খালের ৬ কিঃমিঃ জুড়ে কচুরির স্তুপ। পরিস্কারের উদ্যোগ জেলা প্রশাসনের

Gopalganj, 6 km of the canal is piled up with garbage

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

গোপালগঞ্জ সদর উজেলার বসারতের খালে ৬কিলোমিটার জুড়ে কচুরীপানার স্তুপ জমে ছিল। যে কারনে নৌচলাচল বন্ধ হয়ে গিয়েছিল। এই খালের পানি ব্যবহারকারী হাজার হাজার লোকজনকে অশেষ দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছিল।

মানুষের কষ্টের লাঘব করতে আজ সোমবার থেকে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে পানি উন্নয়ন বোর্ড কর্তৃপক্ষ কচুরীপানা পরিষ্কার করা শুরু করেছে।

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা সোমবার এই কর্মসূচীর উদ্বোধন করেন। খালটি পরিষ্কার করা হলে এলাকার হাজারো মানুষের নৌচলাচলে সুবিধাসহ এই খালের পানি ব্যবহার করতে পারবেন। জনগন জেলা প্রশাসনের এই উদ্যোগকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

immage 1000 02 3

এই অবস্থা নিরসনে গোপালগঞ্জের জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা, অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক একেএম হেদায়েতুল ইসলাম, সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মহসিন উদ্দীন, গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান সহ বিভিন্ন দপ্তরের পদস্থ কর্মকর্তা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন।

উলপুর ইউপি চেয়ারম্যান মোঃ কামরুল হাসান বাবুল বলেন, বসরত খাল দেশীয় প্রজাতির মৎস্য সম্পদে পরিপূর্ণ। এছাড়া এই খালের পানি সেচ দিয়ে গোপালগঞ্জ ও কাশিয়ানী উপজেলার বিশাল এলাকার চাষাবাদ করা হয়। প্রায় ৮৫ বছর আগে এই অঞ্চলে জলাবদ্ধতার কারণে চাষাবাদ ব্যাহত হত। এই অঞ্চলের ২৫ হাজার হেক্টর জমিতে ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষে সমাজ সেবক  চন্দ্রনাথ বসু  গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার তেতুলিয়া থেকে কাশিয়ানী উপজেলার বলুগা পর্যন্ত ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ বসরত খাল খনন করেন।

এই খালকে মধুমতি এমবিআর চ্যানেলের সাথে যুক্ত করা হয়। খননের পর এলাকার জলাবদ্ধতা দূর হয়। কৃষক এই খালের পানি ব্যবহার করে চাষাবাদ করে আসছে। এছাড়া তেতুলিয়া ও আড়পাড়া গ্রামের  মৎস্যজীবী এই খাল থেকে মাছ শিকার করে জীবিকা নির্বাহ করে আসছেন। ঘুর্ণিঝড় সিত্রাং এর প্রভাবে ওই খালের প্রায় ৬ কিলোমিটার জুড়ে কচুরিপানার স্তুপ জমেছে। এই কচুরিপানার স্তুপ প্রায় ৪ ফুট ঘন। এর ওপর দিয়ে গ্রামের মানুষ হাটাচলা করছে। কচুরি পানার স্তুপ নীচে পানি ঢাকা পড়েছে। তাই এলাকাবসী খালের পানি ব্যবহার করতে পারছেন না। এতে ৬ গ্রামের ২০ হাজার মানুষ বিপাকে পড়েছেন।

immage 1000 01 8

জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, আমরা সমন্বিতভাবে এই খালের কচুরিপানা পরিস্কারের উদ্যোগ নিয়েছে। খাল পরিস্কার করে আমরা এটিকে দ্রুত সচল করে দেব।

গোপালগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ফয়জুর রহমান বলেন, ২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ এই খালের প্রস্ত ৫শ’ ফুট ও গভীরতা প্রায় ৫০ ফুট। ঝড়ে খালের ৬ কিলোমিটার জুড়ে পানির ওপর কচুরিপানার ৪ থেকে ৫ ফুট  স্তুপ জমেছে । আমরা আজ সোমবার(৭ নভেম্বর) থেকে খালের কচুরিপানা অপসারণ শুরু করেছি। খালটিকে কচুরিপানা মুক্ত করে চলাচলের উপযোগি করে তুলব।

তেতুলিয়া গ্রামের  মৎস্যজীবী  পলাশ বিশ্বাস (৪৫) বলেন, বসরত খালে সারা বছর দেশীয় প্রজাতির মাছ পাওয়া যায়। এই মাছ শিকার করে আমরা জীবিকা নির্বাহ করি। খালে কচুরিপানা জমেছে। আমরা চেষ্টা করেছি কচুরিপানা অপসারণ করতে। কিন্তু কচুরিপানা স্তুপ খুব বেশি। তাই আমাদের পক্ষে পরিস্কার করা সম্ভব হয়নি।

কাশিয়ানী উপজেলার নিজামকান্দি গ্রামের মনির মোল্লা (৫০) বলেন, এই খালের পানি দিয়ে আমরা ফসল ফলাই। ওজু গোসল, রান্না বান্না, কাপড় ধোয়া সহ গৃহস্থালীর সব কাজ মহিলারা সম্পন্ন করি। কিন্তু খালে কচুরিপানা জমেছে। তাই  অমরা পানি ব্যবহার করতে পারছি না। এতে আমাদের দুর্ভোগ বেড়েছে। জেলা প্রশাসনের তত্তাবধানে পানি উন্নয়নবোর্ড কচুরিপানা অপসারণ শুরু করেছে।

কাশিয়ানী উপজেলার রামদিয়া বাজারের ব্যবসায়ী মোহাম্মদ আলী বলেন, এই খাল দিয়ে গোপালগঞ্জ ও রামদিয়া বাজারের বিভিন্ন পন্য পরিবহন করা হয় । খালে কচুরিপানার স্তুপ জমেছে। এই  খাল দিয়ে নৌযান চলাচল করতে পারছে না। এতে আমাদের ব্যবসা বানিজ্য ব্যাহত হচ্ছে। খালটি পরিস্কারের উদ্যোগ নেয়ায় জেলা প্রশাসনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর