৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

মোজাম্মেল হোসেন মুন্না।।

আগামীকাল মঙ্গলবার ৭ ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিন গোপালগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত হয়।

দিবসটি পালন উপলক্ষে গোপালগঞ্জ সুইমিংপুল ও জিমনেসিয়ামে আঞ্চলিক বীর মুক্তিযোদ্ধা মহাসমাবেশ ও সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে জেলার বীর মুক্তিযোদ্ধারা অংশ নিবেন। জেলা প্রশাসনের আয়োজনে মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ক মন্ত্রণালয় এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।

এ অনুষ্ঠানটি শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়ামে হওয়ার কথা ছিলো। স্টেডিয়ামে মঞ্চ স্থাপন ও সাজসজ্বাসহ যাবতীয় প্রস্তুতিমূলক কাজ চলছিলো। স্টেডিয়াম ভিতর ও এর বাইরে বড় বড় বিলবোর্ড ও ব্যানার লাগানো হয়। জেলা শহরের বিভিন্ন সড়কেও স্থাপন করা হয় বিলবোর্ড ও ব্যানার। কিন্তু দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম থেকে সুইমিংপুল ও জিমনেসিয়ামে স্থানান্তরিত করা হয়েছে।

সাবেক মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার মোঃ বদরুদ্দোজা বদর জানিয়েছেন, মঙ্গলবার সকালে দিবসটি পালন উপলক্ষে জেলা শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কে মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পণ করা হবে।

অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোঃ ইলিয়াছুর রহমান জানিয়েছেন, দূর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কারণে অনুষ্ঠানটি শেখ ফজলুল হক মনি স্টেডিয়াম থেকে সুইমিংপুর ও জিমনেসিয়ামে স্থানান্তরিত করা হয়েছে। অনুষ্ঠানে শিক্ষামন্ত্রী ডাঃ দীপু মনি প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন।

গোপালগঞ্জে মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ২৭ মার্চ থেকেই। মুসলিম লীগ নেতাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ৩০ এপ্রিল শহরে প্রবেশ করে। তারা প্রথমেই শহরের ব্যাংকপাড়ায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ি (বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়)পুড়িয়ে দেয়। এরপর পাকিস্তানী সৈন্যরা ১০ থেকে ১২টি দলে বিভক্ত হয়ে শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ির অবস্থান জেনে স্বর্ণপট্রি, সাহাপাড়া, সিকদারপাড়া, চৌরঙ্গী এবং বাজার রোড এলাকায় লুটপাট করে। পরে আগুন দিয়ে প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। যুদ্ধকালিন সময়ে পাকসেনারা হত্যা আর নারী ধর্ষন  করে।

মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদাররা গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদে মিনি ক্যান্টনমেন্ট স্থাপন করে। সেখানে এলাকার সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করে গণ-কবর দেয়। ৬ ডিসেম্বর সূর্য উঠার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের দিকে আসতে থাকে। চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন বলয় রচিত ও মুক্তিযুদ্ধের চূড়ান্ত লগ্নে মিত্র দেশ ভারত মুক্তিযোদ্ধাদের স্বীকৃতি দেয়ায় এখানকার পাক হানাদার বাহিনীর মনোবল ভেঙ্গে পড়ে।

পাক সেনারা ৬ ডিসেম্বর গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা উপজেলা পরিষদ (বর্তমানে) সংলগ্ন জয় বাংলা পুকুর পাড়ের মিনি ক্যান্টমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়।৭ ডিসেম্বর ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে গোপালগঞ্জের মুক্তিযোদ্ধারা। আর সেই সাথে মুক্ত হয় গোপালগঞ্জ শহর ও এর আশপাশ এলাকা।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর