Home গোপালগঞ্জ সংবাদ গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ, লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত অর্থনীতি

গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ, লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত অর্থনীতি

০
গরমে জনজীবন অতিষ্ঠ, লোড শেডিংয়ে বিপর্যস্ত অর্থনীতি

বৈশ্বিক জ্বালানী সংকটের সময় জেলার মানুষ লোডসেডিংকে মনে করেছিল স্বাভাবিক ঘটনা।সময় পাল্টেছে, দিনও পাল্টেছে।কিন্তু পাল্টেনি লোডসেডিং-এর অবস্থা। তীব্র গরম ও ঘন ঘন লোডশেডিংয়ে জেলাবাসীর জনজীবন দুর্বিসহ হয়ে উঠছে।দিনভর অসহনীয় তাপমাত্রার পাশাপাশি বিদ্যুতের ঘন ঘন যাওয়া-আসায় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে।

শহরের অবস্থা কিছুটা ভালো হলেও গ্রামাঞ্চলে বিদ্যুত পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ।জেলার বিভিন্ন এলাকায় দিনে ৮ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুতের লোডসেডিং এর খবর পাওয়া যাচ্ছে। এতে জনজীবনের পাশাপাশি শিল্প, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতেও নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। যদিও সপ্তাহে সরকারী ছুটির দিনগুলিতে লোডসেডিং-এর পরিমান কম থাকে।তবে অফিস-আদালত খোলা থাকলে তখন শহরে লোডসেডিং কম দিলেও গ্রামাঞ্চলে কোথাও কোথাও দিনের অর্ধেক সময়ই বিদ্যুত থাকেনা।

প্রচণ্ড গরমের মধ্যে বিদ্যুৎ না থাকায় সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম নষ্ট হচ্ছে। শিশু, বয়স্ক ও অসুস্থ ব্যক্তিরা সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়ছেন। অনেক পরিবারে রাতে একাধিকবার বিদ্যুৎ চলে যাওয়ায় স্বাভাবিক বিশ্রাম ব্যাহত হচ্ছে। কর্মজীবী মানুষ দিনের বেলায় ক্লান্তি নিয়ে কাজ করতে বাধ্য হচ্ছেন।কখনো কখনো লোড সেডিংকে বিদ্যুত লাইনের সমস্যা বলেও চালিয়ে দেয়ার অভিযোগ রয়েছে।

কাশিয়ানী উপজেলার সিংগা গ্রামের কৃষক পংকজ মন্ডল বলেন, দিনভর রোদ বৃস্টিতে কাজ করে রাতের বেলা যখন ঘুমাতে যাবো তখনই দেখা যায় বিদ্যুত নাই। ঘুম নষ্ট হয়ে গেলো।পল্লীবিদ্যুত কর্তপক্ষকের একাধিকবার ফোন দিয়েও পাওয়া যায়না।দিনের বেলা কয়েকবার বিদ্যুত চলে যায়, রাতের বেলাও একই অবস্থা।তীব্র গরমের মধ্যে বিদ্যুত না থাকলে ঘুমাই কিভাবে।যখন বিদ্যুত ছিলনা তখন একধরনের অভ্যাস ছিল এখন অভ্যাস পরিবর্তন হয়ে গেছে। বিদ্যুত না থাকলে এখন কষ্ট হয়।

বিদ্যুৎ সংকটের কারণে হাসপাতাল ও ক্লিনিক গুলোতে সেবাদান ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ক্ষেত্রে আইপিএস ও জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থীরা গরমে পড়াশোনায় মনোযোগ দিতে পারছে না। পরীক্ষার্থী ও অনলাইন শিক্ষার্থীদের জন্য পরিস্থিতি আরও কঠিন হয়ে উঠেছে।

সদর উপজেলার করপাড়া গ্রামের ৮ম শ্রেনীর শিক্ষার্থী মাঈনুল ইসলাম জানায়, বিদ্যুত না থাকায় লেখা-পড়ায় মনোযোগ দেয়া যায় না। তাছাড়া বিদ্যুত চলে গেলে প্রচন্ড গরমের মধ্যে মোমবাতি জ্বালিয়ে পড়া-লেখায় কষ্ট হয়। বাধ্য হয়ে ঘরের বাইরে গিয়ে সময় কাটাতে হয়। এতে লেখাপড়ার ক্ষতি হচ্ছে।

বিদ্যুতের লোডসেডিং এর কারনে পোল্ট্রি খামার, খাবার হোটেল, অটো রাইসমিল এবং অন্যান্য ক্ষুদ্র উদ্যোক্তারা সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছেন। বিদ্যুৎ না থাকায় খাদ্য সংরক্ষণ, মেশিন পরিচালনা এবং উৎপাদন কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। অনেক ব্যবসায়ী অতিরিক্ত খরচ করে জেনারেটর ব্যবহার করতে বাধ্য হচ্ছেন, ফলে লাভ কমে যাচ্ছে।

রাতের বেলা ঠিকমতো বিদ্যুত না না থাকায় কোন কোন দিন ব্যাটারিচালিত রিক্সা/অটোরিকশা চালকরা সময়মতো ব্যাটারি চার্জ দিতে না পারায় দিনের বেলা পর্যাপ্ত ট্রিপ দিতে পারছেন না।অনেক চালক জানিয়েছেন, আগের তুলনায় তাদের দৈনিক আয় উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। যাত্রী চাহিদা থাকলেও চার্জ সংকটের কারণে তারা সড়কে পর্যাপ্ত সময় থাকতে পারছেন না।আয়-রোজগারও কমে যাচ্ছে।

ফ্রিল্যান্সার, সফটওয়্যার ডেভেলপার এবং আইটি উদ্যোক্তারা নিয়মিত বিদ্যুৎ বিভ্রাটে কাজের ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ক্লায়েন্টদের কাজ জমা দিতে না পারায় অনেকেই আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। ইন্টারনেট সংযোগ ব্যাহত হওয়ায় অনলাইন মিটিং ও অন্যান্য কাজেও সমস্যা দেখা দিচ্ছে।

রাতের বেলায় বিদ্যুৎ না থাকায় বিভিন্ন এলাকায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়ছে। অন্ধকারে চুরি, ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধ সংঘটনের আশঙ্কা তৈরি হচ্ছে। সিসিটিভি ক্যামেরা ও অন্যান্য নিরাপত্তা ব্যবস্থা অনেক সময় অকার্যকর হয়ে পড়ছে।

লোডশেডিং মোকাবিলায় অনেক পরিবার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান আইপিএস, জেনারেটর এবং সৌরবিদ্যুতের মতো বিকল্প ব্যবস্থার দিকে ঝুঁকছে। কিন্তু এসব ব্যবস্থার ক্রয় ও রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় সাধারণ মানুষের ওপর অতিরিক্ত আর্থিক চাপ সৃষ্টি করছে।

আর্থিক সংগতি না থাকলেও লোডশেডিং মোকাবিলায় অনেককে টাকা খরচ করে আইপিএস কিনতে হয়েছে। এভাবে দিনের পর দিন খরচ বেড়ে চলেছে, অথচ সেভাবে আয় বাড়েনি। এছাড়া, ঘন ঘন বিদ্যুৎ ওঠানামা এবং লো-ভোল্টেজের কারণে টেলিভিশন, ফ্রিজ, কম্পিউটার, বিভিন্ন যন্ত্রপাতি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।

বিদ্যুৎ সংশ্লিষ্ট অফিস সূত্র জানায়, জেলায় বিদ্যুতের লোডসেডিং এর বিষয়টি স্বীকার করে কর্মকর্তারা জানান, গ্রীষ্মকালীন চাহিদা বৃদ্ধির বিপরীতে বিদ্যুত প্রাপ্তিতে ঘাটতি থাকায় লোডশেডিং বেড়েছে। তবে আস্তে আস্তে লোডসেডিং কমে আসবে এবং জনগনের ভোগান্তিও কমে আসবে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here