গরম বাতাসেই ধান ক্ষেতের ফসল নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য কৃষি বৈজ্ঞানিকদের

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

স্টাফ রিপোর্টার।।

গরম বাতাসেই গোপালগঞ্জ জেলার ৪ উপজেলার ১০ ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমির ধান (দুধ অবস্থায়) নষ্ট হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ধান গবেষনা ইনিস্টিটিউটের বৈজ্ঞানিকগন। গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. অরবিন্দ কুমার রায় ওই বৈজ্ঞানিকদের উদ্ধৃতি দিয়ে সাংবাদিকদেরকে একথা বলেন।

তিনি বলেন, জেলার টুঙ্গিপাড়া, কোটালীপাড়া এবং কাশিয়ানীতে এক রাতের মধ্যে শত শত হেক্টর জমির ধান সবুজ থেকে সাদা হয়ে নষ্ট হয়ে গেছে ধানের শীষ(দুধ অবস্থায়)।কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন লু হাওয়া বা গরম বাতাসের কারনে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে।জেলার অন্ততঃ ১০টি ইউনিয়নে এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে কৃষি বিভাগ জানিয়েছে।

হঠাৎ করে এ ধরনের ঘটনায় একদিকে যেমন কৃষকেরা হতবাক হয়েছেন আবার অন্যদিকে, কৃষি বিভাগও অবাক হয়েছেন এধরনের ঘটনায়। কেননা এর আগে এ ধরনের ঘটনা আগে কোথাও ঘটেছে বলে কারো জানা নেই। যে কারনে গোপালগঞ্জ কৃষি অফিস থেকে বিষয়টির ব্যাপারে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়ার পরামর্শের জন্য ফরিদপুরের ভাঙ্গায় অবস্থিত ধান গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তাদের আহবান করেন। সে অনুযায়ী আজ মঙ্গলবার ধান গবেষণা ইনিষ্টিটিউটের ভাঙ্গা(ব্রি)-এর প্রধান বৈজ্ঞানীক কর্মকর্তা মোঃ একলাচুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর ফরিদপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক কৃষিবিদ মনোজিৎ কুমার মল্লিক, গোপালগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ ড. অরবিন্দ কুমার রায় ক্ষতিগ্রস্থ এলাকা পরিদর্শণ করেছেন।

তারা পরিদর্শন শেষে গরম বাতাসের কারনেই যে সব ধান কেবলমাত্র দুধ অবস্থায় বা ফ্লাওয়ারিং অবস্থায় রয়েছে সেসব ধানই ক্ষতিগ্রস্থ হয়েছে বলে জানান। তাঁরা কৃষকদেরকে ধানের গোড়ায় পানি দেয়ার পরামর্শ দিয়েছেন। তাতে যেসব ধান ফ্লাওয়ারিং অবস্থায় রয়েছে সেগুলো বাচানো সম্ভব বলে জানিয়েছেন।

উল্লেখ্য, গত রোববার রাতে ৩০ মিনিটের মতো জেলার বিভিন্ন এলাকায় গরম বাতাস বয়ে যায়। আর এতে ক্ষেতে উঠতি বোরো ধান যে গুলেতে কেবল মাত্র ধানের শীষে “দুধ” এসেছে সেই ধান সব চিটায় পরিনত হয়ে সাদা বর্ন ধারন করে। আর এতে জেলার শত শত কৃষকেরা কয়েক কোটি টাকার ক্ষতির সম্মূখীন হন।

জানা গেছে, জেলার ৪টি উপজেলার অন্ততঃ ১০টি ইউনিয়নের উপর দিয়ে গরম হাওয়া বয়ে যায়। আধা ঘন্টা ধরে চলা এ গরম হাওয়ায় কোটালীপাড়া উপজেলার কান্দি, পিঞ্জুরী, হিরণ ও আমতলী ইউনিয়ন, টুঙ্গিপাড়া উপজেলার গোপালপুর, ডুমুরিয়া, পাটগাতি ও বর্নি ইউনিয়ন, কাশিয়ানীর রাতইল ইউনিয়ন, সদর উপজেলার লতিফপুর ইউনিয়নের শত শত হেক্টর জমির বোরো ধান নষ্ট হয়ে গেছে। কৃষকেরা আগামী বছর কি খেয়ে বাচঁবে তা নিয়ে তাদের মধ্যে হতাশা বিরাজ করছে। রোববার বিকেলেও কৃষকেরা তাদের ধান ক্ষেতে সবুজ দেখে আসলেও সকালে জমির আলে গিয়ে দেখেন সব ধান সাদা হয়ে গেছে। কিছুই বুঝে উঠতে পারেননি। কিভাবে কি হলো।

এ বছর জেলায় ৭৮ হাজার হেক্টর জমিতে বোরো ধানের আবাদ করা হয়েছে বলে জেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানাগেছে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর