রাণিত করবে।”

জেলা প্রশাসক পুলিশ সুপারের মতামত

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, এই বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা দেশ-বিদেশে নিজেদের মেধার স্বাক্ষর রাখছে। তাদের গবেষণার মান উন্নত করতে সরকার ইউজিসিকে সহায়তা করার আহ্বান জানাই।”

পুলিশ সুপার মো. মিজানুর রহমান বলেন, মেধাবৃত্তি শিক্ষার্থীদের মধ্যে সুস্থ প্রতিযোগিতা তৈরি করবে, যা তাদের দক্ষ নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলবে।”

শহিদদের স্মরণ অতিথি সংবর্ধনা

অনুষ্ঠান শুরুর আগে জুলাই শহিদদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। পরে অতিথিদের হাতে শুভেচ্ছা স্মারক তুলে দেওয়া হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল অনুষদের ডিন, বিভাগীয় সভাপতি, শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here