মোজাম্মেল হোসেন মুন্না, গোপালগঞ্জ।।
একসময় বেতার নাটকের জন্য অপেক্ষায় থাকতেন শ্রোতারা। রেডিও ঘিরে জমতো পরিবারের আড্ডা, জনপ্রিয় চরিত্রগুলো হয়ে উঠতো ঘরেরই মানুষ। কিন্তু টেলিভিশন, স্মার্টফোন আর ডিজিটাল বিনোদনের ভিড়ে অনেকটাই আড়ালে চলে গেছে শব্দনির্ভর এই শিল্পমাধ্যম। সেই হারানো ঐতিহ্য ফিরিয়ে আনতে নতুন করে কাজ শুরু করেছে বাংলাদেশ বেতার, গোপালগঞ্জ কেন্দ্র। রেকর্ডিং চলছে তিনটি নতুন নাটকের। নতুন প্রজন্মের কাছে বেতার নাটককে আবারও জনপ্রিয় করে তুলতে নেওয়া হয়েছে এ উদ্যোগ বলছেন সংশ্লিষ্টরা।

একসময় বিনোদনের অন্যতম প্রধান মাধ্যম ছিল বেতার। সন্ধ্যা নামলেই রেডিও ঘিরে বসতেন পরিবারের সদস্যরা। মেঠোপথের আড্ডা কিংবা গ্রামের চায়ের দোকান-বেতার নাটকের সংলাপ আর চরিত্র নিয়ে চলতো আলোচনা। ৯০-এর দশকে বাংলাদেশ বেতার খুলনা কেন্দ্র থেকে প্রচারিত দুই বাংলার শ্রোতাদের কাছে সমাদৃত ছিলো রম্য নাটিকা ‘আয়না”। সেই সময় ‘আয়না” নাটিকার সুরত আলী, ইজ্জত আলী ও ময়না ভাবী চরিত্রগুলো শ্রোতামহলের মধ্য ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন কররে। শব্দের জাদুতে শ্রোতাদের নিয়ে যেতো কল্পনার জগতে।
নাট্টকর্মিরা জানান, সময় বদলেছে। এসেছে টেলিভিশনের রঙিন পর্দা, স্মার্টফোন আর হাতের মুঠোয় ডিজিটাল বিনোদন। এর ভিড়ে অনেকটাই হারিয়েছে বেতার নাটকের সেই পুরোনো জৌলুস।

বাংলাদেশ বেতার গোপালগঞ্জ-এর আঞ্চলিক পরিচালক সৈয়দ রাজু আহমেদ দেশীয় সংস্কৃতি ধরে রাখতে ও নতুন প্রজন্মের কাছে বেতারকে নতুন রূপে পৌঁছে দিতে নানা উদ্যোগের কথা জানান। তিনি বলেন, পুরোনো সেই জনপ্রিয়তার স্মৃতি ফিরিয়ে আনতে নতুন গল্প, আর নতুন ভাবনায় আবারও নাটক তৈরির উদ্যোগ নিয়েছে বাংলাদেশ বেতার, গোপালগঞ্জ কেন্দ্র।মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে মীর নাসির আহমেদ নিউটনের প্রযোজনায় “লজ্জিত হোক তারা” স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে সোলাইমান খোকার “একটি বিশেষ ঘোষণা”; এবং ঈদুল ফিতর উপলক্ষে মীর নাসির আহমেদ নিউটনের প্রযোজনায় “এলো খুশির ঈদ” এই তিনটি নাটকের রেকর্ডিং চলছে। জাতীয় পর্যায়ের শিল্পীদের পাশাপাশি এসব নাটকে অংশ নিচ্ছেন স্থানীয় শিল্পীরাও।

প্রযুক্তির এই সময়ে মানুষের বিনোদনের মাধ্যম বদলেছে ঠিকই, কিন্তু গল্প শোনার আগ্রহ হারিয়ে যায়নি। তাই সঠিক পৃষ্ঠপোষকতা, আধুনিক নির্মাণ আর নতুন শিল্পীদের সুযোগ মিললে, শব্দের সেই জাদু আবারও ফিরে পাবে তার গৌরব এমনটাই মনে করেন সাংস্কৃতি প্রেমীরা।