আজ সাংবাদিক নির্মল সেনের ৯৫তম জন্মদিন

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

বিশিষ্ট সাংবাদিক, কলামিষ্ট , বাম রাজনীতির পুরোধা , বীর মুক্তিযোদ্ধা নির্মল  সেনের ৯৫ তম জন্মদিন আজ রবিবার। ১৯৩০ সালের ৩ আগস্ট তিনি গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার দিঘীরপাড় গ্রামে এক সম্ভ্রান্ত পরিবারে জন্ম গ্রহণ করেন। তার বাবার নাম সুরেন্দ্রনাথ সেন গুপ্ত । মাতার নাম লাবন্য প্রভা সেন গুপ্ত। পাঁচ ভাই ও তিন বোনের মধ্যে নির্মল সেন পঞ্চম । নির্মল সেনের পিতা  সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত কোটালীপাড়া উপজেলার শ্রেষ্ঠ বিদ্যাপীট সরকারি কোটালীপাড়া ইউনিয়ন ইনষ্টিটিউশনের গনিত শিক্ষক ছিলেন। এর আগে সুরেন্দ্র নাথ সেন গুপ্ত ঢাকার ইষ্ট বেঙ্গল ইনষ্টিটিউটে শিক্ষকতা করতেন।

দেশ বিভক্তির পরে নির্মল সেনের পিতা মাতা অন্য ভাই বোনদেরকে সঙ্গে নিয়ে কলকাতা চলে যায়। জন্মভূমির প্রতি অকুন্ঠ ভালবাসার কারণে তিনি এদেশে থেকে যান। নির্মল সেন বড় হয়েছেন ঝালকাঠি জেলায় তার পিসির বাড়ীতে। তিনি ঝালকাঠি জেলার কলসকাঠি বিএম একাডেমি থেকে ১৯৪৪ সালে মাত্র ১৪ বছর বয়সে ম্যাট্রিক পাস করেন। পিসির বাড়ীতে যাওয়ার আগে নির্মল সেন গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জিটি স্কুলে চতুর্থ শ্রেণিতে এক বছর লেখা পড়া করেন। তিনি বরিশাল বিএম কলেজ থেকে আইএসসি এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে বিএ ও মাষ্টার্স পাস করেন।

নির্মল সেনের রাজনৈতিক জীবন শুরু হয় ‘ভারত ছাড়ো’ আন্দোলনের মাধ্যমে স্কুল জীবন থেকে। কলেজ জীবনে তিনি অনুশিলন সমিতির সক্রিয় সদস্য ছিলেন। পরবর্তীতে তিনি আরএসপি’তে যোগ দেন। দীর্ঘ দিন তিনি শ্রমিক কৃষক সমাজবাদী দলের সাধারন সম্পাদক ছিলেন। রাজনীতি করতে গিয়ে নির্মল সেনকে জীবনের অনেকটা সময় জেলে কাটাতে হয়েছে।

১৯৬১ সালে দৈনিক ইত্তেফাক পত্রিকায় লেখালেখির মধ্যে দিয়ে নির্মল সেন তার সাংবাদিক জীবন শুরু করেন। তার পর দৈনিক আজাদ , দৈনিক পাকিস্তান , দৈনিক বাংলা পত্রিকায় সাংবাদিকতা করেন। তিনি বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়নের সভাপতি ছিলেন। এ ছাড়াও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা বিষয়ে অতিথি শিক্ষক হিসেবে শিক্ষকতা করেছেন।

লেখক হিসেবেও নির্মল সেনের যথেষ্ট সুনাম রয়েছে। তার লেখা ‘পূর্ব পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশ’ , ‘মানুষ সমাজ রাষ্ট্র’ , ‘বার্লিন থেকে মষ্কো’ , ‘মা জন্মভূমি’ , ‘স্বাভাবিক মৃত্যুর গ্যারান্টি চাই’ ,’আমার জীবনে ৭১এর যুদ্ধ’, ‘আমার জবান বন্ধি’ উল্লেখ যোগ্য ।

নির্মল সেন ২০০৩ সালে ব্রেইন স্ট্রোকে আক্রান্ত হন। এর পর দেশে বিদেশে অনেক চিকিৎসার পরে ২০১৩ সালে ৮ জানুয়ারি পরলোকগমন করেন। নির্মল সেনের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী তার মরদেহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে দান করা হয়েছে। 

নির্মল সেনের ভাতিজা রতন সেন কংকন বলেন-এ বছর ‘প্রেসক্লাব-কোটালীপাড়া ও নির্মল সেন স্মৃতি সংসদ’  কোটালীপাড়া উপজেলা পরিষদ হলরুমে জেঠুর জন্মদিন পালন উপলক্ষে আলোচনা সভা এবং কেক কাটা অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।আমরা পারিবারিক ভাবে তার জন্মদিনে কোন অনুষ্ঠান করবো না।

তিনি আরো বলেন, সাংবাদিক নির্মল সেন সার্বজনীন।আমারা চাই তিনি তার কর্মের মাধ্যমে এদের সাধারণ মানুষ ও সাংবাদিকদের মাঝে বেঁচে থাক।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর