পানির বিল হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় গ্রাহকদের অসন্তোষ

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

টুঙ্গিপাড়া (গোপালগঞ্জ) প্রতিনিধিঃ
গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় পানি সরবরাহ ব্যবস্থার মাসিক বিল হঠাৎ বৃদ্ধি করায় ব্যাপক অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন এলাকাবাসী। গ্রাহকদের কোন সতর্কবাতা, মাইকিং বা নোটিশ ছাড়াই ইউপি চেয়ারম্যান নিজেই এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। আর টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফারজানা আক্তারের নাম ভাঙিয়ে গ্রাহক পর্যায়ে জানানো হয়েছে ইউএনও পানির বিল বাড়িয়েছে।
এমন অভিযোগ উঠেছে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাসের বিরুদ্ধে। আর ইউএনও বলেছেন কেউ তার নাম ভাঙিয়ে থাকলে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এতদিন গ্রাহকেরা আধা ইঞ্চি পাইপের পানির লাইনে ২৫০ টাকা ও পোনে এক ইঞ্চি পাইপের পানির লাইনে ৩০০ টাকা করে মাসিক পানির বিল দিয়ে আসছিলেন। কিন্তু চলতি মাসে হঠাৎ করে ২৫০ টাকার বিল ৩৫০ টাকা ও ৩০০ টাকার বিল ৪০০ টাকা দাঁড়িয়েছে। তাতে গ্রাহকেরা বিল হাতে পাওয়ার পর বিস্মিত ও ক্ষুব্ধ হন। তখন পানির বিল ফেরত দিলে পরে ইউনিয়ন পরিষদের লোকজন গোপনে গ্রাহকদের বাড়িতে রেখে আসে।
টুঙ্গিপাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল কার্যালয় সুত্রে জানা যায়, এলাকাবাসীর সুপেয় পানির চাহিদা মেটাতে ২০১৮ সালে পাটগাতী ইউনিয়ন পরিষদ ভবনের পাশে প্রায় সাড়ে ৩ কোটি টাকা ব্যয়ে “সারফেস ওয়াটার ট্রিটমেন্ট প্লান্ট” নির্মান করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর। বর্তমানে এই প্লান্টের আওতায় ১৩০০ গ্রাহক রয়েছে। যেটি পরিচালনার জন্য পাটগাতী গ্রামীন পানি সমিতি গঠন করা হয়। এতে ইউপি চেয়ারম্যানকে সভাপতি করে ৭ সদস্যের একটি কমিটি করা হয়। আর উপদেষ্টা হিসাবে রাখা হয় উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলীকে।

গিমাডাঙ্গা পূর্বপাড়া গ্রামের জুয়েল শেখ ও মো. মোস্তাকির হোসেন বলেন, প্রতিদিন পানি দেয়ার কথা থাকলেও সপ্তাহে ২ দিন পানি দেয় পরিষদ কর্তৃপক্ষ। প্রথম দিকে পরিষ্কার পানি দিলেও বর্তমানে ঘোলা ও ময়লাযুক্ত পানি দেয়। তবুও প্রতিমাসে আমরা ২৫০ টাকা বিল পরিশোধ করে আসছি। কিন্তু, এই মাসে হঠাৎ ৩৫০ টাকার পানির বিল নিয়ে আসলে আমরা রাখিনি। পরে চেয়ারম্যান জানায়, ইউএনও ম্যাডামের নির্দেশে পানির বিল বাড়ানো হয়েছে। আমরা গরিব মানুষ, তাই ১০০ টাকা আমাদের কাছে অনেক। আর এই বাড়তি বিলের বিষয়টি সম্পূর্ণ অগণতান্ত্রিকভাবে করা হয়েছে। জনগণের সঙ্গে আলোচনা না করে এমন সিদ্ধান্ত চেয়ারম্যানের একচ্ছত্র ক্ষমতার অপব্যবহার।
গিমাডাঙ্গা গ্রামের জিন্নাত শেখ বলেন, প্রথমে পরিষদ থেকে ৪০০ টাকার বিল নিয়ে আসলে আমরা রাখিনি। পরে আমাদের জানালার ফাক-ফোকর দিয়ে সেই বিলের কাগজ রেখে যায় পরিষদের লোকজন। তখন চেয়ারম্যানের কাছে জানতে চাইলে তিনি সরাসরি বলেছেন ইউএনও ম্যাডামের নির্দেশে বিল বাড়ানো হয়েছে। বিল না দিলে লাইন কেটে দেবো বলেও হুমকি দেয়।

তবে পাটগাতী ইউপি চেয়ারম্যান সুভাষ চন্দ্র বিশ্বাস দাবি করেছেন কমিটির সবাইকে নিয়ে মিটিং করে পানির বিল বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। আর এবিষয়ে ইউএনও ম্যাডামও অবগত রয়েছে। প্রায় দশ লক্ষ টাকার বিদ্যুৎ বিল বাকি রয়েছে তাই পানির বিল বাড়ানো হয়েছে। আর গ্রাহকদের কাছে ইউএনওর নাম ভাঙানো হয়নি। বিল কেন বাকি হলো সে বিষয়ে কোন উত্তর দেননি তিনি।
পনির বিল বাড়ানোর বিষয়ে জানতে চাইলে টুঙ্গিপাড়া উপজেলা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশলী প্রদীপ মজুমদার বলেন, কিছুদিন আগে বিল বাড়ানোর জন্য চেয়ারম্যান মিটিং ডাকলে গ্রাহকদের জানানোর জন্য মাইকিং করার পরামর্শ দিয়েছিলাম। কিন্তু, পরে তারা কি করেছে সেটি আমার জানা নেই।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ফারজানা আক্তার বলেন, চেয়ারম্যান আমাকে এসে বিষয়টি মৌখিকভাবে জানিয়েছিলো। তখন আমি বলেছি যে বিষয়টিতে আমার এখতিয়ার নেই, সে বিষয়ে আমি কেন কথা বলবো! সেটা আপনাদের ব্যাপার। আর যদি কেউ ইউএনওর নাম ভাঙিয়ে থাকে অভিযোগ পেলে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর