‘স্বাস্থ্য আগে, সম্পদ পরে-ওষুধি গাছ লাগান ঘরে ঘরে’ স্লোগানকে সামনে রেখে গোপালগঞ্জে ব্যতিক্রমী উদ্যোগ নিয়েছেন মো. দেলোয়ার হোসেন। পেশায় তিনি গোপালগঞ্জ জেলার টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসারের কার্যালয়ের সিএ পদে কর্মরত। এর আগে জেরা প্রশাসকের কার্যালয়ে দীর্ঘদিন সিএ পদে চাকরির পাশাপাশি নিজের অর্থ ও বন্ধুদের সহযোগিতায় ৮ বছরে জেলায় লক্ষাধিক ওষুধি গাছ রোপণ করেছেন তিনি। তাঁর স্বপ্ন, শুধু গোপালগঞ্জ নয়, বৃহত্তর ফরিদপুরসহ সারা দেশকে ওষুধি গাছের সবুজ ছায়ায় সমৃদ্ধ করা।
তাঁর দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১৮ সাল থেকে এ পর্যন্ত অন্ততঃ এক লাখ ওষুধি গাছ রোপণ করেছেন তিনি। এসব গাছের মধ্যে রয়েছে আমলকি, হরিতকি, বহেড়া, নিশিন্দা, অশোক, বাসক, অর্জুন, তুলসী, অ্যালোভেরা, পুদিনা সহ বিভিন্ন প্রজাতির ওষুধি গাছ।
শুধু চারা রোপণ করেই দায়িত্ব শেষ করেন না দেলোয়ার। কোথাও ফাঁকা জায়গা পেলেই সেখানে গাছ লাগানোর চেষ্টা করেন। পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দাদের গাছের পরিচিতি, ব্যবহার ও উপকারিতা সম্পর্কে জানান। তাঁর দাবি, তিনি নিয়মিত আমলকি, হরিতকি ও বহেড়াসহ বিভিন্ন উপকারী ফল মানুষের মধ্যে বিতরণ করেন এবং এসব গাছের বিষয়ে সচেতনতা তৈরি করেন।
নিজের অভিজ্ঞতা ও গাছের গুণাগুণ নিয়ে ‘সুস্বাস্থ্যের যাদু’ নামে একটি বইও লিখেছেন তিনি। দেলোয়ারের ভাষ্য, বইটির প্রথম সংস্করণ পাঠকদের মধ্যে সাড়া ফেলেছে এবং বর্তমানে দ্বিতীয় সংস্করণ পাওয়া যাচ্ছে। বইটির মাধ্যমে সাধারণ পাঠকেরা ওষুধি উদ্ভিদ ও ইউনানি চিকিৎসা সম্পর্কে ধারণা পাচ্ছেন বলে মনে করেন তিনি। এ উদ্যোগের স্বীকৃতি হিসেবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে সম্মাননা স্মারকও পেয়েছেন।
দেলোয়ার হোসেনের লক্ষ্য এখন আরও বড়। তিনি বলেন, ভবিষ্যতে বৃহত্তর ফরিদপুরসহ দেশের বিভিন্ন এলাকায় এ কার্যক্রম ছড়িয়ে দিতে চান। তাঁর প্রত্যাশা, মানুষের বাড়ির আঙিনা, রাস্তার পাশ ও অব্যবহৃত জায়গায় ওষুধি গাছ বেড়ে উঠবে। গাছের ছায়া, ফল ও পরিবেশগত সুফল মানুষের জীবনকে সমৃদ্ধ করবে।
নিজের সীমিত সামর্থ্যকে কাজে লাগিয়ে দেলোয়ার যে উদ্যোগ নিয়েছেন, তা বৃক্ষ রোপণ ও পরিবেশ সচেতনতা বৃদ্ধিতে অনুপ্রেরণা হতে পারে। তাঁর স্বপ্নের বাংলাদেশে সবুজের বিস্তার ঘটবে, আর মানুষও বুঝবে-গাছ লাগানো মানে শুধু একটি চারা মাটিতে পুঁতে দেওয়া নয়, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি সুন্দর পরিবেশ গড়ে তোলা।
