Home জাতীয় মঙ্গলবার থেকে ৩দিন ব্যাপী স্নানোৎসব হবে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে

মঙ্গলবার থেকে ৩দিন ব্যাপী স্নানোৎসব হবে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে

মঙ্গলবার থেকে ৩দিন ব্যাপী স্নানোৎসব হবে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে

স্টাফ রিপোর্টার।।

দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সবচেয়ে বড় স্নানোৎসব শুরু হবে আগামীকাল মঙ্গলবার কাশিয়ানীর ওড়াকান্দিতে।তিন দিন ব্যাপী অনুষ্ঠিত এ মেলায় এখানে আসবে কয়েক লাখ ভক্ত অনুরাগি।এসব ভক্ত অনুরাগির পদচারনায় মুখরিত হয়ে উঠবে কাশিয়ানীর ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ি।

 

প্রতি বছর শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মদিন উপলক্ষে ঠাকুর বাড়িতে স্নানোৎসব ও বারুনী মেলা অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।যদিও গত দুই বছর করোনার কারনে এখানে কোন অনুষ্ঠান হয়নি।তবে বিগত বছরের ২৭ মার্চ ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ঠাকুর বাড়িতে আসেন এবং পূঁজা অর্চনা করেন। ভারতীয় প্রধানমন্ত্রীর আগমনে সারা বিশ্বে ঠাকুর বাড়ির নাম আরো ছড়িয়ে পড়ে।

 

ঠাকুর বাড়ি সূত্রে জানাগেছে, এদিন দুপুর ১টায় হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী ও স্নানোৎসব কমিটির সভাপতি দেবব্রত ঠাকুর বাপ্পীসহ ঠাকুর পরিবারের সদস্যগণ কামনা সাগরে(বড় পুকুর) স্নান করে এই উৎসবের উদ্ভোধন করবেন। স্নানোৎসব চলবে পরের দিন বুধবার দুপুর ১টা পর্যন্ত।

 

এই উৎসব সঠিক ভাবে সম্পন্ন করতে ঠাকুর বাড়ি এলাকায় সুউচ্চ পর্যবেক্ষন চৌকি ও সিসি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। আইন-শৃংখলা বাহিনীর পক্ষ থেকে নেয়া হয়েছে ব্যাপক নিরাপত্তা ব্যবস্থা। আইন শৃংখলা বাহিনীর সদস্যের পাশাপাশি মতুয়া সংঘের প্রায় তিন শতাধিক স্বেচ্ছাসবক সার্বিক নিরাপত্তার দায়িত্ব পালন করবেন।

কাশিয়ানী উপজেলার ওড়াকান্দিতে লাখ লাখ মতুয়াভক্ত ও হরিচাঁদ-গুরুচাঁদ ঠাকুরের ভক্তরা এখানে স্নান করতে আসেন। তারা পাপ মোচনের জন্য এই স্নান করে থাকেন। স্নানোৎসব উপলক্ষে এখানে প্রতিবছর বসে বারুনী মেলা। মেলা চলবে বৃহস্পতিবার বিকাল পর্যন্ত। মেলায় কুঠির শিল্পের সামগ্রী, বিভিন্ন খেলনা, মাটির তৈরী তৈজসপত্র, বাঁশের জিনিস, তালপাখা, মিষ্টি মন্ডা, খাদ্য সামগ্রী, নাগর দোলনাসহ শিশুদের বিনোদনের জন্য নানা আয়োজন রাখা হয়েছে।

জানা গেছে, শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ফাল্গুন মাসের মধুকৃষ্ণা ত্রয়োদশী তিথিতে প্রতি বছর ওড়াকান্দিতে এ স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা অনুষ্ঠিত হয়। এবার শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের ২১১ তম আবির্ভাবোৎসব অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এ উৎসবকে ঘিরে দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল ও ভারতের পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ এবং উত্তর প্রদেশ, নেপাল, ভূটান, শ্রীলঙ্কাসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে কয়েক লাখ মতুয়া ভক্তের আগমন ঘটবে ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে।

স্নানোৎসবে যোগ দিতে হাজার হাজার মতুয়া ভক্ত ও অনুসারীরা দূর-দূরান্ত থেকে এসে ঠাকুর বাড়িতে সমবেত হয়েছেন। কেউ কেউ ঠাকুর বাড়িতে বিছানা পেতে স্নানের অপেক্ষায় আছেন। কেউ কেউ দোকানপাট পেতে বসেছেন।

 

স্নানোৎসবকে ঘিরে ঠাকুর বাড়ির পাশ ঘেঁষে ৬০ একর জায়গা জুড়ে বসেছে লোকজ মেলা। মেলায় কাঠ, বাঁশ, বেত, মাটির তৈরী জিনিসপত্র ও খেলনা সামগ্রী, তালপাখা, চানাচুর, মিষ্টি দোকান, হোটেল-রেস্তোরার দোকান বসেছে।

 

বাগেরহাটের মোড়েলগঞ্জের আমবাড়িয়া গ্রাম থেকে আসা বিপুল কুমার মিস্ত্রী বলেন, ‘আমি প্রতি বছর ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়িতে আসি। গত বছর করোনার কারণে স্নানোৎসব না হওয়ায় আসতে পারিনি। এবার কয়েকদিন আগেই এখানে চলে এসেছি। ঠাকুরের পূর্ণভূমিতে আসতে পেরে খুবই ভাল লাগছে।

স্নানোৎসব ও মেলা পরিচালনা কমিটির সাধারণ সম্পাদক নির্মলেন্দু সরকার জানান,  শ্রী শ্রী হরিচাঁদ ঠাকুরের আবির্ভাবোৎসব উদযাপন উপলক্ষে সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ভক্তদের জন্য বিশুদ্ধ খাবার পানি, প্রস্রাব-পায়খানা ও স্নান করে মহিলাদের কাপড় পাল্টানোসহ সকল ধরণের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

 

তিনি আরো জানান, করোনার কারণে পর পর দুবছর স্নানোৎসব ও বারুণী মেলা বন্ধ থাকায় এবার বেশি লোকের আগমন ঘটবে বলে আশা করছি। অন্যান্য বারের চেয়ে এবার কয়েক লাখ বেশি মানুষের আগমন ঘটতে পারে। বিশ্বের প্রায় ১০টি দেশ থেকে মতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগদান করবেন।

 

উপজেলা নির্বাহী অফিসার রথীন্দ্র নাথ রায় জানান, সব ধরণের প্রস্তুতি সম্পন্ন করা হয়েছে। ঠাকুর বাড়ির আগতরা যাতে নির্বিঘ্নে তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান ও উৎসব পালন করতে পারে সে জন্য জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে একধিক বার আইনশৃংখলা সভা করা হয়েছে। ওড়াকান্দি ঠাকুর বাড়ী ও আশেপাশের এলাকায় কয়েকশত পুলিশ পোষাকে ও সাদা পোষাকে থাকবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা রক্ষা করতে।

 

গোপালগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, স্নানোৎসবে আগত পূর্ণার্থীদের বিনামূল্যে চিকিৎসা সেবা দিতে মেডিক্যাল ক্যাম্প স্থাপন করা হয়েছে। রোগীদের হাসপাতালে নেয়ার জন্য সার্বক্ষণিক অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন রয়েছে।

 

হরিচাঁদ ঠাকুরের উত্তরসূরী ও কাশিয়ানী উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান সুব্রত ঠাকুর জানিয়েছেন, দেশের বিভিন্ন স্থান ও ভারত, নেপালসহ বিভিন্ন দেশের প্রায় ১০ লক্ষাধিক মতুয়া ভক্তরা এ স্নানোৎসবে যোগ দেন। ভক্তরা হাতে বিজয়  ও সত্যের লাল নিশান এবং ডাঙ্খা (বড় ঢোল) বাজিয়ে উলু ধ্বনি দিয়ে মাইলের পর মাইল পথ পাড়ি দিয়ে ছুটে আসেন তীর্থভূমি শ্রীধাম ওড়াকান্দিতে। দুরের ভক্তরা বাস, ট্রাক, নসিমণ, করিমণ, ইজি বাইক, থ্রি-হুইলার ও নৌ-পথে নৌকা ও ট্রালারে করেও মতুয়াভক্তরা ওড়াকান্দিতে উপস্থিত হন। আগত ভক্তরা প্রথমে কামনা ও পরে শান্তি সাগরে (বড় আকৃতির পুকুর) স্নান করে পাপ মোচন ও শান্তি কামনা করেন।

অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (অপরাধ বিভাগ) নিহাদ আদনান তাইয়ান জানিয়েছেন, অনুষ্ঠানটিকে নিরবিচ্ছিন্ন করতে তিনশতাধিক পুলিশ সদস্যের একটি শিপটিং ডিউটি রাখা হয়েছে। এছাড়া কমিটির পক্ষ থেকে দুইশতাধিক স্বেচ্ছা সেবক দায়িত্ব পালন করবে। আশাকরি কোন রকম ঝামেলা ছাড়াই অনুষ্ঠানটি সম্পন্ন হবে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা জানিয়েছেন, স্নানোৎসব সুষ্ঠভাবে সম্পন্ন করতে পুলিশের পাশাপাশি নির্বাহী ম্যাজিষ্ট্রেট নিয়োগ দেয়া হয়েছে। যেহেতু এখানে বড় ধরনের জমায়েত হবে, সেই কারনে  সিসি টিভি ক্যামেরা বসানো হয়েছে। সেই সাথে পর্যাপ্ত সুপেয় পানি ও স্যানিটেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here