বাজারে ফরিদপুরের মুড়িকাটা পেয়াজ

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

তরিকুল ইসলাম হিমেল, ফরিদপুর।।

বাজারে উঠেছে মুড়িকাটা পেয়াজ। তবে এবারো হতাশ চাষীরা। বেশী দামে বীজ ক্রয়, প্রতিকূল আবহাওয়া আর সর্বশেষ ঘূর্নিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে ফলন কম হওয়া অন্যদিকে আশানুরুপ দাম না পাওয়া, সব মিলিয়ে স্বস্তির হাসি নেই ফরিদপুরের পিয়াজ চাষীদের মুখে।

কোথাও পিয়াজ তোলা হচ্ছে, কোথাও পিয়াজ কাটা হচ্ছে, কোথাও বা শুকানো হচ্ছে, কোথাও বস্তাবন্দী করা হচ্ছে। এরপরে তা ট্রাকে তুলে নেয়া হচ্ছে ঢাকাসহ অন্যান্য জেলায়। এখন ফরিদপুরের বিস্তৃর্ন কৃষি জমি আর চর এলাকা জুরে এমন দৃশ্য চোখে পড়বে সবার। যদিও আরো ২ থেকে ৩ সপ্তাহ আগেই এই মুড়িকাটা পেয়াজ তোলা শেষ হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু ঘূর্নিঝড় জাওয়াদ এর প্রভাবে টানা বৃষ্টিতে জমির মাটি ভিজে যাওয়ায় পেয়াজ তুলতে এবার দেরী হলো চাষীদের।

সদর উপজেলার চরমাধবদিয়া এলাকার পিয়াজ চাষী আব্দুল হাই মন্ডল জানান, পিয়াজটা যখন ক্ষেত থেকে তুলবো তার কয়দিন আগেই টানা বৃষ্টি। অনেক পিয়াজ ক্ষেতে পচে গেছে, মাটির সাথে মিশে গেছে। অন্যান্য বার বিঘায় ৬০ থেকে ৮০ মন পেয়াজ হয়, আর এবার বিঘায় হইছে ৪০ থেকে ৫০ মন।

অপর কৃষক মোখলেসুর রহমান জানান, টানা ওই বৃষ্টিতে এখনো মাটি ভেজা। যার কারনে পিয়াজ তোলার সময় সাথে কাদা মাটি উঠে আসে। এজন্য পিয়াজ তোলার পরে ক্ষেতেই তা রোদে শুকাতে হয়। ২ দিন শুকানোর পরে নেট দিয়ে ঢলা দিয়ে পেয়াজ থেকে কাদা মাটি সরাতে হচ্ছে, নইলে বাজারে নিলে পাইকাররা পেয়াজ কিনতে চায় না। এখানেও বড় একটা ঘাড়তি যাচ্ছে কৃষকের।

ছোনের ট্যাক এলাকার কৃষক আজাদ যানান, বাজারে মুড়িকাটা পেয়াজ তারা পাইকারী বিক্রি করছেন ৩০/৩২ টাকা কেজি। যাদের ফলন ভাল হয়েছে তাদের খরচের টাকা উঠলেও অনেকের খরচের টাকা উঠবে না, লাভ তো অনেক দূরের কথা। পেয়াজের এই দাম ৪০/৪৫ টাকা হলে তারা লাভবান হতে পারতেন বলে এখানকার কৃষকদের মন্তব্য। একই এলাকার আশরাফ নামে অপর কৃষক জানান, এত পরিশ্রম করার পরে যদি কোন লাভ না থাকে তাহলে সামনে কৃষকরা এত কষ্ট করবে কি জন্য। তিনি বলেন গরু বিক্রি করে পিয়াজ ও সরিষা আবাদ করেছিলেন। ভেবেছিলেন পিয়াজ বিক্রি করে আবার গরু কিনবেন। কিন্তু বৃষ্টিতে সরিষাতো জমিতেই নষ্ট হয়েছে আর পেয়াজ এর ফলন হইছে অর্ধেক। তাতে আবাদের খরচ উঠাই কষ্ট। মোজাম্মেল নামে এক পিয়াজ চাষী জানান, এবছর দানা কিনতে হয়েছে দ্বিগুন দামে, এরপরে সার, কীটনাশন, শ্রমিক, পিয়াজ তোলা, কাটা সব জায়গায় খরচ বেড়েছে। উল্টোপাশে বিক্রি করতে গিয়ে কৃষক দাম কম পাচ্ছে।

জেলা কৃষি বিভাগের দেয়া তথ্য মতে এবছর মুড়িকাটা পেয়াজ আবাদে জেলায় লক্ষ্যমাত্রা ছিল ৪৫০০ হেক্টর জমিতে। কিন্তু প্রতিকূল আবহাওয়ার কারনে সেই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়েছে ৪৪০০ হেক্টর জমিতে। কৃষি বিভাগ আরো জানায় প্রতিবছর তাদের লক্ষ্যমাত্রা ছাড়িয়ে গেলেও এবারই লক্ষ্যমাত্রা অর্জন হয়নি।

ফরিদপুর জেলা কৃষি সম্প্রসারন বিভাগের উপ পরিচালক কৃষিবিদ ড. মো. হযরত আলী এবছর কৃষকের ক্ষতির কথা জানিয়ে এই প্রতিবেদককে বলেন, হয়ত কৃষক লাভবান হবে না এবার কিন্তু লোকসান হবে না তাদের, কৃষক যে খরচ টা করেছে সেই খরচটাই শুধু উঠবে। তবে কৃষকের আরো একটু দাম পাওয়া উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন। তিনি আরো জানান, মুড়িকাটা পেয়াজের পরে কৃষক হালি পিয়াজ চাষ করবে। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে সেখান থেকে ক্ষতি পুষিয়ে তুলতে পারবে।

 

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর