গোপালগঞ্জে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি বাউল গানের আসর “শেকড়ের গান” অনুষ্ঠিত

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

গোপালগঞ্জে বাঙালির হাজার বছরের সংস্কৃতি বাউল গানের আসর “শেকড়ের গান” অনুষ্ঠিত হয়েছে।জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠনের বাউল শিল্পীরা গান পরিবেশন করেন।

সংস্কৃতিক বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের পৃষ্ঠপোষকতায় জেলা প্রসাশন এ গানের আয়োজন করে। আধুনিকতার ছোয়ায় হারিয়ে যাওয়া বাউল গান শুনতে পেরে খুশি সাংস্কৃতিক প্রেমিরা। এমন আয়োজনের মাধ্যমে সাম্প্রদায়িকতা বিনষ্ট হয়ে সকলের মাঝে সাম্য ফিরে আসবে এমনটি মনে করছেন তারা।

immage 1000 02

বাউল গান বাংলার ঐতিহ্যবাহী লোকায়ত সংগীতের একটি অনন্য ধারা। বাউল গান বাঙ্গালী ঐতিহ্যের ধারক ও বাহক। এদেশে য়ুগে যুগে জন্ম নিয়েছে অনেক নামকরা বাউল শিল্পী।এটি বাউল সম্প্রদায়ের নিজস্ব সাধনগীত যা বাংলার মানুষের আত্মার খোরাক। বাউল গানের আয়োজন হলে প্রাণের টানে ছুটে যেতেন ভক্তরা।

তবে প্রযুক্তি ও সময়ের পরিবর্তন আর আকাশ সংস্কৃতির দাপটে হারিয়ে যেতে বসেছে ঐতিহ্যবাহী বাউল গান। এ গানকে ধরে রাখতে গোপালগঞ্জে আয়োজন করা হয় বাউল গানের আসর “শিকড়ের গান”।

মঙ্গলবার(০১ অক্টোবর)রাতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হল রুমে এ আসরের উদ্বোধন করেন জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান।

জেলার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক সংগঠন ও বাউল শিল্পীরা এ আসরে গান পরিবেশন করেন। এ গানের মাধ্যমে আবহমান বাংলার প্রকৃতি, মাটি আর মানুষের জীবন জিজ্ঞাসা একাত্ম হয়ে ফুটে ওঠে। আর এমন আয়োজনে বাউল গান গাইতে পেরে খুশি শিল্পীরা।

এ বাউল গান শুনতে জেলা শিল্পকলা একাডেমির হল রুম হয়ে ওঠে পরিপূর্ণ।মন্ত্রমুগ্ধের মত বাউল গান শোনের দর্শনার্থীরা।ইট-পাথরের শহুরে জীবনে কিছুটা হলে জীবন দর্শন পান। সম্প্রদায়িকতাকে দূরে ঠেলে সকলের মাঝে সাম্যতা রাখতে বারবার এমন আয়োজনের দাবী সাংস্কৃতিক প্রেমীদের।

immage 1000 03

উদ্বোধনী বক্তব্যে প্রধান অতিথি জেলা প্রশাসক মুহম্মদ কামরুজ্জামান বলেন, বাউল ও লোক সংগীত বাংলাদেশের সংস্কৃতির সঙ্গে অকৃত্রিমভাবে জড়িয়ে আছে। এ দেশের কৃষ্টি কালচারের সাথে বাউল সংগীতের পদচারণা আমরা প্রতিটি এলাকায় দেখতে পাই । গোপালগঞ্জও তার ব্যতিক্রম নয়। তাই আমরা একটি সংস্কৃতিক সৌহার্দপূর্ন সম্প্রীতির গোপালগঞ্জ বিনির্মাণ করতে চাই। এটি করতে আমি সবার সহযোগিতা চাই।

কবি রবীন্দ্র নাথ অধিকারী বলেন, শুদ্ধ সংস্কৃতি চর্চার শক্তিশালী একটি মাধ্যম সংগীত। আর লোক সংগীত হল সংগীতের একটি স্বতন্ত্রধারা ।পল্লীর মানব হৃদয়ের দর্শন,চিন্তার বহিঃপ্রকাশ ঘটে সংগীতে। এ আসরে তেমনই অবতারণা হয়েছে।তাই আসরটি বেশ ভাল লেগেছে।

কবি মিন্টু হক বলেন, সংস্কৃতি একটি বহমান ধারা। এটি জীবন, প্রকৃতি, ধর্ম, কর্ম, আধ্যাত্মিকতা সহ বিভিন্ন বিষয়ের মধ্য দিয়ে প্রবাহিত হয়। এখানে আয়োজিত ‘শেকড়ের গান’ শীর্ষক লোকসংগীতের মধ্যে এমন সব বিষয় চলে এসেছে। তাই তন্ময় হয়ে এ আসর উপভোগ করেছি।

immage 1000 04

দর্শক পাভেল রহমান বলেন, ‘শেকড়ের গান’ শীর্ষক লোকসংগীতের অসরে বাউল ও লোক সংগীত পরিবেশ করা হয়। এখানে সুস্থ ধারার সংস্কৃতি উপস্থাপন করা হয়েছে। বাঙ্গালীর হাজার বছরের কৃষ্টি কালচার ফুঁটিয়ে তোলা হয়েছে। আমরা এখান থেকে আনন্দ উপভোগ করেছি। এ জাতীয় আয়োজন করা হলে আমাদের সংস্কৃতি বেঁচে থাকবে। তাই আমি বার বার এ জাতীয় অনুষ্ঠান আয়োজনের দাবি জানাই।

গ্রাম-বাংলার ঐতিহ্যবাহী বাউল গানের প্রসার ঘটাতে পারলে নতুন প্রজন্মকে জঙ্গি, সন্ত্রাস ও মাদকের মতো ভয়াবহতা থেকে দূরে রাখা সম্ভব বলে মনে করেন, জেলা কালচারাল কর্মকর্তা।

বাউল গানের সুদিন ফেরাতে ও প্রান্তিক পর্যায়ে এর চর্চা বাড়াতে আগামীতেও এমন আয়োজনের কথা জানান অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক(সার্বক) মোঃ গোলাম কবির।

হাজার বছরের বাউল গানের মূল সুর বাঁচিয়ে রাখতে ও নতুন প্রজন্মকে অসাম্প্রদায়িক চেতনায় উদ্বুদ্ধ করতে সকলকে এগিয়ে আসার আহ্বান শিল্পী ও আয়োজকদের।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর