গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ার সেই গাচতরায় টাই হওয়া হাজী শামচুল হক শেষ পর্যন্ত ছেলের বাড়িতে ঠাই পেয়েছে।কোটালীপাড়া উপজেরা নির্বাহী কর্মকর্তার নির্দেশে শেষ পর্যন্ত বৃদ্ধ বাবাকে ঘরে উঠাতে বাধ্য হয়েছে ছেলে।
সম্প্রতি বড় মেয়ে মায়া বেগমের বাড়িতে ছিলেন শামসুল হক। কিন্তু স্বামীর অসুস্থতা এবং প্রতিবন্ধী ছোট বোনের দেখাশোনার কথা জানিয়ে বাবাকে আর রাখতে অপারগতা প্রকাশ করেন মায়া। গতকাল মঙ্গলবার ৯০ বছর বয়সের বৃদ্ধ বাবাকে নিয়ে যান দুই ভাইয়ের বাড়িতে। অভিযোগ, সেখানে দুই ছেলে ও তাঁদের স্ত্রীরা মিলে বৃদ্ধ বাবাকে বাড়ি থেকে বের করে দিয়ে বাড়ির পাশের একটি গাছের নিচে রেখে দেন।
বিষয়টি এলাকায় বেশ চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়। গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়ায় বৃদ্ধ হাজী শামসুল হক মোল্লার এমন দুর্বিষহ জীবনের গল্প নাড়া দিয়েছে স্থানীয়দের বিবেককে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে এখবর বেশ গুরুত্ব দিয়ে প্রচার করে।বিষয়টি প্রশাসনেরও নজরে আসে।এগিয়ে আসেন কোটালীপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাইফ-উল-আরেফীন।শেষ পর্যন্ত ছেলের বাড়িতে তিনি ওঠানোর ব্যবস্থা করে দেন।
আজ বুধবার ওই বৃদ্ধকে একটি ফাঁকা ঘরে পাটি পেতে সেখানে থাকার ব্যবস্থা করেছে ছেলেরা। বাকী দিনগুলি হয়তো সেখানেই তার কাটবে।
বড় ছেলে আজিজুল হক মোল্লা বলেন, বোনেরা গাছ তলায় রেখে গেছে।বাবার টাকা নিয়েছে বোনেরা।টাকা খাওয়া শেষ, এখন বাবাকে গাছতলা রেখে গেছে বলে জানান তিনি। তিনি বলেন, আমরা বাধ্য হয়ে বাবাকে নিয়ে যাচ্ছি বাড়িতে। আজ আছর বাদ এ নিয়ে শালিস বৈঠক হবে বলেও জানান তিনি।
উল্লেখ্য, গোপালগঞ্জের কোটালীপাড়া উপজেলার উত্তর হিরন গ্রামের বাসিন্দা শামসুল হক মোল্লা। দুই ছেলে ও চার মেয়েকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। কয়েক বছর আগে জমি বিক্রি করে হজ পালন করেন তিনি। এরপর অবশিষ্ট জমিজমাও সন্তানদের মধ্যে ভাগ করে দেন। অভিযোগ, সম্পত্তি বুঝে নেওয়ার পর থেকেই বাবার প্রতি দায়িত্ব পালনে অনীহা দেখাতে থাকেন সন্তানরা।
