ঘন্টা খানেকের জন্য মায়ের ভালবাসায় সিক্ত হলেন গোপালগঞ্জের হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের ১৯ আশ্রিত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

এস.এম. নজরুল ইসলাম. বিশেষ প্রতিনিধি।।
ঘন্টা খানেকের জন্য মায়ের ভালবাসায় সিক্ত হলেন কাশিয়ানী উপজেলার হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের ১৯ আশ্রিত বৃদ্ধ-বৃদ্ধা। পরিবার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়া মৃত্যুর প্রহর গুনতে থাকা এসব বৃদ্ধ-বৃদ্ধা গোপালগঞ্জ জেলা প্রশাসকের কাছ থেকে মাতৃস্নেহ পেয়ে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। দীর্ঘ বছর পর তাদের ভরন পোষনের দ্বায়িত্ব কাধেঁ তুলে নেওয়া এমন একজন অবিভাবক পেয়ে আশ্রিতরা এক পর্যায়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। জীবনের শেষ প্রান্তে এসে দাড়ানো শিশু বনে যাওয়া এসব এসব আশ্রিতদের পরম আদরে জেলা প্রশাসক শাড়ি লুঙ্গি দিয়ে ভালবাসায় ঢেকে দেন। আশ্রমের পালক আশুতোষ বিশ্বাস এবং তার স্ত্রীকেও শাড়ি-লুঙ্গি উপহার দেন। এসময় জেলা প্রশাসক বৃদ্ধাশ্রমে ২০ বস্তা খাদ্য সামগ্রীও প্রদান করেন। জেলা প্রশাসকের পরিদর্শনের মধ্য দিয়ে পরবর্তীতে বৃদ্ধাশ্রমের পালক আশ্রিতদের খাবারের জন্য ভিক্ষা করা থেকেও আপাতত মুক্তি পেলেন। সোমবার সন্ধ্যায় বৃদ্ধাশ্রমটি পরিদর্শন শেষে জেলা প্রশাসক কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের যাবতীয় দেখভাল করার জন্য নির্দেশ দেন।

এসময় অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (শিক্ষা ও আইসিটি) মোঃ ইলিয়াসুর রহমান, কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসার রথীন্দ্রনাথ রায়, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মামুন খান, রামদিয়া তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ সেলিম রেজা, বৃদ্ধাশ্রমের পালক আশুতোষ বিশ্বাস, স্থানীয় হাতিয়াড়া ইউ.পি চেয়ারম্যান দেব দুলাল বিশ্বাস, রাজপাট ইউ.পি চেয়ারম্যান মোঃ মনিরুল ইসলাম প্রমূখ উপস্থিত ছিলেন।

হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের পালক আশুতোষ বিশ্বাস বলেন, কাশিয়ানী উপজেলার রাজপাট ও হাতিয়াড়া ইউনিয়নের সীমান্তে হাইশুর গ্রামে হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের অবস্থান। এখানে আমি এবং আমার স্ত্রী ১৩ জন বৃদ্ধা এবং ৬ জন বৃদ্ধকে প্রতিপালন করি। এদের মধ্যে কয়েকজন মানষিক ভারসাম্যহীনও রয়েছে। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে নানা অনুষ্ঠানে গিয়ে খাবার ভিক্ষে করে এনে আশ্রিতদের খাইয়েছি। বিগত বুলবুল ঝড়ের পর থেকে আমাকে আগের মতো ভিক্ষে করতে হচ্ছেনা। জেলা প্রশাসন থেকে খাদ্য সামগ্রী পাঠিয়েছিলেন। এখন অনেকেই সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিচ্ছেন। এখন জেলা প্রশাসক আমাদের এই বৃদ্ধাশ্রমের সার্বিক দেখভাল করার জন্য কাশিয়ানী উপজেলা নির্বাহী অফিসারকে নির্দেশ দিয়েছেন। এই মাহনুভবতার জন্য আমি জেলা প্রশাসককে কুর্নিশ জানাই।
জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেছেন,মানুষ একটা বয়সে এসে শিশুদের মতো হয়ে যায়। তাদের স্মৃতিশক্তি, বুদ্ধি, কর্মক্ষমতা লোপ পেয়ে অসহায় হয়ে পড়ে। অন্যের উপর নির্ভর করেই তাদেরকে বাকি জীবন কাটাতে হয়। তাদরেকে শিশুদের মতোই লালন পালন করতে হয়। আমাদের সবার উচিৎ আমরা যেন এ ধরনের মানুষদের ছুড়ে ফেলে না দিই। আমার পাশের যে মানুষটিকে তার পরিবার ফেলে দিয়েছে, বা অসহায় অবস্থায় পড়ে রয়েছে, আমি যদি তার পাশে দাড়াই তাহলে তাকে এই পরিবার, সমাজ ছেড়ে বৃদ্ধাশ্রমের জীবন কাটাতে হবেনা।
তিনি বলেন, আমি একদিন শিশু ছিলাম, মা-বাবার আদরে বড় হয়েছি। মা-বাবা এখন বৃদ্ধ, আমিও একদিন বৃদ্ধ হবো, তাই বৃদ্ধ মা-বাবাকে বোঝা মনে না করে সন্তানের মতো লালন পালনের জন্য সকলকে অনুরোধ জানান। হাইশুর বৃদ্ধাশ্রমের অসহায় বৃদ্ধ-বৃদ্ধার পাশে দাড়ানোর জন্য সমাজের বিত্তবানদের প্রতি আহবান জানান জেলা প্রশাসক।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর