Home গোপালগঞ্জ সংবাদ গোপালগঞ্জে অটোরিক্সা চালক আবির হত্যার রহস্য উদঘাটন

গোপালগঞ্জে অটোরিক্সা চালক আবির হত্যার রহস্য উদঘাটন

০
গোপালগঞ্জে অটোরিক্সা চালক আবির হত্যার রহস্য উদঘাটন

ব্যাটারী চালিত রিক্সা ছিনতাই করতে গোপালগঞ্জে আবির সাহাকে (১৫) ইয়াবা সেবনের পর শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়। তারপর ব্যাটারির এসিডে তার মুখ ঝলসে দেওয়া হয়। এরপর রিক্সা ছিনতাই করে পার্টস বিভিন্ন জায়গায় বিক্রি করে দেওয়া হয়।আর এ হত্যাকান্ডে আবিরের মাদকসেবী ৩ বন্ধু অংশ নেয়।

গোপালগঞ্জ জেলা পুলিশের মিডিয়া গ্রুপ থেকে শনিবার  রাতে প্রেস বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে গণমাধ্যম কর্মীদের কাছে এ তথ্য জানানো হয়েছে।  

এ সংক্রান্ত মামলায় পুলিশ গত ১২ মার্চ শহরতলীর ঘোষরচর গ্রামের মুজাহিদ শেখের ছেলে সিহাব শেখকে (২২) গ্রেফতার করে। তাকে আদালতে হাজির করে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়। সিহাব এ হত্যাকান্ডে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করে। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ একই গ্রামের নাজমুলের ছেলে সাইফুল ইসলাম শেখ ওরফে রসুল ওরফে পাইচোকে (২৫) গ্রেফতার করে। তারা আরো একজন পলাতক আসামির নাম ঠিকানা প্রকাশ করে। কিন্তু মামলার তদন্তের স্বার্থে তার নাম প্রকাশ করা হলেনা।      

ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদে আসামি সিহাব পুলিশকে আরো জানায়, আবির সাহা  হত্যাকান্ডে  জড়িত আসামি সাইদুল ইসলাম শেখ ও পলাতক অপর আসামী সকলেই বন্ধু। তারা  সবাই  মাদকে আসক্ত। বিভিন্ন সময় তারা একসাথে মাদক সেবন করত । ঘটনার দিন  গত ৩০ নভেম্বর  আবির সাহার রিক্সা ছিনতাই করতে  আসামিরা পূর্ব পরিকল্পিতভাবে  আবির সাহাকে ইয়াবা সেবনের লোভ দেখায় ।

 রিক্সা নিয়ে আবির  গোপালগঞ্জ শহরতলীর  ঘোষেরচর উত্তরপাড়া  ফিরোজ খানের  বাঁশ বাগানে যায়। রিক্সা একটু দূরে রেখে তারা সকলে মিলে ঘটনাস্থলে ইয়াবা সেবন করে। একপর্যায়ে পলাতক আসামী ইয়াবার আসর থেকে উঠে এসে  আবিরের রিক্সার ব্যাটারি খোলার চেষ্টা করে।  আবির  ব্যাটারি খোলার শব্দ পেয়ে  তার রিক্সার ব্যাটারি খুলতে বাধা দেয় ।  পলাতক আসামি তার (আবিরের) মুখ চেপে ধরে। এক পর্যায়ে  জ্যাকেটের ফিতা দিয়ে গলায় প্যাচ দিয়ে ধরে। আসামী সিহাব তার  হাত চেপে ধরে ও  অপর আসামী সাইদুল ইসলাম শেখ  পা চেপে ধরে শ্বাসরোধে আবিরকে  হত্যা করে। পরবর্তীতে পলাতক আসাসি রিক্সার ব্যাটারির এসিড ঢেলে তার (আবিরের) মুখ ঝলসে দেয়। যাতে লাশ কেউ সনাক্ত করতে না পারে। পরে তারা  রিক্সা ছিনতাই করে নিয়ে যায়। ছিনতাইকৃত রিক্সার যন্ত্রাংশ  খুলে বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করে।  বিক্রির টাকা নিজেদের মধ্যে ভাগ-বাটোরা করে নেয়। 

আসামি সিহাবের স্বীকারোক্তি ও সনাক্তমতে ছিনতাইকৃত রিক্সার ২টি ব্যাটারি  ঘোষেরচর গ্রামের মুন্নাফ শেখের ছেলে   টুলু শেখের ভ্যান থেকে  উদ্ধার করা হয়। ছিনতাইকৃত রিক্সার পার্টের বিভিন্ন অংশ ও ঘটনায়  জড়িত অপর পলাতক আসামিকে গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।

প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে আরো বলা হয়েছে, নিখোঁজের ৭ দিন পর  গত ৬ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ শহরতলীর  ঘোষেরচর উত্তরপাড়া  ফিরোজ খানের  বাঁশ বাগান থেকে পুলিশ আবির সাহার লাশ উদ্ধার করে ময়না তদন্তের জন্য আড়াই শ’ বেড জেনারেল হাসপাতাল মর্গে পাঠায় । ওই দিন রাতে আবির সাহার মা অনিতা বালা বাদী হয়ে অজ্ঞাতনামা আসামীদের বিরুদ্ধে  গোপালগঞ্জ সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। এ মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা নিযুক্ত হন ওই থানার এআই নয়ন কুমার সাহা।

ক্লুলেস এ হত্যাকান্ডের তদন্তে নেমে তদন্তকারী কর্মকর্তা তথ্য প্রযুক্তির সহায়তা নেন। তারপর তিনি জানতে পারেন হত্যাকারীরা মোবাইল ফোন ব্যবহার করে না। তাই তিনি সোর্স নিয়োগ করেন। সোর্সের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ সিহাব শেখকে গ্রেফতার করে। তারপর এ হত্যাকান্ডের রহস্য উদঘাটন করে পুলিশ ।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here