বর্নি বাওড়ে ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ

Traditional boat ride on Barni Bawde

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -

সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি অটুট রাখতে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় ঐতিহ্যবাহী বর্ণির বাওড়ে অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্যবাহী নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতা। টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের আয়োজনে এ বাইচের আয়োজন করা হয়।দীর্ঘ বছর ধরে এখানে বিজয়া দশমীর পরের দিন এ নৌকা বাইচের আয়োজন করা হয়। জেলার বিভিন্ন এলাকা থেকে আসা বিভিন্ন বয়সের হাজার হাজার নারী-পরুষ, শিশু-কিশোর এ নৌকা বাইচ উপভোগ করে| বাইচ উপলক্ষে বাওড়ের দু’পাড়ে গ্রামীণ মেলা বসে।

গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়নবাসী প্রতি বছর ঐতিহ্যবাহী বর্ণি বাওড়ে সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি অটুট রাখতে বিজয়া দশমীর পরের দিন বহু বছর ধরে এ নৌকা বাইচ প্রতিযোগিতার আয়োজন হয়ে আসছে।আর চিত্ত বিনোদনের জন্য এ দিনটির অপেক্ষা করে থাকেন এ এলাকার মানুষসহ আশপাশের বহু গ্রামের মানুষ।উপভোগ করেন কাসির তালে তালে মাল্লাদের গাওয়া জারি সারি আর বৈঠার সলাৎ সলাৎ শব্দ।

এ নৌকা বাইচে গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলার প্রত্যন্ত গ্রামের ১২টি বাছারী নৌকা অংশ নেয়।বিকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত চলে এ নৌকা বাইচ। বাওড়ের মধ্যে ছোট ছোট অসংখ্য নৌকায় বসে নানান বয়সী নারী পুরুষ উপভোগ করেন বাইচ।

এছাড়া বাওড়ের দুই পাড়ে দাঁড়িয়ে হাজার হাজার মানুষও উপভোগ করেন এ দৃষ্টিনন্দন বাইচ। মেলা উপলক্ষে বাওড়ের দু’পাড়ে গ্রামীণ মেলা বসে। এ মেলায় মিষ্টি, চানাচুর, চটপটি. ফুসকাসহ বিভিন্ন ধরণের খাবার ও শিশুদের খেলনাসহ বিভিন্ন নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের পসরা নিয়ে বসেন ব্যবসায়ীরা।

গোপালগঞ্জ জেলা শহরের নবীনবাগ এলাকার মো. সাজিদুল ইসলাম বলেন, আমি আগে কখনো বাইচ দেখিনি। বাবার কাছে বাইচের গল্প শুনেছি। কিন্তু কখনো দেখা হয়নি। আজ দেখলাম। খুব ভাল লাগলো। আগামীতে সময় পেলে দেখবো।

টুঙ্গিপাড়ার পাটগাতী গ্রামের গাজী মাসুদুর রহমান বলেছেন, বাইচ আমাদের একটি প্রাচীন ঐতিহ্যের অংশ। প্রাচীনকাল থেকে চিত্তবিনোদনের জন্য বাইচের আয়োজন হয়ে আসছে।

গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার ভাটিয়াপাড়া গ্রামের মারিদুল ইসলাম বলেন, নতুন প্রজন্মকে প্রাচীন ঐতিহ্য সংস্কৃতি জানাতে এই বাইচের আয়োজন করা উচিত।

আয়োজক কমিটির প্রধান ও গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়া উপজেলার কুশলী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. বেলায়েত হোসেন সরদার বলেন, দীর্ঘ বছর ধরে কুশলী ইউনিয়নবাসী বর্ণির বাওড়ে নৌকা বাইচের আয়োজন করে আসছে। নতুন প্রজন্ম যাতে নৌকা বাইচ উপভোগ করতে পারে ও সাম্প্রদায়িক সম্প্রতি রক্ষা করতে এই বাইচের আয়োজন। আবহমান গ্রাম বাংলার ঐতিহ্য ধরে রাথতে আগামীতেও এ আয়োজন করা হবে।

টুঙ্গিপাড়া উপজেলার জোয়ারিয়া গ্রামের শিশির ঢালীর নৌকা প্রথম, একই গ্রামের অরুন বিশ্বাসের নৌকা দ্বিতীয় ও কোটালীপাড়ার অপূর্ব বিশ্বাসের নৌকা তৃতীয় হয়।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর