Home গোপালগঞ্জ সংবাদ গোপালগঞ্জের বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে পদ্মফুল

গোপালগঞ্জের বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে পদ্মফুল

গোপালগঞ্জের বিলের সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে পদ্মফুল

জলজ ফুলের রানী বলা হয় পদ্মকে। প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেয়া পদ্ম ফুল সৌন্দর্য বাড়িয়ে দিয়েছে গোপালগঞ্জের বিলের চিত্র।দূর থেকে মনে হবে যেন ফুলের বিছানা পেতে রেখেছে কেউ। প্রতিদিনই এ সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসছে দর্শনার্থীরা। বর্যাকালে কোন কাজ না থাকায় নৌকায় পর‌্যটকদের ঘুরিয়ে অনেকেই আয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে পদ্মবিল এলাকায় দর্শনার্থীদের জন্য নানা সুযোগ সুবিধা বাড়ানোর কথা বলা হয়েছে।

বর্ষা মৌসুম এলেই বলাকইড় বিল রূপ নেয় গোলাপি ও সাদা পদ্মের অপার সৌন্দর্যে। দূর থেকে দেখলে মনে হয় যেন কেউ এক বিস্তীর্ণ জলাশয়ে বিছিয়ে রেখেছে ফুলের চাদর। বিলের মাঝখানে নৌকা নিয়ে ভেসে বেড়ালে প্রকৃতির সাথে একাত্ম হয়ে যায় মন। পাখির ডাক, জলের কলতান আর চারপাশের পদ্ম ফুল-সব মিলিয়ে পদ্মবিল ভ্রমণ হয়ে ওঠে এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

immage 1000 04

গোপালগঞ্জ জেলার চার পাশে রয়েছে অসংখ্য বিল। তার মধ্যে অন্যতম সদর উপজেলার বলাকইড় বিল।গোপালগঞ্জ জেলা সদর থেকে মাত্র ১২ কিলোমিটার দূরে। ১৯৮৮ সালের পর থেকে বর্ষাকালে এ বিলের অধিকাংশ জমিতেই প্রাকৃতিকভাবে পদ্মফুল জন্মে। আর এ কারনে এখন এ বিলটি পদ্মবিল নামেই পরিচিত হয়ে উঠেছে।

বর্ষাকালে স্থানীয়দের কৃষিকাজ কম থাকায় অনেকে নৌকা চালিয়ে পর্যটকদের ঘুরিয়ে আয়ের পথ বেছে নিয়েছেন। এতে একদিকে যেমন তাদের জীবিকায় সহায়তা হচ্ছে, অন্যদিকে পর্যটকরা পাচ্ছেন সহজে বিল ভ্রমণের সুযোগ। এভাবে পদ্মবিল শুধু প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের কেন্দ্র নয়, স্থানীয় অর্থনীতিরও একটি সহায়ক শক্তি হয়ে উঠছে।

immage 1000 02

বর্ষা মৌসুমে চারিদিকে শুধু পদ্ম আর পদ্ম। বিস্তীর্ণ এলাকা জুড়ে গোলাপী রং এর পদ্ম দেখলে মন জুড়িয়ে যায়। এমন অপরূপ দৃশ্য যেন ভ্রমণ পিপাষুদের হাতছানি দিচ্ছে। এ বিলের সৌন্দর্য ও পদ্ম দেখার জন্য প্রতিদিনই আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু-বান্ধব নিয়ে ভীড় করছেন দর্শনার্থীরা। তারা নৌকায় ঘুরে সৌন্দর্য উপভোগ করছেন।প্রতিদিনই গোপালগঞ্জ ও আশপাশের এলাকা থেকে শত শত মানুষ আসছেন এই সৌন্দর্য উপভোগ করতে। অনেকে আবার ঢাকা, খুলনা কিংবা দেশের দূর-দূরান্ত থেকেও ছুটে আসছেন। পরিবার, বন্ধু কিংবা শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের নিয়ে এখানে ভ্রমণ করছেন তারা।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বলাকইড় পদ্মবিলে ঘুরতে আসা দর্শনার্থী ঢাকার প্রাইম ইউনিভার্সিটির ইংরেজী শিক্ষক জাহিদুল আজাদ, যিনি তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন এই পদ্মবিলের সৌন্দর‌্য দেখতে। তিনি তার অনুভূতির কথা বলতে গিয়ে বলেন, তার অনেক ভাল লেগেছে এই পদ্মবিলে বেড়াতে এসে। তিনি জানান, তিনি তার শিক্ষার্থীদের নিয়ে খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছিলেন। সেখানে এসে এই পদ্মবিলের খবর পান এবং সেখান থেকে শিক্ষার্থীদেরকে সাথে নিয়ে ঘুরতে এসেছেন। এই বিলের সৌন্দর্যে তিনি ও তার শিক্ষার্থীরা অভিভুত ও আনন্দিত বলে জানান।

immage 1000 03

টিপু হাওলাদার নামে অপর এক দর্শনার্থী জানালেন, তিনি এই পদ্মবিলে প্রথম এসেছেন। এই পরিবেশ ও সৌন্দর্য তার ভাল লেগেছে। তবে অনেক দর্শনার্থীরা পদ্মফুল ছিড়ে নিয়ে যাওয়া সহ বিলের মধ্যে খাবারের উচ্ছিষ্ট ফেলে দেয়ায় বিলের পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। দর্শনার্থীরা হতাশ হচ্ছেন। এবিষয়টি নজরে আনার দরকার বলে মনে করেন তিনি।

গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বর্ষা মৌসুমে এ বিলে প্রাকৃতিক ভাবে জন্ম নেওয়া পদ্ম ফুল বিলের সৌন্দর্য বৃদ্ধি করছে। এই বিলে আসা পর্যটকেরা যাতে নানা সুযোগ সুবিধা পায় তার জন্য কাজ করা হবে। বিলের মাঝখানে একটি ওয়াচ টাওয়ার নির্মানের কথাও বলেন জেলা প্রশাসক।সেই সাথে পদ্মবিলের পরিবেশ নষ্ট না করারও দর্শনার্থীদের প্রতি অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here