গোপালগঞ্জ পাক হানাদার মুক্ত হয় ৭ ডিসেম্বর

নির্বাচিত সংবাদ

দৈনিক মোহনা অনলাইন :
দৈনিক মোহনা অনলাইন :https://www.dainikmohona.com/
গোপালগঞ্জের সর্বশেষ খবর, স্থানীয় সংবাদ, গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা এবং জনজীবনের নানা আপডেট জানতে দৈনিক মোহনা-র সঙ্গে থাকুন।এ’ছাড়াও গোপালগঞ্জ জেলার বিভিন্ন উপজেলা, গ্রাম ও শহরের সংবাদ, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, কৃষি, ব্যবসা-বাণিজ্য, উন্নয়ন, অপরাধ, রাজনীতি, জনদুর্ভোগ এবং সাধারণ মানুষের সুখ-দুঃখের খবর জানতে আমাদের ভিডিও চ্যানেল সাবস্ক্রাইব করুন।
- Advertisement -
৭ই ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবস। ১৯৭১ সালের এই দিনে গোপালগঞ্জ শহর পাক হানাদার মুক্ত হয়। গোপালগঞ্জ মুক্ত হওয়ার আগে এই অঞ্চলে পাক হানাদারদের সাথে মুক্তিযোদ্ধাদের বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ সম্মুখ যুদ্ধ হয়। প্রতিবছর দিনটি যথাযোগ্য মর্যাদায় পালন করা হলেও এবছর করোনার কারনে জেলা প্রশাসন ও মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে সীমিত আকারে কর্মসূচী হাতে নেয়া হয়েছে। এদিন ভোর ৭টায় জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে গোপালগঞ্জ সদর উপজেলা পরিষদ সংলগ্ন বদ্ধভূমিতে শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পন ও বেলা ১১টায় শহরের বঙ্গবন্ধু সড়কের মুক্তিযোদ্ধা কমপ্লেক্সের মূল ফটকের সামনে মুক্তিযোদ্ধাদের পক্ষ থেকে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ম্যুরালে পুষ্পমাল্য অর্পন ও সভাকক্ষে আলোচনা সভা ও গেঞ্জি বিতরনের আয়োজন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন সাবেক জেলা মুক্তিযোদ্ধা কমান্ডার  মোঃ বদরুদ্দোজা বদর।
গোপালগঞ্জে মূলতঃ মুক্তিযুদ্ধ শুরু হয় ২৭ মার্চ থেকেই। মুসলিম লীগ নেতাদের সহযোগিতায় পাকিস্তানী হানাদার বাহিনী ৩০ এপ্রিল প্রথমে শহরে প্রবেশ করে। পাকিস্তানী বাহিনী প্রথমেই শহরের ব্যাংক পাড়ায় বঙ্গবন্ধুর বাড়ি (বর্তমানে জেলা আওয়ামী লীগ কার্যালয়) পুড়িয়ে দেয়। এরপর পাকিস্তানী সৈন্যরা ১০/১২টি দলে বিভক্ত হয়ে শহরের হিন্দু সম্প্রদায়ের ঘরবাড়ির অবস্থান জেনে স্বর্ণপট্রি, সাহাপাড়া, সিকদারপাড়া, চৌরঙ্গী এবং বাজার রোডে ব্যাপক ধ্বংসযোগ্য চালায় ও আগুন দিয়ে প্রায় এক হাজার ঘরবাড়ি জ্বালিয়ে দেয়। শুরু করে হত্যা আর নারী ধর্ষন।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে পাক হানাদাররা গোপালগঞ্জ উপজেলা পরিষদের মিনি ক্যান্টনমেন্টে সাধারণ মানুষকে ধরে নিয়ে হত্যা করে গণ-কবর দেয়। ৬ ডিসেম্বর সূর্য উঠার সাথে সাথে বিভিন্ন এলাকা থেকে দলে দলে বিভক্ত হয়ে মুক্তিযোদ্ধারা শহরের দিকে আসে। পাকসেনাদের আস্তানায় চারিদিক থেকে মুক্তিযোদ্ধাদের আক্রমন বলয় রচিত হয়।
পাক সেনারা এদিন (৬ ডিসেম্বর ) গভীর রাতে গোপালগঞ্জ সদর থানা, উপজেলা পরিষদ (বর্তমানে) সংলগ্ন জয় বাংলা পুকুর পাড়ের মিনি ক্যান্টমেন্ট ছেড়ে পালিয়ে যায়। ৭ ডিসেম্বর ভোরে স্বাধীন বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা উত্তোলন করে মুক্তিযোদ্ধারা, আর সেই সাথে মুক্ত হয় গোপালগঞ্জ শহর ও এর আশপাশ এলাকা।
এ ব্যাপারে জেলা প্রশাসক শাহিদা সুলতানা বলেন, করোনার কারনে সকল সরকারি-বেসরকারি কর্মসূচী সীমিত করা হয়েছে। তাই ৭ডিসেম্বর গোপালগঞ্জ মুক্ত দিবসের কর্মসূচীও সীমিত করে শুধু শহীদদের স্মরণে পুষ্পমাল্য অর্পণের প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

- Advertisement -

আরও খবর plus!

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

- Advertisement -

সর্বশেষ খবর