Home গোপালগঞ্জ সংবাদ মাছের সঙ্গে পুকুরে মুক্তা চাষ, গোপালগঞ্জে নতুন সম্ভাবনা

মাছের সঙ্গে পুকুরে মুক্তা চাষ, গোপালগঞ্জে নতুন সম্ভাবনা

০
মাছের সঙ্গে পুকুরে মুক্তা চাষ, গোপালগঞ্জে নতুন সম্ভাবনা

একই পুকুরে মাছের পাশাপাশি ঝিনুক চাষ করে সেখান থেকে মুক্তা উৎপাদন-গোপালগঞ্জে পরীক্ষামূলক এই উদ্যোগে মিলেছে সাফল্য। এতে প্রচলিত মাছ চাষের সঙ্গে বাড়তি আয়ের নতুন পথ তৈরি হয়েছে। তবে সরকারি সহায়তা ও বাজারব্যবস্থার সীমাবদ্ধতার কারণে সম্ভাবনাময় এই খাতটি এখনো কাঙ্ক্ষিতভাবে এগোতে পারছে না।

মৎস্য বিভাগ সূত্রে জানা গেছে, ‘দেশীয় প্রজাতির মাছ এবং শামুক সংরক্ষণ ও উন্নয়ন’ প্রকল্পের আওতায় কোটালীপাড়া উপজেলার ছয়টি পুকুরে মুক্তা উৎপাদনের উদ্যোগ নেওয়া হয়। সেখানে ৭ হাজার ৮০০টি ঝিনুকে ইমেজ প্রতিস্থাপনের মাধ্যমে চাষ শুরু করা হয়। পরীক্ষার পর এসব ঝিনুক থেকে প্রায় ১৭ হাজার ৪০০টি ইমেজ মুক্তা সংগ্রহ করা হয়।

সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা গেলে এক একর পুকুরে প্রায় ২০ হাজার ঝিনুক রাখা সম্ভব। প্রতিটি ঝিনুক থেকে উৎপাদিত মুক্তার সম্ভাব্য মূল্য ৬০০ থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত হতে পারে। এতে মাছ চাষের পাশাপাশি একই জলাশয় থেকে আরেকটি আয়ের উৎস্য তৈরি হওয়ার সুযোগ রয়েছে।

কোটালীপাড়া উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা এস এম শাহজাহান সিরাজ বলেন, মাছের সঙ্গে ঝিনুক রেখে মুক্তা উৎপাদন করা সম্ভব। ঝিনুকের জন্য আলাদা খাবারের প্রয়োজন হয় না। পানিতে প্রাকৃতিকভাবে তৈরি ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটনই এর প্রধান খাদ্য। তাই পুকুরে পর্যাপ্ত ফাইটোপ্ল্যাঙ্কটন থাকলে সেখানে মুক্তা চাষ করা যায়।

মৎস্য বিভাগের উদ্যোগে জেলার পাঁচ উপজেলা থেকে পাঁচজন করে মোট ২৫ জন উদ্যোক্তাকে নিয়ে গ্রুপ তৈরি করা হয়েছিল।তাঁদের মুক্তা চাষের ওপর প্রশিক্ষণও দেওয়া হয়। তবে প্রকল্পের মেয়াদ গত জুনে শেষ হওয়ায় বর্তমানে কোটালীপাড়ার মাত্র দুটি পুকুরে এ চাষ চালু রয়েছে।সরকারি সহায়তা অব্যাহত না থাকায় উদ্যোক্তাদের অনেকেই আগ্রহ হারাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

মৎস্য বিভাগ বলছে, ইমেজ মুক্তা তুলনামূলক কম সময়ে মাছের সঙ্গে একই পুকুরে উৎপাদন করা যায়। গোলাকার মুক্তা উৎপাদনে বেশি সময় লাগলেও ইমেজ মুক্তার ক্ষেত্রে একই জলাশয় থেকে মাছ ও মুক্তা-দুই ধরনের উৎপাদন সম্ভব। 

জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম জানান, জেলার পাঁচ উপজেলায় ১৯ হাজার ৪৮২টি পুকুর রয়েছে। এসব জলাশয়ে মুক্তা চাষের সুযোগ কাজে লাগাতে চাষিদের উৎসাহিত করা হচ্ছে।তবে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বাজার। বর্তমানে দেশের হাতে গোনা কয়েকটি ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান মুক্তা কিনছে।ফলে উৎপাদনের পর সহজে বিক্রির নিশ্চয়তা না থাকায় অনেক উদ্যোক্তা ঝুঁকি নিতে চাইছেন না।

সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, উৎপাদনের পাশাপাশি মুক্তার জন্য স্থায়ী বাজার ও বিপণনব্যবস্থা গড়ে তোলা গেলে গোপালগঞ্জে এ খাতের পরিধি বাড়তে পারে।ভবিষ্যতে মানসম্মত মুক্তা উৎপাদন ও রপ্তানির সুযোগ তৈরি হলে-এটি স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন একটি সম্ভাবনাময় খাত হিসেবে ভূমিকা রাখতে পারে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here